বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ তৈমুছ আলী এমপির ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

সাইফুল ইসলাম সুমন: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বাংলার সূর্যসন্তান জুড়ী ও বড়লেখা আওয়ামীলীগের সংগঠক ও মুক্তি সংগ্রামের নেতৃত্বদানকারী গন পরিষদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ তৈমুছ আলী এমপির ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

১৭ মার্চ শুক্রবার বাদ জুম্মা জুড়ী বড় মসজিদে তৈমুছ আলী এমপি স্মৃতি পরিষদের আয়োজনে এক দোয়া, মিলাদ ও অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সভায় তৈমুছ আলী এমপি স্মৃতি পরিষদের সাধারন সম্পাদক ইমরুল ইসলাম এর পরিচালনায় ও এমদাদুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা শাখাওয়াত হোসেন, বড় মসজিদের খতীব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আব্দুল কাদির দারা, স্থানীয় নুরুল ইসলাম, তারা মিয়া, লুৎফুর রহমান মিতুল, উপজেলা তাতিলীগের আহবায়ক গোলাম রাব্বানী চৌধুরী, সদস্য সচিব সাইফুল আলম ফজল প্রমূখ।

১৯৩৩ সালের ১৫ই মার্চ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বাদে ভূকশিমইল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। দীর্ঘাঙ্গি ও অসীম সাহসী তৈমুছ আলী জমিদারী উচ্ছেদ আন্দোলনের মিছিল মিটিং করে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। তৈমুছ আলী এমপি রেফারেন্ডামেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তিনি ৫২ ভাষা আন্দোলনে ছিলেন সক্রিয় ভাষা সৈনিক। তিনি মোজাহিদ বাহিনীতে যোগ দেন ও ক্যাপ্টেন পদে উন্নিত হন। তিনি ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধে সমশের নগরে যুদ্ধ করেন। তিনি আয়ূব বিরোধী আন্দোলনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন। 

তৈমুছ আলী এমপি ৬ দফা আন্দোলনের পক্ষে  জুড়ী, কুলাউড়া ও বড়লেখায় ব্যাপক প্রচার কার্য্য পরিচালনা করে সর্বস্তরের রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ও কর্মীদের মধ্যে অন্যরকম পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ৬৯ এর গণ আন্দোলনে বিরাট ভূমিকা রাখেন। তার ব্যাক্তিত্বের প্রভাব জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নজরে আসেন। তৈমুছ আলীর এই সব অবদানের কথা জানতে পেরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সিলেট ১২ (বর্তমানে মৌলভীবাজার-১) আসনে প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেন। উক্ত নির্বাচনে তৈমুছ আলী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। 

তৈমুছ আলী এমপি বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। শিক্ষানুরাগী ও শ্রেষ্ট ক্রীড়াবীদ সংগঠকও ছিলেন তিনি। তিনি বিভিন্ন নাটকেও অভিনয় করেছেন। লাঠি টানা ও পাঞ্জা লড়াইয়ে অত্র অঞ্চলের মধ্যে শ্রেষ্ট ব্যাক্তিও ছিলেন তিনি। 

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ এর ভাষনের পর তৈমুছ আলী এমপি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেন। তৈমুছ আলী এমপিই প্রথম অত্র অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন।  তৈমুছ আলী এমপ’র গড়া মোজাহিদ বাহিনীকে নিয়ে পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে রুখে দাড়ান। পর্যায়ক্রমে জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী’র সাথে আলোচনা করে সেক্টর কমান্ডার সি.আর দত্ত’র অধীনে একত্রিত হয়ে ধর্মনগর যুব ক্যাম্পের প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। 

দেশ স্বাধীন হলে বিধ্বস্ত দেশ গড়ার কাজে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন তৈমুছ আলী এমপি। তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশের সংবিধান রচনায় কার্যকরী পরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন। 

এক পর্যায়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের স্বড়যন্ত্র ও চক্রান্ত্রের মূখে পড়েন  তৈমুছ আলী এমপি। শুরু হয় তৈমুছ আলী এমপিকে  হত্যার পরিকল্পনা ও কাজ । প্রথমে রাতের অন্ধকারে ধামাই চা-বাগান এলাকায় তার গাড়ীতে গুলি চালানো হলে সৌভাগ্যক্রমে তিনি বেচে গেলেও তার সঙ্গী আহমদ শহীদ হন এবং তার গাড়ী চালক গুলিবিদ্ধ হন। তার পরও স্বড়যন্ত্রকারীরা থামেনি। ১৯৭৪ সালের ১৭ই মার্চ রাত ৮ টায় জুড়ী বাসস্ট্যান্ডস্থ নিজ বাসার সামনে আততায়ীদের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন তৈমুছ আলী এমপি। দেশ হারালো এক দেশ প্রেমিক যোদ্ধাকে। আজও শোকাহত জুড়ীবাসী শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাদের প্রিয় নেতা শহীদ তৈমুছ আলী এমপিকে। 

১৭ মার্চ শহীদ তৈমুছ আলী এমপির ৪৩ তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর এই দিনে সরকারের কাছে জুড়ীবাসীর একটাই দাবি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অতি প্রিয় এই মানুষটির স্মৃতি ধরে রাখতে জুড়ী উপজেলা চত্বরটি “ শহীদ তৈমুছ আলী এমপি “ নামে নামকরন করা হউক।

No comments: