জুড়ীতে একটি পরিবার একঘরে ১০ বছর

জুড়ী টাইমস সংবাদ: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় স্থানীয় মাতব্বরেরা একটি পরিবারকে একঘরে করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের এড়ালিগুল গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। একঘরে করে রাখায় ওই গ্রামের ফাতির আলীর পরিবার লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিন্টু চৌধুরী বলেন, খোঁজ নিয়ে তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

মৌলভীবাজার জজ আদালতের অতিরিক্ত সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) আবদুল খালিক বলেন, সামাজিকভাবে কাউকে একঘরে করে রাখা বেআইনি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফাতির আলীর সঙ্গে ৮ শতক জায়গা নিয়ে তাঁর ভাই শরাফত আলীর বিরোধ ছিল। ২০০৭ সালের দিকে এক আত্মীয়ের মধ্যস্থতায় বিরোধপূর্ণ জায়গায় ফাতির আলী ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরপর শরাফত বাঁশের বেড়া দিয়ে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা চালান। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন সালিস বৈঠক ডেকে বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেন। সালিসে স্থানীয় মাতব্বর আপ্তাব আলী, উস্তার আলী, আবদুল লতিফ ও ছমির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে সালিসকারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে ফাতির চলে যান এবং থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

পরে সালিসকারীরা আবার বৈঠক ডেকে জমি নিয়ে বিরোধ সম্পর্কে পুলিশের কাছে অভিযোগ করায় ফাতিরের কাছে কৈফিয়ত চান। একপর্যায়ে তাঁরা ফাতিরকে একঘরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। সাত-আট বছর আগে সেটেলমেন্ট জরিপের সময় ফাতির ও শরাফতের মধ্যকার জমিসংক্রান্ত বিরোধ মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয় ওই মাতব্বরেরা ফাতির আলীর পরিবারকে এখনো একঘরে করে রেখেছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় মাতব্বর আপ্তাব আলী, উস্তার আলী ও ছমির উদ্দিনের ভাষ্য, ফাতির আলী ও তাঁর স্ত্রী সালিস বৈঠকের বয়োজ্যেষ্ঠ লোকজনের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেছেন। তাঁদের ক্ষমা চাইতে বললেও রাজি হননি। তাই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই পরিবারকে একঘরে করে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফাতির আলী বলেন, গ্রামের কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে তাঁকে বারণ করে দেওয়া হয়েছে। পাশের গ্রামের মসজিদে গিয়ে তিনি নামাজ পড়েন।

ফাতিরের মেয়ে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ¯স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিনা বেগম বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি আমরা একঘরে। কারও সঙ্গে মিশতে পারি না, কথা বলতেও পারি না। কেন আমাদের এ শাস্তি দেওয়া হচ্ছে জানি না?’

No comments: