জুড়ীতে সরু বেইলি সেতু পার হতে যত দুর্ভোগ

সাইফুল ইসলাম সুমন: মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর এলাকায় অবস্থিত একটি সরু বেইলি সেতু পার হতে দীর্ঘদিন ধরে লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতুটি পার হওয়া নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছুটতে হয় পুলিশকে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাছিরপুরে জুড়ী নদীর ওপর আগে আরসিসি গার্ডার সেতু ছিল। ১০ থেকে ১২ বছর আগে ওই সেতুর একাংশ ভেঙে গেলে সেখানে বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। বেইলি সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৩ দশমিক ১৭ মিটার এবং প্রস্থে ৩ দশিমক ৬৭ মিটার। এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন দুই-আড়াই হাজার বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক থেকে সেতুটি বেশ উঁচুতে। এ ছাড়া চওড়া কম থাকায় সেতুর ওপর দিয়ে একসঙ্গে বিপরীতমুখী দুটি বড় গাড়ি অতিক্রম করতে পারছে না। এক প্রান্ত থেকে আসা গাড়ি সেতু অতিক্রমের পর অন্য প্রান্তের গাড়ি সেতু পার হচ্ছে।

সিলেটের বিয়ানীবাজার থেকে রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হওয়া যাত্রীবাহী রূপসী বাংলা পরিবহনের বাসের চালক আবদুল হান্নান বলেন, ‘এই রোডে চিপা ব্রিজ এইটাই। এর উপর দিয়া প্রত্যেক দিন হাজারো গাড়ি চলে। ব্রিজটা পার হইতে ১০-১৫ মিনিট সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন ব্রিজ হইলে এভাবে সময় নষ্ট হইতো না।’

বাছিরপুর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, সেতুর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত দেখা যায় না। অনেক সময় দুই প্রান্ত থেকে সেতুতে গাড়ি উঠে মুখোমুখি হয়ে পড়ে। চালকেরা কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি হন না। তখন উভয় প্রান্তের গাড়ির চালক ও যাত্রীদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়। এমনকি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন বলেন, বাছিরপুর এলাকার সেতু পার হওয়া নিয়ে গাড়ির চালক ও যাত্রীদের মধ্যে প্রায়ই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।

সেতু এলাকা দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা সওজ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, ওই স্থানে নতুন একটি আরসিসি কাম পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি অনুমোদন হলে দরপত্র আহ্বান করে কাজ শুরু করা হবে।

No comments: