কাউন্সিল না করেই জুড়ীতে পল্লি চিকিৎসক সমিতির অবৈধ কমিটি গঠনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে কাউন্সিল ও কোন প্রকার মতবিনিময় সভা না করেই পল্লি চিকিৎসক সমিতির একটি অবৈধ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা পল্লি চিকিৎসক সমিতির শীর্ষ নেতারা। 

পল্লি চিকিৎসক সমিতির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, প্রায় ৬ মাস পূর্বে জুড়ী উপজেলা পল্লি চিকিৎসক সমিতির মেয়াদ শেষ হয়। গঠনতন্ত্র মোতাবেক উপজেলার সকল সদস্যদের নিয়ে একটি কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক কমিটি অনুমোদন করবেন। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে দেখা যায় দীর্ঘ দিনের সভাপতি ডা: কাজী আকমল হোসেনের মৃত্যুর পরপর ডা: এম. এ কাইয়ুম ভূইয়া সভাপতি হওয়ার জন্য ৩/৪ জন লোক নিয়ে কোন প্রকার কাউন্সিল ও মতবিনিময় সভা না করে এবং জেলা কমিটিকে না জানিয়ে কেন্দ্রিয় সভাপতি ও সম্পাদককে ম্যানেজ করে একটি পকেট কমিটি গঠন করেছে। 

পল্লি চিকিৎসক সমিতির উপদেষ্টা ডা: কাঞ্চন কুমার চক্রবর্তী বলেন, আমাদের জুড়ী উপজেলা পল্লি চিকিৎসক সমিতির অনেক সুনাম রয়েছে। কিন্তু আমাদের সুযোগ্য সভাপতি ডা: কাজী আকমল হোসেনের মৃত্যুর পর ২/৩ জন মিলে একক ভাবে কমিটি করতে পারেনা। এই কমিটি কিভাবে করা হলো তা আমি জানিনা। 

পল্লি চিকিৎসক সমিতির আরেক উপদেষ্টা ডা: বিমল দত্ত বলেন, আমাদের না জানিয়ে ঘড়ে বসে এই ভাবে যদি কমিটি করা যায় তবে সংগঠন করে লাভ কি ? আমরা এই কমিটির সাথে নাই। যখন গণতন্ত্র ও গঠনতন্ত্র মোতাবেক কমিটি হবে তখনই আমরা সক্রিয় হবো। কোন প্রকার কাউন্সিল ছাড়াই এইরকম কমিটি করা হবে আমি চিন্তাই করিনি।                                                                    

বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আশীষ অধিকারী বলেন, আমাকে ডা: কাইয়ুম ভূইয়া টেলিফোন করে জানান আমাকে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।  

বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক ডা: আব্দুল করিম বলেন, আমাকে বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক করা হয়েছে এটা আমি জানিনা। কে ? কারা ? কিভাবে ? আমাকে প্রচার সম্পাদক করলো আমি কিছুই বলতে পারিনা। পল্লি চিকিৎসক সমিতির মত এত বড় একটি সংগঠনের কমিটি কারো পকেটে থাকতে পারেনা। আমি এই ধরনের পকেট কমিটি বিলুপ্ত করে সবার অংশগ্রহনের মাধ্যমে একটি গ্রহনযোগ্য ও সুন্দর কমিটি গঠনের জন্য জেলা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদককে অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে সাবেক কমিটির সহ সাধারন সম্পাদক ডা: শামীম, ডা: ইয়াকুব ও ডা: ফখরুদ্দিন পাঠান বলেন, কোন সদস্যদের না জানিয়ে ডা: কাইয়ুম ভূইয়া এই ধরনের কমিটি কিভাবে করলো ? আমরা জেলা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে এবিষয়টির সাংগঠনিক বিচার চাই।                                  

জানতে চাইলে জেলা পল্লি চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ডা: শামসুন্দর ঘোষ্যামী বলেন, জুড়ী উপজেলা পল্লি চিকিৎসক সমিতির বর্তমান কমিটি আমি অনুমোদন দেইনি। তারা কিভাবে কমিটি করলো আমি জানিনা।                                                                   

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় পল্লি চিকিৎসক সমিতির সভাপতি ডা: সবুজ আলী বলেন, জুড়ীতে সম্প্রতি সময়ে আমি একটি কমিটি অনুমোদন দিয়েছি কিন্তু কিছু অভিযোগ আসায় আমি বিভাগীয় ও জেলা কমিটির নেতাদের বলেছি বিষয়টি সমাধান করে দেওয়ার জন্য। 

No comments: