মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী : ৫৭ ধারা সাংবাদিক হয়রানির জন্য নয়

জুড়ী টাইমস সংবাদ: গণমাধ্যমকর্মীরা সঠিক নিয়ম-কানুনের মধ্যে থেকে যেন তাদের কাজ করতে পারেন সে জন্য তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা প্রবর্তন করা হয়েছে। এই ধারা কোনো সাংবাদিক কিংবা গণমাধ্যমকর্মীকে হয়রানি বা নির্যাতনের উদ্দেশ্যে করা হয়নি। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভায় অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়।

বৈঠক সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে সিনিয়র একজন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি পত্রিকা এখন পর্যন্ত ৯টি সিরিজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনগুলোকে মিথ্যা দাবি করে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সামনে উত্থাপন করেন ওই মন্ত্রী। ওই মন্ত্রী বলেন, সংবাদ প্রকাশ করা পত্রিকাটি একটি তদবির নিয়ে এসেছিল। কিন্তু তদবিরটি বাস্তবায়ন করতে না পারায় আমার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে পত্রিকাটি। এরপর এ বিষয়ে অধিকাংশ মন্ত্রী আলোচনায় অংশ নেন। এমনকি ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, এনবিআর চেয়ারম্যানসহ একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আন্দোলন করছেন। এসবের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চান ৫৭ ধারায় কতজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কেউ যদি দেশের সুনাম ক্ষুণœ করার জন্য রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখা লিখে অথবা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌক্তিক প্রমাণ ছাড়াই কোনো নিউজ লেখে তাহলে কী হবে, তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া যাবে না? প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইদানীং একটি বিষয় দেখা যাচ্ছে, তদবির না শুনলেই সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করে দেয়। পত্রিকাটি আমাদের অত্যন্ত ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক রিপোর্ট করে যাচ্ছে। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ, এ কারণে চুপ করে বসে আছেন। অন্যরা হলে মামলা-মোকদ্দমা হয়ে যেত। প্রধানমন্ত্রী ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেন মন্ত্রীকে। পরে ওই মন্ত্রী জানান, তিনি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

No comments: