গাছগুলো তাঁর সঙ্গী

জুড়ী টাইমস সংবাদ: ছাদের ওপর সারি সারি টব-ড্রাম। কোনোটায় লাল আম ধরেছে, কোনোটায় সবুজ মাল্টা। মরিচের ভারে ঝুঁকে আছে বোম্বাই মরিচের ডাল। একধারে নেটের গা জড়িয়ে ওঠা আঙুরের লতায় থোকায় থোকায় আঙুর। এই গাছগুলোই আরসে জাহানের (৫৭) সঙ্গী। স্বামী-স্ত্রীর সংসারের সদস্য হয়ে উঠেছে এসব গাছ।

গ্রিন রোডের গ্রিন গার্ডেন এলাকার তিনতলা বাড়িটি আম-কাঁঠাল-আতাগাছে ঘেরা। শান্ত-ছিমছাম পরিবেশ। এই বাড়িতে বউ হয়ে আসার আগেই ১৯৭৫-৭৬ সালের দিকে বাগান করার শখ হয় আরসে জাহানের। ধানমন্ডিতে নিজেদের বাড়িতে ফাঁকা জায়গাও ছিল। সেভাবেই শুরু। এখানে আসার পর সেই শখের জায়গা হলো ছাদে। বললেন, ‘বাবার বাড়িতে জমিতে করেছি। এখানে তো সেই ব্যবস্থা ছিল না। তাই ছাদে করলাম।’

আমড়া, পেয়ারা, জামরুল, কতবেল, লেবু, জাম্বুরা, বরই, পেঁপে, কয়েক জাতের আমসহ বেশির ভাগই ফলের গাছ। আছে তেজপাতা, দারুচিনি, হলুদের মতো মসলার গাছ। চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, শসা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা, দুই জাতের বেগুন, কয়েক জাতের শাকও লাগানো হয়েছে। সব মিলিয়ে গাছের সংখ্যা প্রায় এক শ। আরসে জাহান বললেন, আগে তেজপাতা ব্যবসায়ীরা গাছসহ কিনে নিয়ে যেত। এখন প্রতিবেশী-আত্মীয়দের মধ্যে বিলিয়ে দেন। ফলের ভাগও নিয়মিত পান তাঁরা। বললেন, ‘ঘরের চাহিদা মিটলেই তো হলো। টমেটো-পেয়ারা কিছু কিনে খেতে হয় না। ছাদ থেকে তুলে শাকসবজি রেঁধে ফেলি। আমাদের ভালোভাবেই চলে যায়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর জাহানের ইচ্ছে থাকলেও চাকরি করা হয়নি। তিন ছেলেমেয়েকে বড় করে তুলতেই সময় চলে গেছে। সংসারের একঘেয়ে ব্যস্ততার বাইরে দম ফেলার জায়গা হিসেবে এই বাগান গড়ে তোলেন। এখন দুই মেয়ে শ্বশুরবাড়ি এবং ছেলে লেখাপড়ার সূত্রে দেশের বাইরে থাকেন।

আরসে জাহান বললেন, ‘এখন বাগান, এই গাছগুলো আমার বড় সঙ্গী। ওদের বাবা অসুস্থ। সংসার-কর্মের ফাঁকে এই বাগানে গেলে মনটা ভালো হয়ে যায়।’
ছাদে বাগান উৎসাহিত করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। লক্ষ্য—সবুজ ঢাকা গড়া। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গত বছর ঘোষণা করেছে, ‘বাড়ির ছাদ, বারান্দা বা আঙিনায় বাগান করলে বাড়ির মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্সের ১০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।’ উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এ বছর নগরবাসীর বাড়ির ছাদে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ডিএনসিসির সহায়তায় ‘গ্রিন ঢাকা’ নামে একটি সংগঠন বাড়িতে বাড়িতে কম দামে গাছ পৌঁছে দেওয়ার কাজও শুরু করেছে।

No comments: