বিনামূল্যে ৭ বছরে ২২৫ কোটি বই বিতরণ : পাঠ্যপুস্তক বিতরণ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

জুড়ী টাইমস সংবাদ: দেশের শিক্ষার মান নিয়ে যারা সমালোচনা করে আসছেন, তাদের কাছে ‘মানের’ ব্যাখ্যা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সরকার ২২৫ কোটি ৪৫ লাখ বই বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেছে। বছরের প্রথম দিন তাদের হাতে বিনামূল্যের বই তুলে দিতে পারার আনন্দই অন্য রকম।

নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে গতকাল শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পড়াশোনার মান নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন, তাদের বলব একদিনে সবকিছু হয়ে যায় না। মানের মাত্রাটা কী? সেটার ব্যাখ্যা এখনো পাইনি। যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের কাছ থেকে মানের মাত্রাটা যদি পেতাম।

অষ্টমের সমাপনী জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষায় এবার ৯৩.০৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮৮ জন ছাত্রছাত্রী। আর পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে ৯৮.২৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, তাদের মধ্যে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৬ জন পেয়েছে জিপিএ-৫। এ দুটি পর্যায় ছাড়াও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পাসের হার ও পূর্ণ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতিবছর বাড়লেও তাতে শিক্ষার মান আসলে বাড়ছে কিনা সে প্রশ্ন তুলে আসছেন অনেকেই। সমালোচকদের মতে, পরীক্ষায় এখন আর মেধা যাচাই হয় না, এটা ‘গণহারে পাসের’ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

এই সমালোচকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যদি ভলান্টারি সার্ভিস দিতেন, কোনো কোনো এলাকায় মাত্রা ঠিক নেই, সেখানে গেলেন, দেখলেন, একটু পড়ালেন, সময় খরচ করলেন। তাহলে আমরা খুশি হতাম।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানও ‘সব সময় পরিবর্তনশীল’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একটা কথা বলে ফেললেই হবে না। সেটা কীভাবে কার্যকর করা যায় আর কার্যকর করায় সহযোগিতা করা উচিত বলে আমি মনে করি। আমরা চাই মনের বিকাশ, মেধার বিকাশ ও মননের বিকাশ।

তিনি বলেন, নতুন বই পেলে আনন্দের অনুভূতি হয়। সুন্দর এই অনুভূতি পড়ালেখার আগ্রহ বাড়ায়। এ জন্যই আমরা প্রতিবছর সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেই।

২০১৭ সালের প্রথম দিন রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবের মধ্যদিয়ে চার কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর হাতে এবার ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই ও শিক্ষা উপকরণ তুলে দেয়া হবে। দুই মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ঢাকায় হবে দুটি কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান। এ বছর সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯ হাজার ৭০০টি ব্রেইল বই বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের দেয়া হবে নিজেদের ভাষায় প্রাক-প্রাথমিকের ৫১ হাজার ৭৮২টি বই এবং ২৫ হাজার ২১৮টি শিক্ষাউপকরণ।

গণভবনের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের কয়েকজন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পুস্তক তুলে দেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তার দুই নাতনি শ্যামা (সায়মা হোসেন পুতুলের মেয়ে) এবং তানিতার হাতে প্রথম শ্রেণির বই তুলে দেন।

তিনি বলেন, বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার আরেকটি কারণ আছে। অনেক বাবা-মা তাদের ছেলেমেয়েদের বই কিনে দিতে পারে না। অনেকে অবহেলার কারণেও বই কিনে দেয় না। তাই বছরের প্রথম দিন আমরা তাদের হাতে বই তুলে দেই, যাতে সন্তানদের পড়ালেখার জন্য বাবা-মায়ের কোনো অজুহাত না থাকে।
শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রাথমিক ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে নিজের অবস্থান ও যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এতে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ভীতি দূর হয়। তা ছাড়া আগে বাছাই করে কয়েকজনকে বৃত্তির জন্য আলাদাভাবে পড়ানো হতো। এখন সেই বৈষম্য দূর হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার লাল-সবুজের ওপর বর্ণমালা ছাপা দুটি উত্তরীয় প্রধানমন্ত্রীকে পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা হয়।

No comments: