অফিসার ইনচার্জদের প্রতি পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি: “ বিচার কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের নিজ কর্মের প্রতি আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং সততা কাঙ্খিত ন্যায় বিচারের পূর্বশর্ত ”এই শ্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবি, স্বাস্থ্য ও বন বিভাগের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত হয়েছে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স।

৭ এপ্রিল শুক্রবার সকালে মৌলভীবাজারে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মিলনায়তনে এ কনফারেন্সের উদ্বোধনকরেন মৌলভীবাজার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কিউ এম নাছির উদদীন।

এ সময় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ কিউ এম নাছির উদদীনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ারুল হক সহ বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ ও আইনজীবি বৃন্দ।

কনফারেন্সে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারাধীন মামলাসমূহের সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য বিচারক ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে বিভিন্ন ধরনের দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।

মার্চ মাসের শুরুতে ৭১৮৫টি মামলা বিচারাধীন ছিল। নতুন দায়ের হয়েছে ৬৩০টি মামলা, নিষ্পত্তি হয়েছে ৬০২টি, বর্তমানে ৭২১৩টি বিচারাধীন আছে এবং পাঁচ বছরের পুরাতন ৪৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে।

 ১ মার্চ পর্যন্ত মোট ৬৯৩৮টি গ্রেফতারী পরোয়ানা, ১২৪টি ক্রোকি পরোয়ানা, ১৫০৪টি সাক্ষী পরোয়ানা ও ১০২৩টি সাজা পরোয়ানা মুলতবী আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন মামলার আসামী আদালতের বাইরে থেকে একদিকে যেমন নতুন নতুন অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, বিচার ব্যবস্থা ও সরকারের অন্যান্য সংস্থা সম্পর্কে মানুষের আস্থার সংকট দেখা দিচ্ছে। তাই, বিভিন্ন পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রে আরও তৎপর হওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন থানা থেকে আগত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন। বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুততা ও দক্ষতার সাথে আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করত: প্রতিবেদন দাখিল, যথাসময়ে মামলার সাক্ষী উপস্থাপন নিশ্চিত করত: তাদের নিরাপত্তা বিধান, গ্রেফতারের পর আইনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এ.কিউ.এম নাছির উদদ্ীন বলেন যে, ফৌজদারী বিচার ব্যবস্থায় বিচার প্রশাসন, নির্বাহী প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ একে অপরের পরিপূরক। মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আন্তরিকতা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে একযোগে ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বিচার প্রার্থী মানুষের কল্যাণে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এক্ষেত্রে কারও অবহেলা কাম্য নয়। নারীর অধিকার, কারাবন্দিদের অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার সর্বোপরি মানবাধিকার সমুন্নত রেখে বিচারপ্রার্থী জনগণের কাঙ্খিত ন্যায় বিচার দ্রুততম সময়ে নিশ্চিতকরণ ও আইনের শাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কনফারেন্সে আগত সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে পারষ্পারিক তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে ও বিদ্যমান সমস্যাসমূহ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করলে কাজের মুল্যায়ন হয় এবং পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়।

No comments: