ছাঁদুয়া নিঃসৃত রস না হলে কাজের গতি পায় না চা শ্রমিকরা

জালাল আহমদ :: মদ এবং তাড়ির পাশাপাশি নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার জন্য চা শ্রমিক জনপদে ব্যবহৃত অন্য উপকরণের নাম হচ্ছে ছাঁদুয়া। এই ছাঁদুয়া নিঃসৃত রস পাকস্থলিতে না ঢুকলে কর্ম উদ্যোগে গতি আসে না বলে একটি মিথ চালু আছে চা শ্রমিক সমাজে। তামাক পাতাকে তাঁতিয়ে গুঁড়ো করে তার সাথে চুন মিশিয়ে হাতের তালুতে ডলে তৈরি করা হয় মিশ্রণ। এই মিশ্রণকে ট্যাবলেট বানিয়ে জিহ্বার নিচে রেখে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ে চা শ্রমিকরা।

বাগানের চা পাতা প্যাকিংরত নারী শ্রমিক থেকে শুরু করে ক্ষেতে খামারে কর্মরত পুরুষ শ্রমিকরাও ছাঁদুয়া সেবনে অভ্যস্ত। নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার জন্য রাতে চোলাই মদ ও তাড়ি এবং দিনের কর্ম-কোলাহলে যথাযথভাবে নিয়োজিত থাকার জন্য শতাধিক বছর আগেই ছাঁদুয়া সেবনের অভ্যাস রপ্ত করানো হয়েছিলো চা শ্রমিকদের।

চা শ্রমিকদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, মৌলভীবাজার তথা সিলেট অঞ্চলে চা বাগানের গোড়াপত্তন কাল থেকেই কর্মরত শ্রমিকরা ছাঁদুয়া সেবনে অভ্যস্ত ছিলো। এখন বংশপরম্পরায় তা ব্যবহার অব্যাহত আছে। জেলার কমলগঞ্জের এনটিসি মালিকানাধীন চা বাগানের মহিলা শ্রমিক ইন্দুবালা নাড়– জানান, ছাঁদুয়া না হইলে কামে মৌজ আসে না বাবু। লাকড়ি তৈরিতে চা শ্রমিক মিলু কাহান জানায়, ছাঁদুয়া হইলো গিয়া টনিক। দেখেন না কিভাবে কুড়াল মারতেছি।

মৌলভী চা বাগানের ব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ জানান, ছাঁদুয়া সেবনের পর চা শ্রমিক মহিলারা ঘণ্টায় ৪ গ্লাস পানি পান করে। পাহাড়ি জোঁকের গায়ে ছাঁদুয়া প্রয়োগ করলে ৫/৭ মিনিট ছটফট করার পর জোঁক মারা যায়। অথচ চা শ্রমিকরা এই দ্রবণ সেবনের পর কিভাবে গতি সঞ্চয় করে তা বলা মুশকিল। মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: জিল্লুল হক জানান, তামাক পাতা ও চুন উভয়টি ক্ষতিকারক। এর মিশ্রণ সেবনে আমেজ অনুভূত হলেও এক সময় সেবনকারীর পাকস্থলি ও যকৃতের ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।

No comments: