বঙ্গবন্ধুর আদরের হাসেমের পাশে দাঁড়ালেন ওবায়দুল কাদের

জুড়ী টাইমস সংবাদ: ফেসবুকে হয়তো অনেকেই জেনেছেন একসময়ের রাজপথ কাঁপানো নেতা, বঙ্গবন্ধুর সময়ে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে (১৯৭০,১৯৭৩) দুই বারের এমপি আবুল হাসেম বিনাচিকিৎসায় অবহেলিত ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

নি:সন্তান এই সাবেক এমপির পরিবারের অনেকেই বার্ধক্যরোগের অবহেলা করে দেখভালটুকুও করেছেন না। পরিবারের অন্যরা তার সম্পত্তি বেদখলের চেষ্টায় রত। তার স্ত্রীও রোগাক্রান্ত। তাকে দেখাশোনা করার লোকেরও অভাব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার থেকে পাওয়া খবর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অবহিত করা হলে উনি বঙ্গবন্ধুর আদরের সেই সাবেক এমপির পরিবারের সাথে টেলিফোন করে কথা বলে তাকে চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেন। একইসাথে সাবেক এমপি আবুল হাসেমের সাথেও ফোনে কথা বলেন।

পশ্চিম গফরগাঁও গ্রামের নিজ বাড়িতে প্রায় দুই বছর ধরে অসুস্থ আবুল হাসেমের দেখাশোনা করছেন তার বৃদ্ধা স্ত্রী, ভাতিজা ও নাতি-নাতনিরা। কিন্তু তার স্ত্রী ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। সাবেক সাংসদের সব সম্পত্তি দলিল করে নিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনে স্থানীয় সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা দেখতে যান তাকে। তবে কোনো প্রতিকার হয়নি।

১৯৩১ সালের ১৭ আগস্ট জন্ম নেয়া এই মানুষটি সংসদ সদস্য থাকাবস্থায় গড়ে তোলেন অর্ধশতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্তত ২০টি হাই স্কুল ও গফরগাঁওয়ের একমাত্র মহিলা কলেজ। তার বদৌলতে এলাকার শত শত বেকার যুবকের চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের সময় তিনি গফরগাঁওয়ে গড়ে তোলেন লঙ্গরখানা। গফরগাঁওয়ের প্রবীণ সাংবাদিক ফকির এ মতিনের পরিচালনায় লঙ্গরখানায় প্রতিদিন শত শত ভূখা অনাহারি মানুষ খাবার খেয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছে।

এলাকায় অসংখ্য রাজনৈতিক নেতাকর্মী থাকলেও এই অসহায় ব্যক্তিটিকে দেখার আগ্রহ নেই কারো। তিনি জীবন কাটিয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। খদ্দরের ছেঁড়া পাঞ্জাবি, পাজামা, গায়ে মুজিব কোট, মাথায় গান্ধী টুপি দেখে যে কেউ বলে দিতে পারতেন তিনিই গফরগাঁওয়ের প্রিয় হাসেম ভাই।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সময় আবুল হাসেম প্রথমে পাড়ি জমান ভারতে। সেখান থেকে পরে অংশ নেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধু যখন বলেছিলেন ‘তিন বছর কিছুই দিবার পারব না’, তখন হাসেম ভাই ডাক দেন ‘শ্রমদান সপ্তাহ’-এর। তার ডাকে হাজার হাজার তরুণ ও সাধারণ জনতা ঝাঁপিয়ে পড়ে রাস্তাঘাটসহ বিধ্বস্ত অবকাঠামো গড়ার কাজে। জনতার আগ্রহে পরে শ্রমদান সপ্তাহ পরিণত হয় ‘শ্রমদান মাস’-এ।

No comments: