জুড়ীর পাঁচটি চা-বাগানে মজুরি-রেশনের দাবিতে ইউএনও’র কার্যালয় ঘেরাও

বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় মজুরি, রেশন, চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে পাঁচটি চা-বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন। তিন ঘণ্টা পর ইউএনও দাবি আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে তাঁরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

নিউ ধামাই টি কোম্পানির অধীনে জুড়ীতে পাঁচটি চা-বাগান আছে। এগুলো হচ্ছে ধামাই, ধামাইয়ের ফাঁড়ি শিলঘাট, সোনারুপা, সোনারুপার ফাঁড়ি পুঁচি ও আতিয়াবাগ। কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায়। পাঁচটি বাগানে শ্রমিক-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে পাঁচটি বাগানের দেড়-দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ধামাই বাগানের পূজামণ্ডপে জড়ো হন। সেখান থেকে তাঁরা মিছিলসহকারে সাত-আট কিলোমিটার হেঁটে বেলা একটার দিকে উপজেলা সদরে এসে ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করেন। কর্মসূচি চলাকালে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টি এস্টেট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহবুব রেজা, চা-শ্রমিক ইউনিয়নের জুড়ী ভ্যালি কমিটির সভাপতি কমল বুনারজি, ধামাই বাগান শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি যাদব রুদ্রপাল, সোনারুপা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি বাদল রুদ্রপাল প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাঁচটি চা-বাগানে অব্যবস্থাপনা চলছে। পাঁচটি বাগানের স্থায়ী শ্রমিকদের ১৮ সপ্তাহের রেশন বাকি। অস্থায়ী শ্রমিকেরা ২৮ সপ্তাহের মজুরির টাকা পাননি। কর্মচারীরা নয় মাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না। শ্রমিক সরদারদের তিন মাসের বেতন বকেয়া। শ্রমিকদের ভবিষ্য তহবিলের টাকা জমা হচ্ছে না। বাগানে চিকিৎসক-ওষুধ নেই। শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে না।

পরে ইউএনও মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান দাবির ব্যাপারে বাগানের মালিক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বেলা তিনটার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ইউএনওর মাধ্যমে তাঁদের দাবি-সংবলিত স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠান।

ধামাই বাগানের শ্রমিক পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি যাদব রুদ্রপাল বলেন, ‘দাবি পূরণে দ্রুত কোনো উদ্যোগ নেওয়া না হলে আমরা রাস্তায় নামব।’

ইউএনও মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান বলেন, ধামাই টি কোম্পানির চেয়ারম্যানকে তিনি মুঠোফোনে দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসককেও বিষয়টি জানিয়েছেন। দাবি পূরণে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ না নিলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোম্পানির চেয়ারম্যান সাফিয়া আসাফ আলী মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি বাগানে নিয়মিত প্রয়োজনীয় টাকা পাঠাই। কিন্তু বাগান ম্যানেজাররা হিসাবে নয়ছয় করে ফেলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় বাগানে যেতে পারছি না। তবে শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি-দাওয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

No comments: