‘’সিলেটিদের কথা শুনবে না’ সিলেট উৎসব!

বিশেষ প্রতিনিধি: উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা নিজেদের পছন্দ জানিয়ে আবদার করলেন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো সিলেটের কথা শোনা হবে না। আমাদের সাজানো নিয়ম ও সিডিউল মত এবং উপস্থিত ‘বিদেশি গেস্টদের’ পছন্দমতোই চলবে অনুষ্ঠান।

মাইক হাতে এমন ঘোষণা দেওয়া হলো ‘আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসবে’র মঞ্চে। ঘোষণাটি দিলেন সিলেটের সংস্কৃতি অঙ্গনের ‘প্রতিনিধিত্বকারী’ বাচিকশিল্পী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন।

ক’দিন আগে সিলেটে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সংস্কৃতি উৎসবে সিলেটের দর্শকদের পছন্দ নিয়ে তীর্যক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার রেশ না কাটতেই একই ধরনের অভিজ্ঞতার শিকার হতে হলো সিলেটের দর্শকদের। মঞ্চ থেকে তাদের ও বিদেশি গেস্টদের পছন্দের বিষয়ে গুরুত্বের কথা বলা হলেও দর্শকসারিীতে বিদেশি মুখ তেমন দেখা গেলো না।

‘গেস্ট’দের প্রায় সকলেই সিলেটের স্থানীয়। আয়োজকদের সাথে কথা বলেও বিদেশি গেস্টদের সম্পর্কেও তেমন ধারণা পাওয়া যায়নি। কেউবা বলছেন ত্রিশ জন, কেউবা বলছেন পঞ্চাশ জন, কারো হিসেবে শ’ খানেক। উপস্থিত স্থানীয় দর্শকদের তুলনায় এ সংখ্যা একেবারে নগণ্য হলেও আয়োজকরা তাদের ও  বিদেশি গেস্টদের প্রতিই গুরুত্ব দিতে চান।

‘বিনামূল্যে’র অনুষ্ঠানে তাদের পছন্দের হয়তো গুরুত্ব নাও মিলতে পারে কিন্তু টাকা দিয়ে টিকেট কেটে এসে বাঁকা মন্তব্য শুনে অনেকেই ব্যথিত হয়েছেন।

দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আবদুস শহীদ অনেকটা ক্ষোভের সুরেই বললেন, সিলেটি হওয়াটা কি কোনো অপরাধ? তিনি বলেন, সিলেট যদি পছন্দ নয় তবে সিলেট উৎসব আয়োজনের প্রয়োজনটাইবা কি?

উৎসবের আয়োজন নিয়েও অনেকের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে উৎসবের আয়োজন হলেও। আয়োজন নিয়ে দর্শকদের অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রবেশ মুখে ভুল বানানে ঝুলানো ফেস্টুনটিই যেনো উৎসবে বিশৃঙ্খলা-অসঙ্গতির প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে দর্শকদের চোখে ধরা দেয়। ভেতরে প্রবেশের পর পদে পদে আরো বিশৃঙ্খলা তাদের চোখে ধরা দেয়।

আয়োজনে বিশৃঙ্খলা ও ঘাটতি দেখে উৎসবে আসা ব্যবসায়ী নজরুল হোসেনের মন্তব্য, সিলেটে এতো সচ্ছ্বল এলাকায় এ রকম দৈন্য অনুষ্ঠান একেবারেই মানায় না। ফ্রান্স প্রবাসী রজত কান্তি দে অনেকটা ক্ষোভের সুরেই বললেন, সিলেটের অনেক গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানও এর চেয়ে বেশি সুন্দর হয়।

টিকিট নিয়েও অভিযোগ আছে অনেকের। তিন শ’ টাকা দিয়ে নিবন্ধনের মাধ্যমে টিকিট নিয়েও বাড়তি কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না দর্শকরা। পঞ্চাশ টাকার টিকিটে যে সুবিধা মিলছে নিবন্ধিতরাও এর থেকে বেশি কিছু সুবিধা পাচ্ছেন না।

উৎসবের আয়োজকদের একজন একটি অনলাইন নিউজপোর্টালকে বললেন, আর্থিক সংকটের কারণে উৎসবটিকে পরিকল্পনামতো সাজানো যায়নি। স্পনসর থেকে খুব একটা অর্থ সংগ্রহ করা যায়নি।

স্থানীয় মামুন, সোহান, শিরিন, পারভীন বলেন, জালালাবাদের মত এত বড় একটি আন্তর্জাতিক সিলেটিদের সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে এমন একটি বিশৃঙ্খল অনুষ্ঠান হবে আমরা চিন্তাই করিনি। এই অনুষ্ঠান একটি ব্যবসায়ী অনুষ্ঠান হয়েছে।

No comments: