কে হচ্ছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ?

জুড়ী টাইমস সংবাদ: সারাদেশের ন্যায় আগামী ২৮ ডিসেম্বর মৌলভীবাজারে প্রথম ধাপের জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলায় বিরাজ করছে উৎসব আমেজ। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারনায় ব্যস্ত সময় কাঠাচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রতীক সম্বলিত লিফলেট হাতে প্রার্থীরা ছুটছেন কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত। বিরামহীন চলছে তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। প্রতিদিনই দফায় দফায় প্রার্থীদের পক্ষে চলছে ভোট প্রার্থনা। তুলে ধরছেন নিজের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রার্থীদের সমর্থকরা ভোটারদের কাছে করছেন আবেদন নিবেদন। সবার মুখে একটি কথা কে হচ্ছেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের আগামী দিনের কান্ডারী।

আসন্ন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, সাধারন সদস্য পদে ৮৬ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। নির্বাচনে সাধারণ সদস্য ১৫ পদের বিপরীতে ৮৬ জন ও সংরক্ষিত সাধারণ মহিলা সদস্য ৫ পদের বিপরীতে ২২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ইলেক্ট্ররাল কলেজ পদ্ধতিতে ভোট হওয়ায় এবারই দেশে প্রথম জন প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

চেয়ারম্যান পদে সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ও আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী মো:আজিজুর রহমান (চশমা), সাবেক এমপি ও ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এম শাহীন (আনারস), যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এম এ রহিম শহিদ (মোটরসাইকেল), সিনিয়র সাংবাদিক বকসি ইকবাল আহমদ (ঘোড়া), যুক্তরাজ্য প্রবাসী কমিউনিটি নেতা সুহেল আহমদ (তালগাছ), যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন সাবুল (প্রজাপতি) প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আজিজুর রহমান ছাড়া ৫ জনই দল নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবী করে মাঠে কাজ করছেন। তবে এদের মধ্যে আজিজুর রহমান হচ্ছেন আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী। বাকী ২জন এম এ রহিম (সিআইপি), শাহাবুদ্দিন সাবুল দলীয় পরিচয়ে আওয়ামী লীগ বিদ্যোহী প্রার্থী।

সাধারন সদস্য পদে ১ নং ওর্য়াডে আবু আহমদ হামিদুর (ঘোড়ি), দেলোয়ার হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা), জাহিদুল ইসলাম (টিউবয়েল), নাহিদ আহমদ (তালা), মো:আব্দুন নূর (উটপাখি) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ২নং ওর্য়াডে মো: নজরুল ইসলাম (হাতি), মো:ফয়জুল হক (অটোরিক্সা), মো: সেলিম উদ্দিন (বৈদ্যুতিক পাখা), লোকমান আহমদ (তালা), শহীদুল আলম শিমুল (ক্রিকেট ব্যাট), স্বপন কুমার চক্রবর্তী (টিউবয়েল) প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৩নং ওর্য়াডে আজিম উদ্দিন (বৈদ্যুতিক পাখা), মো: ফখরুল ইসলাম (টিউবয়েল), আব্দুল কাদির (অটোরিক্সা), মো: জুবের হাসান জেবলু (তালা), সুব্রত কুমার দাস (হাতি) প্রতিক বরাদ্দ পেয়েছেন। ৪নং ওয়ার্ডে আব্দুল হান্নান (তালা), জুয়েল আহমদ (ক্রিকেট ব্যাট), মো: ইমরুল ইসলাম (টিউবয়েল), জাহাঙ্গীর আলম (অটোরিক্স), বদরুল ইসলাম (হাতি), জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী (বৈদ্যুতিক পাখা) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৫নং ওয়ার্ডে আব্দুল জব্বার (বক), দেলোয়ার হোসেন (বৈদ্যুতিক পাখা), বদরুল আলম (হাতি), মো:আব্দুল মতলিব (অটোরিক্সা), বদরুল ইসলাম (ঘুড়ি), মো:ময়নুল ইসলাম (টিফিন ক্যারিয়ার), মো: ময়নুল হক (ক্রিকেট ব্যাট), সি এম জয়নাল আবেদীন (টিউবয়েল), সেলিম আহমদ (তালা) প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৬নং ওয়ার্ডে খন্দকার মুহিবুর রহমান মলাই (বৈদ্যুতিক পাখা), নওয়াব আলী সাজ্জাদ খান (ঘোড়ি), ফরিদ উদ্দিন আহমেদ (ঢোল), মো: আব্দুল মানিক (বেহালা), মো: আব্দুল লতিফ (ক্রিকেট ব্যাট), মো: আব্দুস শহীদ (টিফিন ক্যারিয়ার), মো: মুহিবুল ইসলাম আযাদ (হাতি), মো: লুৎফুর রহমান (অটোরিক্সা), মো: শফিউল আলম (তালা), সুয়েল আহমদ (টিউবয়েল) প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৭নং ওয়ার্ডে মো: মঈনুল হক (তালা), এমএ আহাদ (টিউবয়েল), নাসির উদ্দিন আহমদ (ঘুড়ি), মো: আতাউর রহমান (ক্রিকেট ব্যাট), মো: আব্দুল্লাহ আল মামুন (অটোরিক্সা), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (বৈদ্যুতিক পাখা), সেলিম আহমদ (হাতি) প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৮নং ওর্য়ার্ডে বদরুল হোসেন (হাতি), আব্দুল আজিজ বদরুল (তালা), মো: আব্দুল হাকিম তালুকদার (অটোরিক্সা), মো: এহতেশামুল হক (টিউবয়েল), মো:ফজর আলী (ক্রিকেট ব্যাট), রওনক আহমেদ (বৈদ্যুতিক পাখা), সৈয়দ আবুল কালাম আযাদ (ঘুড়ি), হুমায়ুন আলম (ঢোল) প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৯নং ওর্য়ার্ডে শেখ মাহমুদুর রহমান (ঘুড়ি), আবু তাহেল রানা (তালা), এলেমান হোসেন (অটোরিক্সা), মো:আতাউর রহমান (উটপাখি), মো: শাহাজান তালুকদার (ক্রিকেট ব্যাট), মো: হুমায়ুন তালুকদার (টিউবয়েল), মোহাম্মদ মবশ্বির আহমদ (হাতি), শিবব্রত চক্রবর্ত্তী (বৈদ্যুতিক পাখা) প্রতিক বরাদ্দ পেয়েছেন। ১০ নং ওয়ার্ড: আকবর আলী (বৈদ্যুতিক পাকা), মাহবুব ইজদানী (ঘুড়ি), মো:মামুনুর রশিদ (তালা) প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ১১নং ওয়ার্ডে মো: ইমরান (টিউবয়েল), হাসান আহমদ জাবেদ (তালা), সুজিত দাস (অটোরিক্সা) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ১২ নং ওয়ার্ডে বিকুল চক্রবর্তী (হাতি), মোছাব্বির আলী মুন্না (বক), মো: নিয়ামুল হক তরফদার (অটোরিক্সা), পরিমল দাশ (বৈদ্যুতিক পাখা), মো: আফজল হক (টিউবয়েল), মো:মশিউর রহমান (তালা ) প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ১৩নং ওয়ার্ডে নাজিম উদ্দিন (অটোরিক্সা), পংকজ আউলেসিয়োসস কন্দ (তালা), মো: আবুল বাসার (বৈদ্যুতিক পাখা), মো: বদরুজ্জামান সেলিম (টিউবয়েল) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ১৪ নং ওয়ার্ডে কমলা বাবু সিংহ (টিউবয়েল), গোলাম রব্বানী তৈমুর (অটোরিক্সা), হেলাল উদ্দিন (তালা) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ১৫নং ওয়ার্ডে মো: ইলিয়াছুর রহমান (টিউবয়েল), মো: মুর্শেদুর রহমান (তালা), মো:মুহিবুর রহমান (অটোরিক্সা) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।

সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে ১নং ওয়ার্ডে জুবেদা ইকবাল (ফুটবল), আমেনা বেগম (হরিণ) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন । ২নং ওয়ার্ডে শিরিন আক্তার চৌ: মুন্নি (মাইক), জিশান আরা বেগম (টেলিফোন), আজিবুন খানম (হরিণ), ফরহান বেগম চৌধুরী (দোয়াত কলম), মোছা: আমেনা আক্তার (ফুটবল), মোছা: খোদাজা বেগম (বই), শিল্পী বেগম (টেবিল ঘড়ি)। ৩ নং ওয়ার্ডে রাজিয়া সুলতানা শেখ (ফুটবল), মুক্তি চক্রবর্ত্তী (টেবিল ঘড়ি), রাকিবা সুলতানা তালুকদার (দোয়াত কলম)। ৪ নং ওয়ার্ড রহিমা আক্তার (বই), রেজিয়া রহমান (ফুটবল), সৈয়দা জেরিন আক্তার (টেবিল ঘড়ি), সুরাইয়া ইয়াছমিন (হরিণ) প্রতিকে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। ৫ নং ওয়ার্ডে তরফদার রেজওয়ানা ইয়াছমিন (বই), মমতা আক্তার সুমী (মাইক), মুন্না দেব রায় (দোয়াত কলম), মেরী রাল্ফ (হরিণ), শেলী রানী পাল (টেবিল ঘড়ি), রোকশানা আক্তার (ফুটবল) প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৭টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ৬৭টি ইউনিয়নে মোট (নির্বাচকমন্ডলীর সদস্য) ভোটার ৯৫৬ জন। জেলার ৭টি উপজেলার ১৫টি ওয়ার্ডে মোট ১৫টি কেন্দ্রে ভোটাররা ভোট প্রদান করবেন। তাই সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণ না থাকায় মাঠে ঘাঠে হাটে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অনান্য নির্বাচনের মত নয় ততটা সরগরম। তারপরও প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় অনেকটা জমে উঠেছে নির্বাচনী আমেজ। আর হাতে মাত্র কয়েকটা দিন। এখন প্রার্থীদের একটাই লক্ষ্য যে ভাবেই হউক ভোটারদের কাছে শেষ মুর্হুতে তাদের মনজয় করে মূল্যবান ভোট নিজেদের ভাগে আনা। অভিযোগ উঠেছে ভোট বাণিজ্যের। একটি ভোটের বিনিময়ে ভোটাররা গ্রহণ করছেন লক্ষাধিক টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র। ভোটের মাঠে প্রার্থীরা সরব হলেও ভোটাররা রয়েছেন নিরব। চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও বসে নেই সদস্য প্রার্থীরাও। চেয়ারম্যান প্রার্থীর তুলনায় সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকার আয়তন ও ভোটার কম হলেও তাদের মত তারাও হরদম ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। প্রত্যাশা ভোটারদের মন জয় করে তাদের কাঙ্খিত রায় পাওয়ার। এখন জেলা বাসীর চোখ একদিকেই কে হবে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

No comments: