বড়লেখায় ৪০ বন্যার্ত পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র হারিয়ে বিপাকে

জুড়ী টাইমস সংবাদ: হাওরে বন্যায় নিজের ঘরে টিকতে না পেরে পরিবারগুলো থাকার জন্য ছুটে গিয়েছিলো আশ্রয়কেন্দ্রে। কিন্তু আশ্রয় কেন্দ্রেও ঠাঁই হয়নি তাদের। পরীক্ষার কথা বলে অসহায় দুর্গত ৪০টি পরিবারকে জোর করে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে তালিমপুর ইউনিয়নের হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে। পানি না কমা সত্ত্বেও পরিবারগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এখলাছুর রহমানের বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বাসিন্দার এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে। স্কুল থেকে সরিয়ে দেয়া পরিবারগুলোর মধ্যে পাঁচটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে হাকালুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, পাঁচটি পরিবার নিয়েছে স্থানীয় কানুনগো বাজারের একটি নির্মাণাধীন ভবনে। এছাড়া অন্য পরিবারগুলোর কেউবা গেছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, কেউ বাড়িতে গিয়ে ঘরের মধ্যে মাচা বেঁধে বসবাস করছেন। 

গত ৬ জুুলাই থেকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র ও বন্যার পানি ওঠা স্কুলগুলোর পরীক্ষার তারিখ পেছানো হয়েছিল।  গত সোমবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কথা হয় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দেওয়া মুর্শিবাদকুরা গ্রামের আছারউদ্দিনের সাথে। তিনি এখন পরিবার নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন কানুনগো বাজার এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে। তিনি বলেন, ‘বিপদে পড়িয়া আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিছলাম। স্কুলের সভাপতি এখলাছউদ্দিন আমরারে পরীক্ষার কথা কইয়া বার করি দিছইন।’ আছারউদ্দিনের মত এখানে আরো পাঁচটি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। মুর্শিবাদকুরা গ্রামের আপ্তাবউদ্দিনও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, ‘আফালে (ঢেউয়ে) মারিয়া আমার ঘর ভাঙিলাইছে। ঘররের অস্তিত্ব রইছে না।’

বড়ময়দান গ্রামের মস্তই মিয়া বলেন, ‘ঘর এখনো ভাঙা। এর লাগি আশ্রয়কেন্দ্রে গেছলাম। স্কুলের সভাপতি গালাগালি করছইন। পরে মান-সম্মান লইয়া বারই গেছি।’ হাকালুকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়া সুফিয়া বেগম বলেন, ‘হাইস্কুল থাকিয়া সভাপতি বার করি দিলাইছন। আমরা ত অসহায়, তার লাগি আইছি স্কুলে।’ এ ব্যাপারে হাকালুকি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এখলাছুর রহমান বলেন, ‘আমি তাড়িয়ে দেইনি। এরারে আমি বউত সাহায্য করছি। তারার পাশে দাঁড়িয়েছি। উপর থাকিয়া নির্দেশ আইছে। এর লাগি পরীক্ষার কথা কইয়া তারারে অনুরোধ করিছি বারনির লাগি (বের হওয়ার জন্য)। ইখানো পরিবার আছিল মাত্র ২১টি। সরকারিভাবে দেখানো হয়েছে ৫০টি।’

মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সমীর কান্তি দেব বলেন, ‘স্বাভাবিক আশ্রয়ে না ফেরা পর্যন্ত তাদের আশ্রয় দেয়া দরকার ছিল। প্রয়োজনে পরীক্ষা কিছুদিন পরে নেয়া যেত।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘জোর করে কাউকে বের করে দেয়া হয়নি। অনেকের বাড়ি-ঘর থেকে পানি নেমেছে। তারপরও তারা ত্রাণ পাবার আশায় আশ্রয় কেন্দ্র ছাড়তে নারাজ। বন্যার কারণে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। আশ্রিতরা না ফিরলে পরীক্ষা নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আমাদেরকে শিক্ষার্থীদের বিষয়টিও ভাবতে হবে।’

বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সুন্দর বলেন, ‘পরিবারগুলোর ঘরের পানি না কমা অবস্থায় বের করে দেয়াটা অমানবিক হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

No comments: