৫০ টাকা চালের কেজি ৮৫ টাকা হাজরি চলবেক কেমনে বাবু

মানিক পাল: এ দেশে চা শ্রমিকরা যুগ যুগ ধরে পিছিয়ে আছে বিভিন্ন ভাবে। এমন কি তারা তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ৮ ঘন্টা কাজ করে মজুরি পাচ্ছে ৮৫ টাকা যা বর্তমান বাজার দরের কাছে ২ কেজি চালের দাম না। কোম্পানির দিক থেকে যে থাকার ঘড় দেওয়া হয় সেটা হচ্ছে ৭ হাত প্রস্থ ১৪ হাত লম্বা কোন কোন বাগানে ৮ হাত প্রস্থ এবং ২২ হাত লম্বা মাটির কাচা ঘড়। এই ঘড়ে একজন শ্রমিক তার পরিবার পরিজন সহ একি ঘড়ে তাদের গৃহপালিত পশু সহ বসবাস করে। সব চা বাগান গুলোতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকলেও আছে সরকার অনুমোদিত পাট্টা ( দেশি মদের দোকান)। চা শ্রমিকদের দিকে চাইলে বুঝা যায় কত শত রোগবালায় নিজের সঙ্গী করে সাথে নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। হাতে গুনা কয়েকটি কোম্পানি বাদে প্রায় সব কোম্পানির চা বাগান গুলোতে নেই হাসপাতাল। কোন কোন বাগানে ছোট একটা ডিসপেন্সারিতে DMS ডাক্তার দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা সেবা। কথা হয় দেওরাছড়া চা বাগানের একজন শ্রমিক বিক্রম তেলেঙ্গার সাথে বিক্রম জানায় ” বাবু হামরা ( আমরা) থাকি ফাঁড়ি বাগানের ৭ নং লাইনে ( লেবার কলনি) ইহালে রোগি বাগান হাসপাতালে লেগতে যে কষ্ট হয়। যার টাকা আছে গাড়ি দিয়ে লিয়ে যায়। আর হামরা টুকরিয়ে ধুকায় সাংরা দিয়ে লিয়ে যায়। “” এভাবে রোগি বহন করার বর্ননা দিলো বিক্রম প্রেমনগর প্রেমনগর চা বাগানের জীবন চাষা সে এবং তার স্ত্রী ২ জন কাজ করে এই বাগানে ২ ছেলে ১ মেয়ে বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা মা। জিজ্ঞেস করা হলো কি ভাবে চলে সংসার ” ৫০ টাকা চালের কেজি ৮৫ টাকা হাজরি চলবেক কেমনে বাবু কোন দিন তিন বেলা আটা রুটি খায় তার পরে কোন দিন পেট দমরি ( উপস) দিয়ে থাকি “”। এভাবে করুনা দায়ক বর্ণনা দিলো এই চা শ্রমিক।

সকল ধরনের প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বে চা শ্রমিক সন্তানরা বর্তমানে সু শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে এবং চা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে। শত কষ্ট হলেও বিশ্ব দরবারে নিজেদের কষ্টের কথা এবং নিজেদের দুঃখ ভরা সংস্কৃতি তুলে ধরছে। চা শ্রমিকদের এই উত্তরণের বার্তা মালিক পক্ষ অনুধাবন করতে পেরে চা শ্রমিক জাতিকে কি ভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখবে। শ্রমিকরা দাসত্বের বেড়াজাল থেকে বের হতে না পারে তার জন্য তারা নতুন নতুন কৌশল আবিস্কার করছে। যার অন্যতম হচ্ছে চা শ্রমিকের মধ্যে একটি শ্রেণির সৃষ্টি। যারা শ্রমিকের হয়ে মালিকের দালালি করবে। এদের কে কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া হয় রাজকীয় সুবিদা। আর বেশির ভাগ বাগানে এই দালালদের মাধ্যমে মালিক পক্ষ নিয়ন্ত্রণ করে চা শ্রমিকদের। চা শ্রমিকরা যাতে অধিকার আদায় সগ্রামে ঐক্য গড়ে না তুলতে পারে। সে জন্য মালিক পক্ষ এসকল দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন নাম মাত্র উন্নয়ন মুলক কর্মকাণ্ড করে থাকে। এভাবে চা বাগান গুলোতে মালিকরা দুষ্টের পালন এবং সৃষ্টের দমন করে থাকে। কিছু কিছু বাগান গুলোতে দালালরা এতো সক্রিয় যে তাদের ব্যাতিত অন্য কোন সংগঠনকে সংগঠিত হতে দেয় না। শ্রমিকরা যদি সংগঠিত হয় তবে আস্তে আস্তে তাদের কু কৃতি ফাস হবে। যে বাগান গুলোতে দালালরা তাদের রাজত্ব পুরো কায়েম করতে পারছে না সে বাগান গুলোতে শ্রমিক নেতৃত্ব যাদের হাতে তাদেরকে কৌশলে ব্যাবহার করছে। এবং সচ্ছতা দেখানোর জন্য নিজেদের ছেলে মেয়েকে সামনে রেখে হাতেগুনা কয়েকজন সুবিদাভুগি যুবককে নিয়ে তৈরি করছে সংগঠন। যার সম্পূর্ণ ব্যায় বহন করে মালিকদের পক্ষ থেকে এসকল দালালরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিরতিংগা চা বাগানের একজন যুবক বলেন দালালরা যতই সক্রিয় হউক না কেন চা বাগানের ছাত্র যুবকরা সব প্রতিবন্ধকতাকে পদাঘাট করে সামনের দিকে এগুচ্ছে।

No comments: