খাবার না পেয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন বন্যার্তরা; পয়সা বাঁচাতে কচুশাক

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য ও সাইফুল ইসলাম সুমন, জুড়ী থেকে : বন্যাকবলিত সিলেটের হাকালুকি, বড়লেখা, কুলাউড়া ও জুড়ীতে নতুন আতঙ্কের নাম ‘আফাল’। বন্যায় রাস্তা-ঘাট, ফসল বিনষ্টের পর আফালের কারণে এখন বসতভিটাও ভেঙ্গে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে শেষ আশ্রয়। অন্যদিকে খাবারের না পেয়ে আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে দিচ্ছেন বন্যার্তরা। এর মধ্যে বাড়তি চাপ হিসেবে এনজিওগুলোর কিস্তির টাকা পরিশোধে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বন্যা দুর্গত এলাকার নি¤œবিত্তের মানুষ। সব মিলিয়ে সিলেটের বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

বড়লেখা, কুলাউড়া এবং জুড়ীর বন্যাকবলিত বেশ কিছু গ্রাম পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ঘরের ভেতর পানি। পানির ওপর মাচা বেঁধে বন্যার্ত লোকজন বসবাস করছেন। আর ঘরের বাইরে হাওরের বিশাল ঢেউ বেড়া আর ভিটার মাটি ছাড়িয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া এ ঢেউয়ের কারণে জেলে সম্প্রদায়ের মানুষ জাল দিয়ে মাছ ধরতে পারছেন না। স্থানীয় মানুষ এই ঢেউয়ের নাম বলেন ‘আফাল’। এই আফালের কারণে মন ভালো নেই হাকালুকি হাওর তীরের মানুষের। কুলাউড়ার ভুকশিমইল ইউনিয়নের দক্ষিণ সাদীপুর গ্রামের রুবেল মিয়া বলেন, এতদিন বন্যায়তো ক্ষতি করছেই, এখন আফালের কারণে ভিটার মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে ঘর ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই উত্তাল আফাল মানুষের বাড়িঘর তছনছ করে দিচ্ছে।

একই ইউনিয়নের বড়দল গ্রামের সাইফুর রহমান জানান, বন্যায় ফসল গেল। রাস্তাঘাট গেল। এবার আফালের কবল থেকে বাড়িঘর মনে হয় আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ঢেউয়ের কবল থেকে রক্ষার জন্য মানুষ কচুরিপানা দিয়ে বাড়িঘর রক্ষার জন্য চেষ্টা করছেন। জুড়ীর বেলাগাঁও গ্রামের মহিউদ্দিন ও নাসির মিয়া জানান, বন্যায় যতটা না দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাকালুকি হাওরের এই উত্তাল ঢেউয়ে। একটা আতঙ্ক হলো এই ঢেউ। ঢেউয়ের কবল থেকে বাড়িঘর রক্ষায় এখন তাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ভুকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, হাকালুকি হাওরের ঢেউ এই ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ভেঙে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করলে রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এখন মানুষের বাড়িঘর ভাঙছে। প্রকৃতির দয়া ছাড়া রক্ষার কোনো উপায় নেই।

আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়ছেন বন্যার্তরা : বন্যায় বসতঘর তলিয়ে যাওয়ায় কুলাউড়া-জুড়ী সীমান্তের শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যাশ্রম কেন্দ্রে উঠেছিলেন বশির মিয়া ও তার পরিবার। কিন্তু খাবার না পেয়ে তিনি গত মঙ্গলবার আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মেম্বার মতছিন আলি। শুধু বশির মিয়াই নয়, গত কয়েকদিনে অন্তত ৫টি পরিবার শাহাপুর আশ্রয়কেন্দ্র থেকে চলে গেছে। শুধু শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রই নয়, পাশের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র থেকেও অন্তত ৭টি পরিবার চলে গেছে। মেম্বার মতছিন আলির কথা মতো হাকালুকি হাওরের ওপর ওপর দিয়ে দু’ঘণ্টা নৌকা চড়ে শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নাজমা বেগমসহ ৫টি পরিবার সেখানে আছেন। হাকালুকি হাওরের অনেকটা ভেতরে এই আশ্রয়কেন্দ্র হওয়ায় এখানে পর্যাপ্ত ত্রাণ তৎপরতা নেই। আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান পাওয়া মনিরুন নেছা জানান, গত ১৮ দিন ধরে তিনি এখানে আছেন। এই ১৮ দিনের মধ্যে কয়েক কেজি চাল আর আটা ছাড়া কিছুই পাননি। পাশের আরেকজন বলেন, ‘সকালে রুটি খাইছি, দুপুরে স্কুলর ম্যাডামে কইছইন খানি লইয়া আইবা। কিন্তু তাইন ওখনো (বৃহস্পতিবার দেড়টা) আইছইন না।’ আটা এবং চালতো ত্রাণ হিসেবে পেয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমা বেগম বলেন, ‘স্যারেরা খালি চাউল আর আটা দিয়া গেছইন। চাউল দিয়া ভাত রানলাম, আর তরকারি রানতে তেল, নুন, মরিচ লাগে। ইতাতো কেউ দিছইন না।

গতকাল বৃহস্পতিবার হাকালুকি হাওরের ওপর দিয়ে নৌকায় করে ঘুরে দেখা গেছে, জুড়ী উপজেলার শাহাপুর, ভাটি শাহাপুর, বেলাগাঁও, ইউছুফনগর, নয়াগ্রাম, খাটটেকাসহ ভেতরের বিভিন্ন গ্রামে পানিবন্দি হাজারো মানুষ। ঘরের ভেতরে বুক সমান পানি থাকলেও তারা বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাননি। পানির মধ্যেই তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এদের জন্য এখনো ত্রাণ জোটেনি। জুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, উপজেলাজুড়ে হাঁটলে দেখা যায়, পাঞ্জাবি গায়ে দেয়া নেতার অভাব নাই। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলে যে বানভাসিরা ত্রাণ পাচ্ছে না সে বিষয়ে ওই নেতারা কোনো খোঁজ রাখছেন না।

বন্যায় জুড়ী উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জায়ফরনগর ইউনিয়ন, কুলাউড়ায় ভুকশিমইল ইউনিয়ন এবং বড়লেখায় বর্ণি এবং তালিমপুর ইউনিয়ন। এসব ইউনিয়নে সরকারের কর্মকর্তা কিংবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ত্রাণ দিচ্ছেন একদম সামনে থাকা কিছু পরিবারকে। ভেতরের দিকে আক্রান্ত বানভাসিদের খবর কেউ রাখছেন না। ফলে সরকার থেকে ত্রাণ দিলেও তা অধিকাংশ প্রকৃত বানভাসিরা পাচ্ছে না। এ বিষয়ে জায়ফরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা ভোরের কাগজকে বলেন, ত্রাণ দিচ্ছি। কেউ যদি ত্রাণ পেয়েও না পাওয়ার কথা বললে আমাদের কিছু করার নেই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু এটি সবার কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এতে বানভাসিদের কষ্ট হচ্ছে। জুড়ী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি জানান, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব আমতইল গ্রামে মোঃ সামি নামে ৬ বছরের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন, সরকার পর্যাপ্ত ত্রাণ দিচ্ছে। কিন্তু ত্রাণের নামে যে এতসব ঘটনা ঘটছে তা তো জানি না। তিনি ফের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ত্রাণ নিয়ে যারা নয়-ছয় করবে তাদের রেহাই দেয়া হবে না।

কচুশাকই নিয়মিত খাবার : কুলাউড়া-জুড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা হলো ভাটি শাহাপুর। হাকালুকির তীর ঘেঁষে গ্রামটি দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে হিজল-করচের আবাসভূমি। এর মাঝখানে গ্রামের অবস্থান। অধিকাংশই জেলে সম্প্রদায়ের বাস। এই বন্যায় প্রত্যেকটি বাড়িতে কোমরসমান পানি। গতকাল বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে মনে হয়েছে, ‘ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে, এখানে তাহাকে খুঁজিয়া পাওয়া যাইবে না’।

চারিদিকে ঘুরে দেখা গেল, শুধু নাই আর নাই। গ্রামের ষাটোর্ধ্ব মহিলা আঙ্গুরনেছা নাতনি তামান্নাকে কাছে নিয়ে চৌকির ওপর টিনের চুলা বসিয়ে ভাত রান্না করছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা উজানের (উঁচু জায়গা) আশ্রয়কেন্দ্রে গেছি না। পানির মাঝেও বাড়িত রই গেছি। ওত পানি আইছে, তারপরও মেম্বার-চেয়ারম্যান কেউ আইছইন না।’ একই গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব হিরা মিয়া জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে গেলে বাড়ি দেখব কে? একই বয়সের পাখি মিয়া বলেন, পানির মাঝে বাড়িত রইছি। টেকা-পইসা শেষ অই যার। এর লাগি ভাত’র সাথে কয়দিন ধরি কচুশাক খাইরাম।’ কেন কচুশাক খান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কচুগাছ কাটিয়া খাইলে পইসা লাগে না। পকেটঅর টেকা দিয়া কম করি চাউল কিনি।’

ভাটি শাহাপুর গ্রামে এমন চিত্র প্রত্যেক ঘরে। গ্রামটি ভাটির দিকে হওয়ায় হাকালুকি হাওরের ওপর দিয়ে নৌকা করে যেতে হয়। এজন্য কেউ ত্রাণ নিয়ে ওখানে যান না। গ্রামটি ঘুরে দেখা গেছে, সব মানুষের বসতঘরে পানি, অনেকের টিউবওয়েল তলিয়ে গেছে। গ্রামে বিশুদ্ধ পানির মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার নৌকা দিয়ে অন্য জায়গা থেকে কলসি দিয়ে পানি আনছেন। বন্যায় অধিকাংশ পরিবারের টয়লেট তলিয়ে যাওয়ায় এক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা জায়গায় পায়খানা করছেন। এতে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকার গর্ভবতী নারীরাও পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা পাচ্ছেন না। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ওই এলাকার সচ্ছল কোনো মানুষই শহর বা বাজারে যাতায়াত করতে পারছেন না। ফলে তাদের মধ্যে দৈনন্দিন খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

হাকালুকির ভাটির গ্রামগুলোতে এখন এমনই চিত্র। খাবার নেই, ঘরে কোমরসমান পানি। বিষয়টি সম্পর্কে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন, তিনদিন আগে নৌকা করে আমি বেশ কিছু এলাকায় ত্রাণ দিয়ে এসেছি। এ গ্রামের খবরতো জানি না।

তবু ঋণের কিস্তি : বন্যায় লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত। খেতে পারছেন না। ত্রাণের অভাব। তবু বিভিন্ন ঋণদাতা সমিতি তাদের ছাড়ছে না। এই মানবেতর জীবন-যাপনের মধ্যেই মানুষকে তাদের ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য করছে। জুড়ীর পূর্ব বেলাগাঁও গ্রামের জামাল হোসেন বলেন, আশা সমিতি থেকে প্রথম দফায় তিনি ২০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৩০ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ৫০ হাজার ঋণ নিয়েছিলেন। এই টাকা দিয়ে তিনি নৌকা বানিয়ে হাকালুকিতে মানুষ পারাপারে ব্যবহার করছেন। বন্যায় তার ঘর তলিয়ে গেছে। চৌকির ওপর মাচা বেঁধে কোনোরকমে বাস করছেন। এ অবস্থায় সেই ৫০ টাকা ঋণের কিস্তি দিতে হচ্ছে। প্রতি সোমবার এজন্য ১৫শ টাকা কিস্তি এবং ১শ টাকা সঞ্চয় মিলিয়ে মোট ১৬শ টাকা আশা সমিতিকে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমি খাই কিংবা না খাই তাতে কিছু যায়-আসে না। সোমবার হলেই সমিতি থেকে নেয়া ঋণের কিস্তি দিতে হবে। একইকথা বললেন মালেক এবং নাসির। তারা বলেন, ঋণ নিয়ে নৌকা বানিয়েছি। এই নৌকা এখন চলার পথের হাতিয়ার। কিন্তু বন্যায় এই হাতিয়ারকে নষ্ট করে ফেলছে। বন্যায় এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত, এ অবস্থায় ঋণের কিস্তি পথে বসিয়ে দিচ্ছে। যদি ঋণটি কিছুদিনের জন্য মাফ করতো তাহলে আমাদের চলতে-ফিরতে সমস্যা হতো না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু আশা নয়, আরো কয়েকটি দেশবিখ্যাত সমিতি এভাবে ঋণের কিস্তি আদায় করছে। জানতে চাইলে জুড়ী আশা সমিতি-২ অফিসের ব্যবস্থাপক শ্যাম নারায়ণ সিংহ ভোরের কাগজকে বলেছেন, বন্যার জন্য কিস্তি এখন নেয়া হবে না সংক্রান্ত ঘোষণাটি ঢাকা অফিস থেকে এখনো আসেনি। তবে কিস্তি নিয়ে আমরা মানুষকে চাপ দিচ্ছি না। স্বপ্রণোদিত হয়ে যারা কিস্তি দিচ্ছে শুধু তাদের কিস্তিই নেয়া হচ্ছে।

৬ হাজার ঘরবাড়ির জন্য সাহায্য ঘোষণা : বন্যায় কয়েক হাজার বাড়িঘর নষ্ট হয়েছে। কোথাও পানি উঠেছে। কোথাও পানিতে বাড়ি ধসে গেছে। এসব বাড়ির কোনোটিতে মানুষ বসবাস করছে। আবার কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে ওঠেছে। এ অবস্থায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। তারা কী করবে- ভেবে কোনো ক‚ল-কিনারা পাচ্ছে না। এরকম পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন তাদের জন্য ‘মুশকিলে আসান’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেছেন, বন্যায় অনেকের ক্ষতি হয়েছে। তবে পানিতে যাদের বাড়িঘর একেবারে ভেঙে গেছে তাদের বাড়িঘর মেরামতের জন্য সাহায্য করা হবে। কীরকম সাহায্য- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কুলাউড়া, জুড়ী এবং বড়লেখা উপজেলার বানভাসিদের মধ্যে প্রায় ৬ হাজার বাড়িঘর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ৬ হাজার বাড়িকে মেরামতের জন্য টিন এবং টাকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা আরো বেশি হলে সেখানেও সাহায্য দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা : বন্যার পর থেকে বানভাসি মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। তারা বন্যার ময়লা পানি দিয়ে থালা বাসন ও পোশাক পরিষ্কার করছে। অসচেতনভাবে ময়লা পানির ব্যবহারে ব্যাপকহারে চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে। বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ডায়রিয়া ও আমাশয় রোগের প্রভাব বিস্তার হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গত বুধবার স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতসহ উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের নির্দেশায় বলা হয়েছে- দুর্গত এলাকার জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব জেলা, উপজেলা ও অন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্যাকালীন এবং বন্যাপরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় এলাকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন, ওষুধ, চিকিৎসা সামগ্রী ও সাপের কামড় প্রতিষেধক মজুদ রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকায় কর্মরত ডাক্তার ও নার্সসহ সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত সব তথ্য-উপাত্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অবহিত করারও নির্দেশ দিয়েছে।

No comments: