প্রাথমিকে কমেছে, ইবতেদায়িতে বেড়েছে : পিইসি

জুড়ী টাইমস সংবাদ: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় (পিইসি) এবার পাসের হার ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে পাসের হার ৯৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পাসের হার প্রাথমিকে কমেছে শূন্য দশমিক ০১ শতাংশ ও ইবতেদায়িতে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। গত বছর প্রাথমিকে পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ৫২ ও ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। এরফলে জেএসসির শিক্ষার্থীদের চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই পিইসি শিক্ষার্থীরা। ভাল ফলাফলে তারা বেশ এগিয়ে রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে সকালে গণভবনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ হস্তান্তর করেন তিনি।

এবার দুটি সমাপনীতে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৬ জন। এরমধ্যে প্রাথমিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুই লাখ ৮১ হাজার ৮৯৮ জন, অন্যদিকে ইবতেদায়িতে পেয়েছে পাঁচ হাজার ৯৪৮ জন। দুটি পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় ৬ হাজার ৩৯৩ জন বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৮১ হাজার ৪৫৩। এরমধ্যে প্রাথমিকে দুই লাখ ৭৫ হাজার ৯৮০ জন, অন্যদিকে ইবতেদায়িতে পেয়েছিল পাঁচ হাজার ৪৭৩ জন।

দুটি পরীক্ষায় ৩০ লাখ ৮৮ হাজার ২৩৪ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে পাস করেছে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ২৫০ জন। প্রাথমিকে মোট অংশ নিয়েছে ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৪ পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৪৩২ জন। অন্যদিকে ইবতেদায়িতে অংশ নিয়েছে দুই লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ জন। পাস করেছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৮ জন। প্রাথমিকে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ৪ হাজার ৩৩২ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪ হাজার ১৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ইবতেদায়িতে ২০৯ জন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ১৯৮ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জেএসসি পরীক্ষার মতো প্রাথমিকের পরীক্ষা দুটিতে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল ভালো হওয়ার পাসের হার ৯৮ শতাংশের উপরে উঠেছে। প্রাথমিকের বিষয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলায় পাস করেছে ৯৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, ইংরেজিতে পাস করেছে ৯৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, গণিতে পাস করেছে ৯৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে পাস করেছে ৯৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ, প্রাথমিক বিজ্ঞানে পাস করেছে ৯৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষায় পাস করেছে ৯৯ দশমিক ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী। ঢালাও নম্বর দেয়ার কথা অস্বীকার মন্ত্রীর : প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার শতভাগের কাছাকাছি নিতে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে এবার ঢালাওভাবে নম্বর দেয়ার অভিযোগ ওঠেছে। পরীক্ষকদের এ বিষয়ে আলাদা নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। গতকাল সচিবালয়ে ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষার বিস্তারিত ফল প্রকাশের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লোকমুখে তো কত কথাই হয়।

প্রাথমিক সমাপনীতে এবার ৯৮ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং ইবতেদায়িতে ৯৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। সমাপনী পরীক্ষায় ঢালাও পাসের হার নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে, অনেকে শিক্ষার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। উত্তরপত্রে লিখতে না পারলেও শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এমন প্রশ্ন তিনি আগেও শুনেছেন, কিন্তু এর কোনো বাস্তবতা পাননি। আমার তিন বছরে আমি এমন নির্দেশনা দেইনি। গত কয়েকবছরে বেশ কয়েকজন সচিবও এই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমার জানামতে, তারাও এমন নির্দেশনা দেননি। এ বিষয়ে আপনাদের স্পষ্ট করে আমি বলছি, এ ধরনের কোনো ইন্সট্রাকশন নাই যে, কোনো স্কুলে শতভাগ পাস না করলে কোনো অসুবিধা বা অন্যকোনো কিছু হবে। যেখানে যেটা হবে সে রেজাল্টই আমরা এখানে দেব, এখানে বানানো কোনো রেজাল্ট নাই। নিয়মানুযায়ী যেটা হয়েছে সেটাই, এর বেশি কিছুই নাই। যারা ৯৯ পেয়েছে, তারা ৯৯-ই পেয়েছে, ৯৮ দেখাবার তো সুযোগ নেই।

No comments: