তিন উপজেলায় ৯২ ঘণ্টা অন্ধকারে

বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-জুড়ী-বড়লেখা এই ৩ উপজেলায় পল্লীবিদ্যুতের ৪৩ হাজার এবং পিডিবির ১০ হাজার গ্রাহক ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ৯২ ঘণ্টা অন্ধকারে রয়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তাও বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। 

কুলাউড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে কুলাউড়া জুড়ী বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ দিয়ে জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন টানা হয়েছে। গত শনিবার ভোরে এই অঞ্চল দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। এতে কুলাউড়া উপজেলার আছুরি ঘাট এলাকায় ১১ কেভি লাইনের ৯টি খুঁটি হেলে পড়ে। এরপর থেকে বড়লেখা পল্লীবিদ্যুতের জোনাল অফিসের অধীনে ৪৩ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম দুর্ভোগের শিকার। শুধু গত রোববার ২ এপ্রিল রাতে ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল। এরপর থেকে এসব গ্রাহকরা বিদ্যুৎহীন। এছাড়া পিডিবির আওতাধীন কুলাউড়া উপজেলার জয়চণ্ডী ইউনিয়নের রঙ্গিরকুল, দক্ষিণ দিলদারপুর, নওয়াগাঁও এলাকাসহ আশপাশ এলাকার ১০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

জানা যায়, কুলাউড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্র থেকে কুলাউড়া জুড়ী বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ দিয়ে জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় ১১ কেভি বিদ্যুৎ লাইন টানা হয়েছে, লাইনে কাজের অনিয়মের কারণে আজ গ্রাহকরা এই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। খুঁটিগুলোর সোজা থাকার জন্য নিচে কোনো ধরনের সাপোর্ট বা খুঁটিতে টানা না থাকায় ঝড়ে খুুঁটিগুলো হেলে পড়ে। রোববার (২ এপ্রিল) হেলে পড়া খুঁটিগুলো সোজা করা হয়েছে। কিন্তু ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।

বড়লেখা বারইগ্রামের গোবিন্দ দত্ত, হাটবন্দ আব্দুল মুকিত, বালুচরের বাবুল মিয়া, বড়লেখা পৌরশহরের ব্যবসায়ী আবদুল আজিজ জানান, সামান্য ঝড়েই যদি খুঁটিগুলো হেলে পড়ে তাহলে কালবৈশাখী ঝড়ে কি অবস্থা হবে? বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ৩৬ ঘণ্টা পার হতে চলেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন গ্রাহকের ফোনও রিসিভ করছে না।

এ ব্যাপারে পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম নীল মাধব বণিক জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে। তবে কখন বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তাও তিনি সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। তবে চেষ্টা চলছে। বৃষ্টির কারণে লাইন মেরামতে বিলম্ব হচ্ছে।

No comments: