জুড়ী মুক্ত দিবসে জুড়ী টাইমস এর আলোচনা সভা

জুড়ী টাইমস সংবাদ: আজ ৫ ডিসেম্বর সোমবার মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী এলাকা পাক হানাদার মুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী বছর ১৯৭২ সাল থেকে ৫ ডিসেম্বর জুড়ী মুক্ত দিবস হিসাবে পালিত হয়। ১৯৭১ সালের ১ ডিসেম্বর ভারতের বাঘপাশায় মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনী যুদ্ধের সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অপেক্ষায় ছিল। 

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেয়ে ৩ ডিসেম্বর রাতে সীমান্তের রাঘনা বটুলী এলাকায় জুড়ী নদীর উপর অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনী বিনা বাঁধায় ফুলতলা ইউনিয়নের ফুলতলা বাজার সম্পুর্ন দখল করে নেয়। ওই রাতেই যৌথ বাহিনী পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললে হানাদার বাহিনী পিছু হঠতে বাধ্য হয়। রাতের মধ্যেই সাগরনাল ইউনিয়ন যৌথ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। 

৪ ডিসেম্বর রাতে যৌথ বাহিনী জুড়ী শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে রত্না চা বাগানের নিকট হানাদার বাহিনীর সাথে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে অনেক হতাহতের পর রাত ৩টার দিকে যৌথ বাহিনী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলে। ৫ ডিসেম্বর মুক্তি বাহিনী ও মিত্র বাহিনী জুড়ী শহর দখল করে নেয়। ওই দিন জুড়ী এলাকায় উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা।

এদিকে জুড়ী মুক্ত দিবস উপলক্ষে জুড়ী টাইমস অনলাইন পত্রিকা কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভা জুড়ী টাইমস কার্যালয়ে আজ সোমবার (৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় জুড়ী টাইমস সম্পাদক ও প্রকাশক সাইফুল ইসলাম সুমনের সভাপতিত্ব এবং বার্তা সম্পাদক এম রাজু আহমেদ এর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জুড়ী টাইমস নির্বাহী সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মো: ফখরুল ইসলাম, জুড়ী টাইমস এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো: ইকবাল খান প্রমূখ। 

সভায়  ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জুড়ীর শহীদ আব্দুর নুর ও আব্দুর রহিমের নামে সরকার ২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করায় বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশী জুড়ীর ২ টি বধ্যভূমিকে সংরক্ষনের দাবি জানান বক্তরা।

No comments: