পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রী : জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করুন

জুড়ী টাইমস সংবাদ: সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী লড়াইয়ে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জনগণই আমাদের মূল শক্তি। তাই প্রতিটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। নাগরিকদের সঙ্গে নিয়ে সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭ উপলক্ষে  মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্র সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেছুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান প্রমুখ বক্তৃতা করেন। সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাইবান্ধায় আমাদের এক সংসদ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। ওই সাংসদের বাসায় পুলিশ প্রহরা তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, কেন একজন সংসদ সদস্যের বাসা থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। তার বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে নিজের লাইসেন্স করা অস্ত্র তার কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হলো। এগুলো কিসের লক্ষণ? তিনি বলেন, মনে হলো একেবারে পরিকল্পিতভাবে ছেলেটাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হলো।

শেখ হাসিনা বলেন, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ থেকে শুরু করে সাঘাটা এসব এলাকায় ২০১৩ সালে চারজন পুলিশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দেয়া হয়েছিল, রেলের ফিসপ্লেট খুলে ফেলা হয়েছিল। অথচ সেখানকার একজন সংসদ সদস্যের নিরাপত্তার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে, কোন পত্রিকায় কি লিখল, সেটা সঠিক খবর কিনা- এসব না জেনেই কেন এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হলো, যার জন্য একজন সংসদ সদস্যকে জীবন দিতে হলো? তিনি বলেন, এটা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রধানমন্ত্রী মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ছোটখাটো ঘটনা হলেই দেখি ‘হাউকাউ’ শুরু হয়ে যায়। একজন সংসদ সদস্যকে হত্যা করার পর কোনো মানবাধিকার সংগঠন বা কেউ এ ব্যাপারে ‘টু’ শব্দ করল না। এ দেখি এক ‘অদ্ভুত’ দেশ।

প্রধানমন্ত্রী তার জঙ্গিবাদবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির কথা আবারো উল্লেখ করে বলেন, জঙ্গিবাদ যেন আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে জন্য পুলিশের অভিযান চালিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জঙ্গিরা ইসলামের অপব্যাখা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ ধর্ম মানুষ খুন সমর্থন করে না। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। অনেক দেশই এ সমস্যা সমাধানে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ এটাকে একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। কোনোভাবেই আমরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হতে দেব না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সব সময় চিন্তা হয়, যখনই দেশের মানুষ ভালো থাকে, স্বস্তিতে থাকে, উন্নতির দিকে এগিয়ে যায়, ঠিক তখনই কীভাবে যেন ষড়যন্ত্র আরো বেশি শুরু হয়। তিনি পঁচাত্তরের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৫ আগস্ট যখন ঘটেছিল, তখন দেশে খাদ্যভাব ছিল না। সব কিছু মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এসেছিল। প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের বেশি হচ্ছিল। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ এভাবে এগিয়ে যাবে, এটা অনেকে ভাবতেই পারেনি। ঠিক তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল।

এ দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখনো আমরা কিন্তু উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ প্রশংসিত হচ্ছে। কিন্তু ওই প্রশংসা শুনে মন গলা, এটা আমার স্বভাব না। সেখানেও সন্দেহের কিছু আছে কিনা, এটা আমাদের দেখতে হবে। তিনি বলেন, দেশ এভাবে এগিয়ে যাবে এটা অনেকে মেনে নিতে পারে না। আমাদের ঘরের শত্রুই বিভীষণ। কিভাবে দেশের ক্ষতি করবে সেই চিন্তায় তারা থাকে।

হলি আর্টিজানের জঙ্গি হামলা মোকাবেলায় পুলিশের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই জন পুলিশ জীবন দিয়ে গেছেন, কিন্তু তারা অনেকগুলো মানুষকে বাঁচিয়ে গেছেন, দেশের সম্মান বাঁচিয়ে গেছেন। এ রকম কর্তব্যবোধ ও দেশপ্রেম প্রতিটি পুলিশ সদস্যের মধ্যে থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

No comments: