জুড়ীর পাঁচটি চা–বাগানের ইজারা বাতিলের দাবি

জুড়ী টাইমস সংবাদ: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় নিউ ধামাই টি কোম্পানি পরিচালিত ধামাই, ধামাইয়ের ফাঁড়ি শিলঘাট, সোনারুপা, সোনারুপার ফাঁড়ি পুঁচি ও আতিয়াবাগ চা-বাগানে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে গতকাল রোববার মতবিনিময় সভা হয়েছে।

সভায় শ্রমিকনেতারা জাতীয় সংসদের হুইপ ও মৌলভীবাজার-১ আসনের সাংসদ মো. শাহাব উদ্দিনের কাছে এসব বাগানের ইজারা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। চা-শ্রমিকদের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বাগানে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক রয়েছেন। স্থায়ী শ্রমিকদের চার সপ্তাহ ও অস্থায়ী (ঠিকা) শ্রমিকদের ৩২ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া পড়ে আছে। ২৮ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকেরা রেশন পাচ্ছেন না। দুই বছর ধরে মজুরির বর্ধিত অংশের টাকাও পাচ্ছেন না শ্রমিকেরা। শ্রমিকদের কাঁচা বাড়িঘর মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে না।
বাগানে হাসপাতাল-ওষুধ নেই। শ্রমিকেরা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ১১ মাস ধরে ৫ বাগানের ৪৫ জন কর্মচারীর বেতন বন্ধ।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সোনারুপা চা-বাগান পূজামণ্ডপে সভা শুরু হয়। চা-শ্রমিক ইউনিয়নের জুড়ী ভ্যালি কমিটির সভাপতি কমল বুনারজির সভাপতিত্বে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন হুইপ শাহাব উদ্দিন। বক্তব্য দেন পশ্চিম জুড়ী ইউপির চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাস, স্থানীয় পূর্ব জুড়ী ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সজল কান্তি বাউরি, ধামাই চা-বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি যাদব রুদ্রপাল, সোনারুপা বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বাদল রুদ্রপাল প্রমুখ। সভায় পাঁচ বাগানের পাঁচ শতাধিক পুরুষ ও নারী শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন।
হুইপ শাহাব উদ্দিন ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, তিনি ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলবেন।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গতকাল মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোম্পানির চেয়ারম্যান সাফিয়া আসাফ আলী ফোন ধরেননি।

No comments: