সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার বাড়লেও সবচেয়ে কম জিপিএ ৫

জুড়ী টাইমস সংবাদ: সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বাড়লেও গত ৬ বছরের মধ্যে এবারই জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে কম। সারাদেশের সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাসের হার কমেছে। ব্যতিক্রম সিলেট। তবে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হারে এগিয়ে আছে মেয়েরা আর জিপিএ ৫ প্রাপ্তির দিক দিয়ে মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছে। ছেলেদের পাসের হার ৭০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আর মেয়েদের পাসের হার ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে সিলেটে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছেলেদের সংখ্যা ৪৫৫ এবং মেয়েদের সংখ্যা ২৪৫ জন। বরাবরের মতো এবারো ভালো করেছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে থাকলেও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা বজায় রেখেছে ফলাফলের ধারাবাহিকতা। এ ছাড়া পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ ৫ প্রাপ্তির দিকে মেয়েদের চেয়ে এগিয়ে সিলেটের ছেলেরা। এ বছর বেড়েছে শতভাগ পাস কলেজের সংখ্যাও। গতকাল রোববার দুপুরে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে ধস নামার পেছনে ৪টি কারণ চিহ্নিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বোর্ডের অধীনে গত বছর যেখানে ১ হাজার ৩৩০ জন জিপিএ ৫ পেয়েছিল এবার প্রায় অর্ধেক মাত্র ৭০০ শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছে। হঠাৎ করে জিপিএ ৫ এত কমে যাওয়ার পেছনে পরীক্ষায় কাঠামোগত পরিবর্তন, ইংরেজিতে ১৮ শতাংশ ও আইসিটিতে ৮ শতাংশ ফেল এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগের বছরের তুলনায় কঠিন হওয়াকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মইনুল ইসলাম বলেন, মূলত ৩টি কারণে এবার জিপিএ ৫ কম পাওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে পরীক্ষায় স্ট্রাকচারাল চেঞ্জ বা কাঠামোগত পরিবর্তন। আগের বছর নৈর্ব্যূত্তিক মার্ক ছিল ৪০, ক্রিয়েটিভ ৬০। এ বছর ক্রিয়েটিভ ৭০ এবং নৈর্ব্যত্তিক ছিল ৩০ মার্ক।

এবার ইংরেজিতে ১৮ শতাংশ ফেল করার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গ্রামের শিক্ষার্থীরা ভালো ইংরেজি শিক্ষক পায় না। যে কারণে গ্রামের শিক্ষার্থীর যোগফলের সমীকরণে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি আইসিটি বিষয়ে অনেকে ফেল করেছে। এ বিষয়ে ফেল করার হার ৮ শতাংশ। এসব কারণ ছাড়াও এবারের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র গতবারের তুলনায় কঠিন হওয়ায় জিপিএ-৫ প্রাপ্তি শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ধস নামার অন্যতম কারণ। সিলেট বোর্ডের অধীনে ৪ জেলার মধ্যে পাসের হারসহ বিভিন্ন সূচকে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে সিলেট জেলা। বোর্ডের মধ্যে সিলেট জেলায় পাসের হার ৭৬.১৩ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ৭৩.৩০ শতাংশ, হবিগঞ্জে ৬৯.১৩ শতাংশ ও মৌলভীবাজারে ৬৫.৮৩ শতাংশ।

বিগত ৬ বছরের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ওই বছর ৩৭ হাজার ৩৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩১ হাজার ৯০৩ জন শিক্ষার্থী পাস করে। জিপিএ ৫ পায় ২ হাজার ৬৫ জন।

২০১৩ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ১৩ শতাংশ। সেই বছর ৪২ হাজার ৯৮০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করে ৩৪ হাজার ৯ জন। জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৫৩৫ জন। ২০১৪ সালে পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ওই বছর ৫৭ হাজার ৫৬১ জন পরীক্ষার্থী মধ্যে পাস করে ৪৫ হাজার ৫৬৮ জন। জিপিএ ৫ পায় ২ হাজার ৭০ জন শিক্ষার্থী।

২০১৫ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সেই বছর ৫৭ হাজার ৭০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ৪৩ হাজার ২৮ জন। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫৬ জন।

গত বছর ২০১৬ সালে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। ৬৩ হাজার ৯৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ৪৩ হাজার ৮৭০ জন। জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৩৩০ জন ছিল।

এ বছর সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে মোট ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছ ৪৬ হাজার ৭৯৭ জন। পাসের হার ৭২ শতাংশ। গতবার পাসের হার ছিল ৬৮.৫৯। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৭০০ শিক্ষার্থী।

এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে বরাবরের মতো এবারো ভালো করেছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে থাকলেও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা ফলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১০ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ৮ হাজার ৭৪৬ জন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৬০৪ জন। বাণিজ্য বিভাগ থেকে ১১ হাজার ৩২১ জন পরিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৮ হাজার ৬৯৫ জন। পাসের হার ৭৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৭০ জন। মানবিক বিভাগ থেকে ৪৩ হাজার ৬০৩ জন পরিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৯ হাজার ৩৫৬ জন। পাসের হার ৬৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৬ জন।

বেড়েছে শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা : এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার বেড়েছে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। গত বছর সিলেটের মাত্র ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ পাস করলেও এবার ৩টি কলেজ বেড়েছে। এ বছর সিলেটে ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাদের ফলাফলে শতভাগ ফলাফল অর্জন করেছে।

উল্লেখ্য, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় এবার পাসের হার ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ বাড়লেও কমেছে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭২%। গতবার পাসের হার ছিল ৬৮.৫৯%। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে মাত্র ৭০০ শিক্ষার্থী। গত বছর ১ হাজার ৩৩০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিল। গত বছরের তুলনায় এবার ৬৩০টি জিপিএ ৫ কমে এসেছে।

No comments: