যতো দিন যার পানি বাড়ের; কমার কোন লক্ষণ দেখিয়ার না

আশরাফ আলী: বন্যাদূর্গত এলাকায় বেড়েই চলেছে হাহাকার। বন্যার পানি যে কমতেই চাচ্ছে না। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর সবকিছুই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যাদূর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। মানুষের মধ্যে বেড়েই চলেছে হাহাকার। স্কুল-কলেজ, মাদরাসা সহ সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বন্যা এ এলাকার মানুষের সব কিছুই কেড়ে নিয়েছে। ঈদের আমেজও কিছুই ছিল না বন্যাদূর্গত এলাকায়।

স্কুল-কলেজ, মাদরাসা বন্ধ থাকার ফলে ব্যহৃত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখা। বন্যার কারণে স্কুল বন্ধ থাকার ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের পড়ালেখা নিয়ে চিন্তিত। অভিবাবকরা রয়েছেন চিন্তায় তাদের সন্তানদের পড়ালেখার ব্যাঘাতে।
বন্যাদূর্গত এলাকার মানুষের চিন্তার কোন অন্ত নেই। কিভাবে চলবে সংসার। বাড়িঘর তো অনেক আগেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। না বাড়িতে থাকতে পারছেন। দিনদিন পানি বেড়েই চলেছে।

পানি বাড়ার সাথে মানুষের চিন্তা আরো বেড়েই চলছে। কিভাবে বেঁচে থাকবেন। প্রথমবার বন্যায় তলিয়ে গেছে ধান। আর এবার বন্যায় তলিয়ে গেছে বাড়ি। কোথায় থাকবেন পরিবার পরিজন নিয়ে। কিভাবে খেয়ে বেঁচে থাকবেন।

বন্যাদূর্গত মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় সরেজমিনে গেলে দেখা যায় সে এলাকার চিত্র। এমনকি উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় পানি রয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদেরকে নৌকা নিয়ে অফিসে যেতে দেখা যায়। উপজেলার শাহপুর, বেলাগাঁও, সাকিবনগর, জাঙ্গিরাই, নয়াগ্রাম, খালেরমুখ, বাছিরপুর সহ অনেক এলাকায় মানুষের বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ এলাকার মানুষেরা অনেক দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

বন্যাদূর্গত বাছিরপুর এলাকায় গেলে কথা হয় এনামুল হক নামের একজনের সাথে তিনি বলেন, পানি যতো দিন যার শুধু বাড়ের। কমার তো কোন লক্ষণ দেখিয়ার না। এভাবে যদি পানি বাড়তে থাকে, তাহলে আমাদেরকে না খেয়ে থাকতে হবে।
বেলাগাঁও এলাকায় গেলে কথা হয় ফারুক আহমদ নামের একজনের সাথে তিনি বলেন, আমার বাড়ি অনেক আগেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাড়ি পানির নিচে তলিয়ে যাবার কারণে এক আতœীয়ের বাড়িতে এসে পাড়ি জমিয়েছি। রমজান মাস অনেক কষ্টে গেছে আমাদের। তবুও মনে আশা নিয়ে ছিলাম যাতে ঈদ বাড়ি ফিরে করতে পারি। না তাও হলো না। ঈদের সময় পানি আরো বেড়ে গেলো। কিভাবে করব বাড়িতে গিয়ে ঈদ।

মুরাদ নামের একজনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কিসের ঈদ আমাদের। বাড়ি নেই ঘর নেই সব কিছুই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দিন দিন পানি আরো বেড়েই চলেছে। একই কথা বলেন বন্যাদূর্গত এলাকার শাহিদুল ইসলাম, ইমরান কবির, আছাব উদ্দিন, জোবায়ের আহমদ, আকলিমা বেগম, ছালমা বেগম সহ আরো অনেকে।

এব্যাপারে কথা হয়েছিল জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু চৌধুরীর সাথে তিনি বলেন, বন্যাদূর্গতদের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত  জিআর ৫০ মেট্টিক টন চাল ও ১ লক্ষ বিশ হাজার টাকা বন্যাদূর্গত এলাকায় বিতরণ করা হয়েছে।

No comments: