ছাত্রলীগের সম্মেলনের জন্য সব প্রস্তুতি আছে: এস এম জাকির হোসাইন

সাইফুল ইসলাম সুমন: গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত ২৬ জুলাই বুধবার ছাত্রলীগের মেয়াদ শেষ হলেও; নতুন সম্মেলনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাই মুখ্য বলে দাবি করেছেন ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আমরা পরবর্তী সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছি। এই মুহূর্তে আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) যখন বলবেন; তখনই সম্মেলন হবে।
 
এস এম জাকির হোসাইন বলেন, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমাদের জেলা-উপজেলায় সম্মেলন চলমান রয়েছে। চলতি মাসেই খুলনা জেলা, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি জেলায় সম্মেলন হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, আগস্টের আগেই সেখানে কমিটি হবে। সম্মেলনের চার মাসেও কমিটি না হওয়ার পেছনে- অনেক দিন পর প্রথমবারের মত সম্মেলন অনুষ্ঠান, অনেক পদপ্রার্থী, আবার এসব প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগসহ বেশ কিছু জটিলতার কথা বলেন ছাত্রলীগ সম্পাদক। 

দুই বছর দায়িত্ব পালনে কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সব কিছুই স্বাভাবিক (স্মুথলি) চলছে। কিছু জেলা-উপজেলায় অনেক পুরনো কমিটি ছিল, ভেঙ্গে নতুন কমিটি দেয়া কঠিন মনে করেছিলাম। কিন্তু আমরা তা করতে পেরেছি। আসলে তা চ্যালেঞ্জ বা চাপ না; চাইলেই সম্ভব।

আরেক প্রশ্নে এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ছাত্রলীগ তার নিজস্ব পথে (ওয়ে) চলেছে। আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের কোনো চাপ ছিল না। তবে বিভিন্ন সময় আমরা সাবেকদের পরামর্শ নেই।

ছাত্রলীগের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি কী- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের মূল ফোকাসের জায়গা- ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচন। তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার সব সুযোগ নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের মাঝে সরকারের উন্নয়ন প্রচার করা। আমাদের মূল টার্গেট ছাত্রলীগের তৃণমূলের নেতাকর্মী। সাংগঠনিক সফর চলছে, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ত্রাণ বিতরণ চলছে। সর্বশেষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেও ছাত্রলীগ ছিল। আহত সিদ্দিকুরকে আমি নিজেও দেখতে গিয়েছি। সরকার তার উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রলীগ আগামী নির্বাচনে দেশরত্ন শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করবে।

ছাত্রলীগের দুই বছরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এস এম জাকির হোসাইন বলেন, বর্তমানে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। আমরা বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি করেছি ও বিনামূল্যে মেডিকেল টিম প্রেরণ করেছি। ভ্যাট বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ হলের খাবারের মান, বহিরাগতদের হল থেকে বহিষ্কারসহ ১৯ দফা দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২১ দফা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৪ দফা দাবিতে স্ব স্ব উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ।

এস এম জাকির হোসাইন বলেন, আমাদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে ছাত্রলীগ। এসব বিষয়গুলো সমালোচকরা এড়িয়ে যান। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত করে দিচ্ছে ছাত্রলীগ। গরীব চাষিকে ধান কাটায় সহযোগিতা করছে। ঝড়ে গাছপালা পড়ে বন্ধ হওয়া রাস্তা পরিষ্কার করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। রাজনীতি সব সময় একই রকম হবে, এমনটা ঠিক না। হত্যা, সন্ত্রাস, দুর্নীতির ধারা থেকে দেশকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বের করে নিয়ে এসেছেন। দেশ এখন উন্নয়নের বন্দরে। এর ছোঁয়ায় ছাত্রলীগও এখন অনেক জনসম্পৃক্ত একটি সংগঠন। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের বন্ধু হয়ে শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নের ভ্যানগার্ড হতে চায় ছাত্রলীগ।

এস এম জাকির হোসাইন আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আতঙ্ক জঙ্গিবাদ। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের অবস্থান জিরো টলারেন্স। দেশ থেকে জঙ্গিবাদের মূল উপড়ে ফেলতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি। আমরা দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছি। এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে প্রায় এক কোটি মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরে। এই কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছে অসংখ্য মানুষ। বন্যার্ত ও শীতার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রীসহ গরম কাপড় বিতরণ করেছে ছাত্রলীগ। গত দুই বছরে বন্যা কবলিত মানুষকে সাহায্য করতে ৮টি ত্রাণ টিম কাজ করেছে। নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে এই ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করেন নেতাকর্মীরা।

No comments: