ডাক্তার সংকটে কুলাউড়া

জুড়ী টাইমস সংবাদ: চিকিৎসক সংকটে কুলাউড়া উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতাল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এতে উপজেলার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ সরকারি চিকিৎসা সেবা হতে রয়েছেন বঞ্চিত। হাসপাতালে ৩৮টি পদের মধ্যে ১০টি বিশেষজ্ঞ পদসহ ৩৩টি পদ শূণ্য রয়েছে। চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম দিচ্ছেন মাত্র জন চিকিৎসক। কুলাউড়া উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ৩৮টি পদের মধ্যে ৩৩টি পদ শূণ্য। এর মধ্যে সার্জারী, গাইনী, মেডিসিন, অ্যানেসথেসিয়া, অর্থপেডিক, কার্ডিওলজিস্ট, চক্ষু, শিশু, ইএনটি এবং চর্ম যৌন বিশেষজ্ঞ এই ১০টি বিভাগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু ১০টি পদই শূণ্য। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র জয়চন্ডী, ব্রাহ্মণবাজার, পৃথিমপাশা, কর্মধা, হাজীপুর, কাদিপুর, ভাটেরা, বরমচাল, রাউৎগাঁও, ভূকশিমইল, শরীফপুর সবকটি মেডিক্যাল অফিসারের পদ শূণ্য। উপজেলা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া হাসপাতালে আউটডোর জরুরী বিভাগে প্রতিদিন উপচে পড়া ভীড় থাকে। কমপক্ষে শতাধিক মানুষ চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে থাকে। শুধু কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ছাড়াও পাশর্^বর্তী জুড়ী উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের শতভাগ মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে। কিন্তু ডাক্তার সংকটের কারণে মানুষকে ঠিকমতো সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে গাইনী অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকায় হাসপাতালে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবা কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, এখানে যারা নিয়োগ পেয়ে আসে, পরবর্তিতে তারা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য চলে যায়। আবার অনেকে ভালো হাসপাতালে সুযোগ পেয়ে চলে যায়। ফলে বেশিদিন কেউ এখানে থাকতে চায়না। কুলাউড়া হাসপাতালে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. জাকির হোসেন, মেডিক্যাল অফিসার আবু বক্কর মো. নাসের রাশু, ডা. ইমরান আহমদ ডা. ফাহমিদা ফারহানা। সার্বক্ষণিক সেবা দিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুরুল হক জানান, এখানে যারা আসে, তাদের লক্ষ্য থাকে আরও ভালো স্থানে যাওয়ার। আর কেউ পদোন্নতি বা উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে চাইলে তাকে আটকে রাখা যায় না। ডাক্তারের পদ শূণ্যের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

No comments: