৬ বছর ধরনা দিয়েও প্রতিবন্ধি ভাতা জুটেনি জুড়ীর হরিপ্রসাদের

বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে দীর্ঘ ৬ বছর ইউনিয়ন অফিস আর সমাজসেবা কার্যালয়ে ধরনা দিয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা জুটেনি হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী হরিপ্রসাদ চৌহানের ভাগ্যে। ভাতা পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়ে দেয়া বৃদ্ধ
হরিপ্রসাদ (৬৫) সর্বশেষ চেষ্টা হিসেবে বুধবার ইউএনও’র কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানীতে অংশ নেন। করুণ সুরে দীর্ঘদিনের আক্ষেপের কথা বললে ইউএনও নাছির উল্লাহ খানের বিবেকে নাড়া পড়ে। তিনি তাৎক্ষনিক সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। আর এতেই প্রতিবন্ধী হরিপ্রসাদ চৌহানের চোঁখে মুখে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠে।

জানা গেছে, উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ গ্রামের হতদরিদ্র শারীরিক প্রতিবন্ধী হরিপ্রসাদ চৌহান বিগত ৬ বছর ধরে সামান্য প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্যালয়ে ধরনা দেন। অভাবের তাড়নায় বারবার তাদের কাছে অনুনয় বিনয় করলেও তাদের মন গলেনি। জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারী কর্মকর্তা কর্ম অক্ষম এ প্রতিবন্ধী বৃদ্ধকে কেবল অবজ্ঞাই করেছেন। অবশেষে বুধবার শেষ চেষ্টা স্বরূপ জুড়ী ইউএনও কার্যালয়ে নিয়মিত অনুষ্ঠিত গণশুনানী চলাকালে সাহস করে ঢুকে পড়ে সমস্যার কথা জানালে ইউএনও নাছির উল্লাহ খান সহানুভুতি আর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রায় ৬ বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য অনেকের নিকট ঘোরাঘুরি করে প্রতিবন্ধী ভাতা না জুটার বিষয় জেনে অবাক ও মর্মাহত হয়ে তাৎক্ষণিক পশ্চিম জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও সমাজসেবা কর্মকর্তাকে ভাতা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। আর এতেই দরিদ্র প্রতিবন্ধী হরিপ্রসাদ চৌহানের চোঁখে মুখে আত্মবিশ্বাস আর তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠে।

ইউএনও নাছির উল্লাহ খান জানান, দরিদ্র এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিটির ক্ষেত্রে অতীতে কেন এমন আচরণ করা হলো তা বুঝতে পারছি না। গরীব ব্যক্তিটির হাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড তোলে দিতে ব্যক্তিগতভাবে তিনি চেষ্টা চালাবেন।

No comments: