পাসের হারে ধস আট কারণে

অভিজিৎ ভট্টাচার্য্য : গত কয়েকবছর ধরে এইচএসসি ও সমমানেয় পরীক্ষার পাসের হার যেখানে হু হু করে বাড়ছিল, এবার তাতে ধাক্কা লেগেছে। এতে শুধু বোর্ডভিত্তিক পাসের হার কমেনি, কমেছে সার্বিক পাসের হারও। পাশাপাশি কমেছে জিপিএ ৫ প্রাপ্তির হারও। গতকাল রোববার চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

এবারের আটটি সাধারণ শিক্ষাবোর্ডের অধীন শুধু এইচএসসি পরীক্ষার গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৭২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এখানেও পাসের হার কমেছে। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩ হাজার ২৪২ জন। গতবার পেয়েছিল ৪৮ হাজার ৯৫০ জন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও গতবারের চেয়ে ফল খারাপ হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ডে এবার পাসের হার ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ। এ বোর্ডে ১১ শতাংশের বেশি পাসের হার কমেছে। এখানে জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৮১৫ জন। অন্যদিকে, কারিগরি শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। গতবার এ হার ছিল ৮৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এখানে জিপিএ পেয়েছেন ২ হাজার ৬৬৯ জন।

প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত ৮টি কারণে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে। প্রত্যেক বিষয়ে গ্রেস নম্বর না দেয়া, কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার কমে যাওয়া, বিভিন্নবোর্ডে ইংরেজিসহ কঠিন বিষয়ে ভীতি, মানবিক বিভাগে ৪০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ফেল করা, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন, তুলনামূলক প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া, স্বচ্ছভাবে পরীক্ষা নেয়া এবং পাসের হার বাড়ানো নিয়ে সরকারের নির্দেশনা না দেয়ার কারণেই মূলত পাসের হার কমেছে।

ফলাফলে পাসের হার কমে যাওয়ায় বিস্মিত নন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষার গুণগত মান অর্জন করাই বড় চ্যালেঞ্জ- এ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, সবচেয়ে বড় কথা আমরা শিক্ষার মান অর্জনের চেষ্টা করছি। বেশি না কম পাস করল, তা আমরা দেখছি না। শিক্ষার্থীদের আমরা সঠিক মূল্যায়ন করতে চেয়েছি। এতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হয়েছে, শিক্ষার মান বেড়েছে। তবে গুণগত মান বৃদ্ধি করা বড় চ্যালেঞ্জ। এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের চ্যালেঞ্জ। আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পাসের হারে শীর্ষে সিলেট, সর্বনি¤েœ কুমিল্লা : এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে সিলেট বোর্ড। সবার নিচে রয়েছে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার যেখানে ৬৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সেখানে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। শুধু তা-ই নয়, মানবিক শাখায় এই বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

ফলাফলে দেখা যায়, ৭২ শতাংশ পাসের হার নিয়ে আট শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সিলেট বোর্ড। আর কুমিল্লা বোর্ডে পাস করেছে সবচেয়ে কম ৪৯ দশমিক ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থী। ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ পাসের হার নিয়ে গতবারের মতো এবারো আট সাধারণ বোর্ডে দ্বিতীয় অবস্থানে রাজশাহী বোর্ড এবং ৭০ দশমিক ২৮ নিয়ে বরিশাল বোর্ডের অবস্থান তৃতীয়। এ বছর মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ৭৭ হাজার ০২ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৮১ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, কুমিল্লা বোর্ড থেকে কেন সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করল তার কারণ মূল্যায়ন করে দেখবেন। আর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, ফলাফল ভালো করার জন্য সিলেট শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চার জেলায় মোটিভেশন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এতে ফলাফল ভালো হয়েছে।

কড়াকড়ি আরোপের কারণে সবার নিচে কুমিল্লা : এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ৩৭২ জন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪৯ হাজার ৭০৪ জন পাস করেন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫২। এর মধ্যে ছেলেদের পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫৬ এবং মেয়েদের পাসের হার ৪৯ দশমিক ৪৮। বিজ্ঞানে ২০ হাজার ১৬৪ জন পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হয় ১৪ হাজার ৬৬৩ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২। এর মধ্যে ছেলেদের হার ৭১ দশমিক ৯২, মেয়েদের হার ৭৩ দশমিক ৭২। মানবিকে ৪২ হাজার ৩৯৩ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১৬ হাজার ২৭২ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৮। ছেলেদের পাসের হার ৩৬ দশমিক ৮৬, মেয়েদের পাসের হার ৩৯ দশমিক ২১। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৩৭ হাজার ৮১৫ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হন ১৮ হাজার ৭৬৯ জন। পাসের হার ৪৯ দশমিক ৬৩। ছেলেদের পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭৪, মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এ বছর ৬৭৮ পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে ছেলে ৩২৫ ও মেয়ে ৩৫৩ জন। এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে ৫৫৭ জন, মানবিকে ৩৯ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৮২ জন জিপিএ ৫ পেয়েছেন। গত বছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ৪৯। এবার কমেছে ১৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ। গত বছর এক হাজার ৯১২ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন।

বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার উত্তরপত্র ঠিকভাবে মূল্যায়ন হয়েছে। নকল কিংবা অন্যকোনো অপকর্ম হতে দেয়া হয়নি। এতে ইংরেজিসহ কঠিন বিষয়ে কুমিল্লাবোর্ডে শিক্ষার্থীরা বেশি সংখ্যায় ফেল করে। এই বোর্ডে ফেলের প্রভাব সারাদেশের বোর্ডগুলোতে পড়ে সার্বিক ফলাফলে পাসের হার কমেছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ডটিতে বাজে ফলাফল হয়েছিল। এসএসসিতে খারাপ ফলাফলে কারণ অনুসন্ধান এখনো করা হচ্ছে। এরইমধ্যে এইচএসসিতেও খারাপ ফলাফল প্রকাশ হলো।

কুমিল্লা বোর্ডে বারবার বাজে ফলাফল হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আবদুল খালেক নিয়োগ পাওয়ার পরই সেখানে সকল অন্যায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পড়াশোনায় গুরুত্বারোপ করেন। কিন্তু বোর্ডের গ্রামাঞ্চলের কলেজগুলো চেয়ারম্যানের কথায় পাত্তা দেয়নি। ওই কলেজগুলো চেয়েছিল অন্যায় সুবিধা নিয়ে ভালো ফলাফল করা যাবে। কিন্তু চেয়ারম্যানের দৃঢ়তার কারণে কুমিল্লাবোর্ডে ফলাফল ও পরীক্ষা নিয়ে কোনো অনিয়ম করা যায়নি। যেসব কলেজ অনিয়ম করতে পারেনি তাদের ফল খারাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি ইংরেজিতে দুর্বলতা থাকায় সেখানকার শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ কঠিন এই বিষয়টিতে ফেল করে। কুমিল্লা বোর্ডে এ বছর ইংরেজিতে ১ লাখ ৩৮১ জন পরীক্ষা দিয়ে ফেল করেছে ৩৮ হাজার ৮৩ জন। পাস করেছেন ৬২ হাজার ২৯৮ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ফেল করেছেন ৩৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ পরীক্ষার্থী। এসব কারণেই কুমিল্লাতে পাসের হার কমে গেছে বলে বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে। এতে ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসির ফল বিপর্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, সব বোর্ডের মধ্যে একটা বোর্ডের খারাপ ফলাফল কেন হয়েছে তা আমি জানি না। ওই এলাকা (কুমিল্লা) থেকে এত বড় বড় অফিসার আসে। কুমিল্লায় এই দুরবস্থা কেন? গতকাল রোববার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণের সময় শেখ হাসিনা এসব প্রশ্ন তোলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মুখ্য সচিব (কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী) থেকে সবাই তো কুমিল্লার। তিনি এখানে বসে আছেন। তার সামনেই বলি, সব বড় বড় অফিসারের বাড়ি কুমিল্লায়। এর আগের মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বাড়িও কুমিল্লায়। কুমিল্লা কেন এত পিছিয়ে থাকবে। এ বিষয়গুলোতে বিশেষ করে নজর দেয়া উচিত।

তবে কুমিল্লাতে ফল বিপর্যয় হলেও বোর্ডটির চেয়ারম্যান আবদুল খালেক অখুশি নন। তিনি গতকাল বলেন, কুমিল্লা বোর্ডের ফলাফলই প্রকৃত ফলাফল। এবার কুমিল্লা বোর্ড থেকে যে শিক্ষার্থীরা পাস করেছে তারাই মেধাবী। ইংরেজি বিষয় এবং গ্রামে থাকা শিক্ষার্থীরা বেশি ফেল করায় পাসের হার কমেছে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, বোর্ড চেয়ারম্যান হিসেবে কুমিল্লাতে দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। এমন ফলাফল আমাকে আমার কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে দিচ্ছে।

গ্রেস নম্বর না দেয়া : পরীক্ষাপদ্ধতি চালুর পর থেকেই গ্রেস নম্বর দেয়ার প্রচলন রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গতবছর পর্যন্ত শিক্ষাবোর্ডগুলো গ্রেস নম্বর দিয়ে আসছে। কিন্তু চলতি বছরের এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষায় কোনো গ্রেস নম্বর দেয়া হয়নি। অর্থাৎ কোনো শিক্ষার্থী ৩২ নম্বর পেলেও তাকে ১ নম্বর গ্রেস দিয়ে ৩৩ করে পাস করিয়ে দেয়া হয়নি। এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্রে শিক্ষার্থীদের গ্রেস নম্বর না দেয়ার কারণেও পাসের হার কমেছে বলে বিশ্লেষণে দেখা গেছে। পাশাপাশি গত কয়েকবছর ধরে পাসের হার বাড়ানোর জন্য শিক্ষাবোর্ড থেকে পরীক্ষকদের নির্দেশনা দেয়া হতো। এই নির্দেশনাও এখন আর দেয়া হয় না। এতে পরীক্ষকরা নিজের বিবেকমতো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার কারণে ফলাফলে পাসের হার কমেছে।

কখন গ্রেস নম্বর দেয়া হয়- জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, প্রতিবছর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দু’একদিন আগে ফলাফল বিবরণী নিয়ে শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা কমিটি বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকে পাসের হার নিয়ে আলোচনায় নির্ধারণ হয় গ্রেস দেয়া হবে কি না। গত কয়েকবছর ধরে দেখা গেছে, পাসের হার ৮৫ শতাংশের ওপরে উঠে যাচ্ছে। কাজেই পাসের হার নিয়ে আর চিন্তা নেই। মূলত গত কয়েকবছর ধরে পাসের হার বাড়ার কারণেই গ্রেস নম্বর না দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহেদা ইসলাম বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতি এবং কোনো প্রশ্নের উত্তরে কত নম্বর দিতে হবে তা উল্লেখ করে একটি তালিকা প্রত্যেক পরীক্ষককে সরবরাহ করা হয়েছিল। পরীক্ষকরা নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র ঠিকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। এরফলে একজন শিক্ষার্থী যে যত নম্বর পেয়েছে তাকে তত নম্বরই দেয়া হয়েছে। কোনো গ্রেস নম্বর দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পরীক্ষার খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হতো না বলে অভিযোগ পেয়েছি। এতে দেখা যেত ভালো ছাত্ররা খারাপ আর খারাপ ছাত্ররা ভালো রেজাল্ট করত। খাতার ওজন দেখে নম্বর দেয়ার অভিযোগও শুনেছি। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ এক্সামিনেশন ডেভেলপমেন্ট ইউনিট গঠন করা হয়। এই ইউনিট কাজ করার পর থেকে পরীক্ষা ফলাফলে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

পাসে এগিয়ে ছাত্রীরা : চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার মোট ১১ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্য পাস করেছে ৮ লাখ ১ হাজার ৭৭১ জন। গড় পাসের হার ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর মধ্য ছাত্রীদের পাসের হার ৭০.৪৩ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৬৭ দশমিক ৬১ শতাংশ। ডিআইবিএসসহ এবারের মোট জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। এর মধ্য ছাত্রদের সংখ্যা ২০ হাজার ৫৩৫ জন। ছাত্রীরা জিপিএ ৫ পেয়েছেন ১৭ হাজার ৪৩৪ জন। সব শিক্ষাবোর্ডে ছাত্রের তুলনায় ২ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাত্রী বেশি পাস করেছে।

বিপর্যয়ের মধ্যেও ব্যতিক্রম বরিশাল : এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে সারাদেশে গড় পাসের হার কমলেও গতবছরের চেয়ে এবার বরিশাল বোর্ডে দশমিক ১৫ শতাংশ পাসের হার বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। সব বোর্ড মিলিয়ে এবার পাসের হার যেখানে ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, সেখানে বরিশাল বোর্ডে পাস করেছে ৭০ দশমিক ২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৮১৫ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। গতবছর এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭০ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৭৮৭ জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বলেন, বরিশাল বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকাশিত ফলাফলও কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ রয়েছে। অনিয়মের কারণে বরিশালে পাসের হার বাড়ল কি না তা খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, বরিশালে ভালো করার কারণ অনুসন্ধান করা হবে।

মানবিকে ফল বিপর্যয় : প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৩ দশমিক ১৪ শতাংশ ও বাণিজ্য বিভাগে ৬৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর বিপরীতে মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৫৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ফল বিপর্যয়ের কারণেও সার্বিক ফলে পাসের হার কম হয়েছে। বোর্ডওয়ারি প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ঢাকা বোর্ডে মানবিক বিভাগে পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫৯, রাজশাহী বোর্ডে ৬৩ দশমিক ১৬, কুমিল্লা বোর্ডে ৩৮ দশমিক ৩৮, যশোর বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৯৩, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৪৭ দশমিক ৪৯, বরিশাল বোর্ডে ৬৩ দশমিক ৭৩, সিলেট বোর্ডে ৬৭ দশমিক ৮২ এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৬০ দশমিক ২৩ শতাংশ। মানবিক বিভাগের অন্যতম কঠিন বিষয় ইংরেজি। এবারের পরীক্ষায় বিভিন্ন বোর্ডে ইংরেজি বিষয়েই বেশি ফেল করেছে। সবকটি বোর্ডে ইংরেজিতে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ। ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, এ বছর ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি খারাপ করেছে। অন্যান্য বছর যেখানে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার থাকে ৯০ শতাংশের ওপরে এবার যশোর বোর্ডে মাত্র ৭২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। যে কারণে সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীরা পদার্থ ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে ভালো করতে পারেনি। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে ভালো করলেও এ দুটি বিষয়ে ধরা খেয়েছে। এ কারণে জিপিএ ৫-এর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় অর্ধেকে নেমে গেছে।

No comments: