রাজবাড়ীতে ঔষধি গাছের বাগান করে জনপ্রিয় আব্দুল জলিল

আবুল কালাম আজাদ, রাজবাড়ী থেকে:
যুগ যুগ পূর্ব থেকেই নানাবিধ অসুখ- বিসুখে ঔষধি গাছের ব্যবহার হয়ে আসছে। ডিজিটাল যুগে চিকিৎসা বিজ্ঞান যখন মানুষের হাতের দ্বারপ্রান্তে ঠিক তখনই ঔষধি গাছের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এরপরও মানুষের শারীরিক কিংবা মানষিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে ঔষধি গাছের কোন বিকল্প নেই। অসুখে-বিসুখে ঔষধি গাছের পাতা, বাকল, শেকড় ও রস ব্যবহার করে আসছে সেই প্রাচীনকাল থেকে। ঔষধি গাচের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের মোঃ আব্দুল জলিল সেখ ইচ্ছা ও মানুষের উপকারের কথা চিন্তা করে বাড়ীর পাশে ঔষধী গাছ লাগানো শুরু করেন। ২০০৭ সাল থেকে একটি একটি করে গাছ লাগানো শুরু করেছেন। বর্তমানে তার ৩টি বাগানে প্রায় শতাধিক প্রজাতির ভেষজ গাছ রয়েছে।কালমেঘ, অর্জুন, আশশেওড়া, নিম, তেলাকুচা, পাথর কুচি, নিশিন্দা, কৃঞ্চতুলসী, রামতুলসী, পুদিনা, শিউলি, হরিতকী, বাসক, আমলকী, দুধলতা, অশ্বগন্ধা, অনন্তমুল, শতমূলী, অপরাজিতা, টগর, বকফুল, ওলটকম্বল, নয়নতারা, আকন্দসহ প্রায় ১০০ প্রজাতির গাছ রয়েছেন তার বাগানে। তিনি এই গাছের চারা বিক্রি করেন প্রতিটি চারা ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। বাগানের ঔষধী গাছ বিক্রি করেই চলে তার সংসার।
মো: আব্দুল জলিল সেখের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধী গাছের বাকল, শিকড় ও গাছের চারা নেওয়ার জন্য জেলার বাইরে থেকেই বিভিন্ন কবিরাজ ভির জমায়। তিনি অবশ্য নিজেই ঔষধী গাছের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তাছাড়া তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাফল্যের সাথে বৃক্ষরোপন মেলায় অংশগ্রহণ করে থাকেন।
এ বিষয়ে এ্যাসেড সংস্থার পরিচালক মুহা: শাহ্জাহান সিদ্দিকী জানান, মো: আব্দুল জলিল একজন ভাল মানুষ। তিনি এই এলাকার গরীব ও সাধারণ মানুষের খুবই প্রিয় একজন মানুষ। ভেষজ চিকিৎসক নামে তার বড়ই পরিচিতি এই এলাকায়। ছোট-বড় বিভিন্ন সমস্যায় তার কাছে গেলে ঔষধী গাছের মাধ্যমে তিনি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। তাতে করে অনেকেই রোগ থেকে মুক্তি পায়।
বালিয়াকান্দি সামাজিক আন্দোলনের সংগঠন তরুণ সংগঠনের পরিচালক জানান, বিশ্ব যত আধুনিকই হোকনা কেন, যত চিকিৎসা পদ্ধতিরই পরিবর্তন হোকনা কেন ভেষক গাছের কোন বিকল্প নেই। অথচ ভেষজ আমাদের দেশ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে প্রায়। তাছাড়া সারা বিশ্বে আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিচর্যায় যত চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবিত ও প্রচলিত হয়েছে তার প্রতিটিরই বিরাট অংশ জুড়ে আছে এই ভেষজ গাছ। তাই আমি মনে করি এই ঔষধি গাছের বাগান থেকে এক দিকে যেমন তার অর্থনৈতিক মুক্তিলাভ হবে অন্যদিকে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারছে। তিনি আরও জানান, আমাদের সমাজের প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যবৃন্দ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তাদের এই রোগ মুক্তিতে কিছুটা হলেও সহযোগীতা করবে এই ঔষধী গাছ। তাই আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি বাড়িতে গাছ লাগিয়ে দেওয়ার জন্য মোঃ আব্দুল জলিল সাহেব স্বল্প মূল্যে আমাকে ঔষধী গাছের চারা দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করেছেন।

No comments: