এক কর্মকর্তা দিয়ে ৩২৬ বিদ্যালয়ের তদারকি!

বিশেষ প্রতিনিধি: শিক্ষা কর্মকর্তা সংকটে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তদারকি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ উপজেলায় বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩২৬ হলেও কর্মকর্তা মাত্র একজন। ওই কর্মকর্তা একা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। যথাযথ তদারকি না থাকায় বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান নিম্নমুখী হবে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৮৩টি সরকারি বিদ্যালয়, সরকারের রস্ক প্রকল্পের অধীনে পরিচালিত ১২৬টি আনন্দ স্কুল, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক পরিচালিত ৬৪টি বিদ্যালয়, বিভিন্ন চা-বাগানে ১৫টি বেসরকারি বিদ্যালয় এবং ৩৮টি কিন্ডারগার্টেন আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একটি এবং সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তিনটি পদ রয়েছে। তবে ২০০৪ সালে জুড়ী উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শুরু থেকেই এখানে একজন শিক্ষা ও একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া এখানে অফিস সহকারীর তিনটি পদ রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত বছরের ১৮ আগস্ট শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হাইœস্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে এক বছরের জন্য একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ওই বছরের ২৮ আগস্ট পাশের কুলাউড়া উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তা শরীফুল ইসলামকে জুড়ীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২৩ ডিসেম্বর শরীফুল ঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি হয়ে গেলে জুড়ীর একমাত্র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রাজন কুমার সাহা শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। তিনিই এখন ৩২৬টি বিদ্যালয়ের দাপ্তরিকসহ সব ধরনের কার্যক্রম তদারকি করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী, গোয়ালবাড়ী ও সাগরনাল ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন অভিভাবক বলেন, তাঁদের এলাকায় অনেক শিক্ষক যখন খুশি তখন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন। পাঠদানেও মনোযোগী নন। প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে বসে তাঁদের গল্পগুজবেই ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। শিক্ষা কর্মকর্তারা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান না। পরিদর্শনে গেলে তাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতেন।

উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা রাজন কুমার সাহা বলেন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রতিদিনই তাঁকে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর মধ্যে সময় পেলে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান। তাঁর পক্ষে তিন শতাধিক বিদ্যালয় নিয়মিত তদারক করা কঠিন।
মৌলভীবাজারের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আলিম বলেন, ‘সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগের পরিচালক মৌলভীবাজারে এসেছিলেন। তাঁকে জুড়ীর সমস্যাটি জানিয়েছি।’

No comments: