শেষ হলো আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব

সাইফুল ইসলাম সুমন: ‘শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য সম্প্রীতির অভিযাত্রা’ স্লোগান নিয়ে সিলেটে গত ৬ মার্চ সোমবার বর্ণিল আয়োজনে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭ইং। সিলেট অঞ্চলের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, ভাষা ও শিল্পসম্ভারের এই উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সিলেটিদের পাশাপাশি পাশের দেশ ভারতে বসবাসরত সিলেটের আঞ্চলিক ভাষাভাষী ও প্রবাসীরাও যোগ দেন। তাঁদের উপস্থিতিতে উৎসব পরিণত হয় এক অন্য রকম মিলনমেলায়।
ওইদিন সকাল সাড়ে ১১টায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সি এম তোফায়েল সামি। শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখায় অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ‘সিলেটের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনার হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসৈনিক ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আব্দুল আজিজ। অনুষ্ঠানে বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চেয়ারপারসন ড. আহমদ মোশতাকুর রাজা চৌধুরী। মুখ্য আলোচক ছিলেন পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সিলেট অঞ্চলের সংগীত, নৃত্য ও ঐতিহ্য দিয়ে সাজানো ছিল অনুষ্ঠান। 

এদিকে ৭ মার্চ সোমবার শেষ হয় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব ২০১৭ইং। 
ওইদিন ‘সিলেটের যোগাযোগ, অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন’ শীর্ষক ‘সিলেটের পর্যটন ও পরিবেশ উন্নয়ন’ ও ‘সিলেটের বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও প্রবাসীদের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক তিনটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র (সাময়িক বরখাস্তকৃত) আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাইয়ুম চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জগলুল পাশা। বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট পর্যটন বিশেষজ্ঞ মো: জামিউল আহমদ, পর্যটন বিশেষজ্ঞ ডা: জাকারিয়া হোসেন, শাবিপ্রবির নগর উন্নয়ন বিভাগের প্রফেসর ড. জহির বিন আলম, রূপালী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. আহমদ আল কবির, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান এম সাফওয়ান চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ঢাকার সভাপতি সি এম তোফায়েল সামি, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি সালাহ উদ্দিন আলী আহম, ব্রিটিশ-বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক সভাপতি শাহগীর বখত, এনআরবি ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহতাবুর রহমান নাসির, সেকিল চৌধুরী।

পরে অনুষ্ঠিত হয় গুণীজন সংবর্ধনা ও জালালাবাদ স্বর্ণপদক প্রদান। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত গুণীজন হলেনÑ অধ্যাপক মো: আবদুল আজিজ (শিক্ষা), সাবেক উপাচার্য মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি রনজিৎ দাস (ক্রীড়া), ডা: এম এ রকিব (চিকিৎসা), সুজেয় শ্যাম (সঙ্গীত), শীলা রায় (নারী জাগরণ), অ্যাডভোকেট মনির উদ্দিন আহমদ (আইন পেশা), সালেহ চৌধুরী (সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধ)। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বেগম রাশেদা কে চৌধুরী ও সফি সামী। সংবর্ধনাপ্রাপ্ত গুণীজনের সংক্ষিপ্ত গুণীজনের পরিচয় তুলে ধরেনÑ মো: আবদুল মান্নান, মিশফাক আহমদ চৌধুরী মিশু, তাহমিনা আহাদ রোজী, নজরুল ইসলাম বাসন, শামসুল বাসিত শেরো, ডা: মনজুরুল হক চৌধুরী, অধ্যাপিকা শামীমা চৌধুরী।

‘সিলেটের যোগাযোগ, অবকাঠামো ও নগর উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তার বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে না। অবকাঠামোগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। সিলেটের ক্ষেত্রে নগর উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিলেটের যোগাযোগ, অবকাঠামোগত অবস্থা উন্নত না হলেও সম্ভাবনার অফুরন্ত দ্বার সিলেটের উন্নয়নকে অনেক দূর এগিয়ে দিতে পারে। নগর উন্নয়নের জন্য, সর্বোপরি সুন্দর সিলেট শহর বিনির্মাণের জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।

‘সিলেটের পর্যটন ও পরিবেশ উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেন, প্রাকৃতিক নিসর্গের অপরূপ লীলাভূমি সিলেট অঞ্চল। কিন্তু উপযুক্ত পরিচর্যা এবং তত্ত্বাবধানের অভাবে সিলেটের পর্যটন শিল্প তেমন উন্নত হচ্ছে না। সঠিক স্থান নির্ণয় এবং পরিকল্পিত উপায়ে ব্যবস্থা নিলে সিলেটের পর্যটন শিল্প হয়ে উঠবে অনন্য। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সিলেট স্বকীয়তা ধরে রেখে বিশে^র মধ্যে স্থান করে নেবে।

No comments: