‘হাকালুকিকে হাওর মহাপরিকল্পনায় অন্তভূক্ত করা হোক’

ওমর ফারুক নাঈম: হাওরের সম্পদ ও এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের মহাপরিকল্পনায় এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিকে অন্তর্ভূক্ত করা হোক। শুধু হাকালুকি নয়, মৌলভীবাজার জেলার কোনো হাওরের নামই নেই ওই মহাপরিকল্পনায়। পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় প্রায় প্রতি বছরই এ অঞ্চলের লোকজন ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছে। চাষীরা সোনার ফসল ফলিয়েও ঘরে তুলতে পারে না, বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়, পচে যায়। যার কারণে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয় হাওর পাড়ের কয়েক লাখ মানুষকে। এ বছরও এ অঞ্চলের মানুষজন তৃতীয় দফায় অপরিমেয় ক্ষতির শিকার হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ত্রান মন্ত্রনালয়ের সচিব শাহ কামাল, যুগ্ম সচিব মো. মহসীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা সায়রা মহসীন , মহাপরিচালক রিয়াজ আহমদ, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইন প্রমুখ।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, মৌলভীবাজারের পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোঃ ফজলুর রহমান, কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম সহ জেলার সরকারী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। 
 
মৌলভীবাজারে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সভায় পরামর্শ মূলক বক্তব্যে উল্লেখিত কথাগুলো বলেছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলার, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও ৪ বারের সিআইপি এম এ রহিম।মৌলভীবাজারের দূর্যোগ মোকাবেলায় ৩ জুলাই সোমবার রাত সাড়ে দশটায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপস্থিত ছিলেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এমপি, ত্রান মন্ত্রনালয়ের সচিব শাহ কামাল, যুগ্ম সচিব মো: মহসীন, মহাপরিচালক রিয়াজ আহমদ সহ জেলার সকল স্থরের সরকারী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এ সময় ত্রান মন্ত্রী সরকারী কর্মকর্তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন।

বিশিষ্ট শিল্পপতি, সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলার এম এ রহিম সিআইপি জানান, বন্যার পানি নিস্কাশনের জন্য হাওরের প্রয়োজন। যদি মৌলভীবাজারের হাওরগুলোকে মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভূক্ত করা হত তাহলে বারবার আমার এ জেলা বন্যা আক্রান্ত হত না। মহা পরিকল্পনা না করায় প্রতিবছর ভর মৌসুমে কয়েক লক্ষ কৃষিজীবী মানুষের পাকা বোরো ধান জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে তলিয়ে যায়। কিন্তু ২৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়নি। যদি অন্তর্ভুক্ত হত তাহলে বারবার বন্যা আক্রান্ত হত না।

শুধু আমি নই এ দাবি সারা জেলা বাসীর। এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকিকে হাওর মহাপরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত না করায় জেলার সর্বস্থরের মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত হাকালুকিসহ মৌলভীবাজারের হাওরগুলোকে হাওর মহাপরিকল্পনা ও জলাভূমি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

No comments: