পুলিশ বান্ধব আইনে চলছেনা বর্তমান পুলিশী কার্যক্রম-কুলাউড়ায় ডিআইজি কামরুল আহসান

জুড়ী টাইমস সংবাদ: পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ কামরুল আহসান বিপিএম বলেছেন জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাস, নাশকতা, মাদকসহ জাতীয় সমস্যার উত্তরণে কমিউনিটি পুলিশিং এর বিকল্প নেই। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে পুলিশ জনতা মিলে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে। আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জঙ্গীবাদসহ সকল অপরাধের হোতাদের শিকড় উৎপাঠন করে আগামী প্রজম্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে, পুলিশ জনগণের বন্ধু সেটা শুধু মুখে বললে চলবে না। এর কার্যাকরী পদক্ষেপ যথাসময়ে জনসাধারণের দোরগোড়ায় পুলিশিং পৌঁছে তা প্রমাণ করতে হবে।

কুলাউড়া থানা প্রাঙ্গনে ৩০ মে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওপেন হাউজ ডে এবং কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ১৮১৯ সালের আইনে চলছে বর্তমান পুলিশী কার্যক্রম। যা পুলিশ বান্ধব নয়। ২০০৭ সালে নতুন পুলিশী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু সেই উদ্যোগ হিমাগারে চলে গেছে। তারপরও পুলিশ বসে নেই। নিজস্ব চিন্তা ভাবনা থেকে অনেক জনমূখী উদ্যোগ নিচ্ছে পুলিশ। নিজস্ব আর আধুনিক চিন্তা ভাবনারই ফল কমিউনিটি পুলিশিং। সব পুলিশের কাছ থেকে ভালো সেবা, কথাবার্তা বা আচার ব্যবহার পাবেন না। কারণ পুলিশের একজন সাধারণ সদস্য এসএসসি পাশ করে এই বাহিনীতে যোগ দেয়। একজন উপপরিদর্শক বিএ বর্তমানে মাষ্টার্স পাস এবং এএসপি বিসিএস দিয়ে যোগদান করেন। সবাই পুলিশ। একই রকম প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সবাই। তবে একজন সাধারণ সদস্য থেকে একজন এএসপি’র কাছ থেকে ভালো সেবা পাবেন।

কমিউনিটি পুলিশিং কার্যকরী কমিটির সভাপতি মুকিম উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও কবি-সাহিত্যিক ভানু পুরকায়স্থ এর পরিচালনায় অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল, কুলাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম, কমিউনিটি পুলিশিং আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, উপজেলা আওয়ামীলীগ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু, থানা পুলিশিং সম্পাদক নবাব আলী ওয়াজেদ খান বাবু, বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব চৌধুরী শাহজাহান, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আবু ইউছুফ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সুশীল চন্দ্র দে।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুলাউড়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা পিপিএম। মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন জাসদ নেতা গিয়াস উদ্দিন আহমদ, কুলাউড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সুশীল সেন গুপ্ত, কুলাউড়ার সংলাপ সম্পাদক অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, টিলাগাও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক, হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু ও ব্রাহ্মনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মমদুদ হোসেন, গণফোরাম নেতা মোতাহির আলম চৌধুরী, ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মইনুল ইসলাম শামীম, সহ-সম্পাদক এম. আতিকুর রহমান আখই, আব্বাছ আলী, আদীবাসী নেত্রী বাবলী তালাং, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নিয়াজুল তায়েফ, মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল, হিরা মিয়া, শেলী বেগম, আব্দুল খালিক মেম্বার, বদরুল আলম সিদ্দিকী প্রমুখ।  পরে ডিআইজি মোঃ কামরুল আহসান বিপিএম কুলাউড়া বাজারের নিরাপত্তা রক্ষায় শহরে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও নৈশ প্রহরী নিয়োগ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

No comments: