স্বপ্নে আাঁকা প্রতিচ্ছবির মতোই শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওর

বিশেষ প্রতিনিধি: পড়ন্ত বিকেলে রক্তিম সূর্যের আলোয় লালচে আকাশ। রাখালরা গরু নিয়ে বাড়ি ফিরছে। জেলেরা তীরে নৌকা ভিড়াচ্ছে। একদল জেলে নৌকার বৈঠা কাঁধে এক প্রান্তে জাল অন্য প্রান্তে মাছের ঝুড়ি বেঁধে গাঁয়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছে। পাখির দল এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে ছুটে চলছে। যতোদূর চোখ যায় শুধু সৌন্দর্য্যই দেখা যায়। এমনই অপরূপ দৃশ্য আর কোথাও নয়, ধরা দেয় মৌলভীবাজরের চা শহর শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে। মনে হয় যেনো স্বপ্নের মতো আঁকা এক প্রতিচ্ছবি। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী এই হাইল হাওর প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য ও জীবন-জীবিকার বিবেচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়ন তথা-কালাপুর, শ্রীমঙ্গল, ভূনবীর ও মির্জাপুর নিয়ে গঠিত এ হাওর।

শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী হাইল হাওর হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। মৌলভীবাজার জেলাধীন সদর উপজেলার কিয়দংশ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার বৃহদাংশ নিয়ে বিস্তৃত হাইল হাওর পাখি, মৎস্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত। এ হাওরকে এককালে বলা হতো বৃহত্তর সিলেটের মৎস্যভাণ্ডার। হাওরটি বর্ষায় ১৪ হাজার হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত হয়ে পড়ে এবং শুকনো মৌসুমে ৪ হাজার হেক্টর জলাভূমিতে সংকুচিত হয়ে যায়। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জীববৈচিত্রপূর্ণ অঞ্চলগুলোর অন্যতম এ হাওরটি ৯৮ প্রজাতির মাছের আবাসস্থল এবং ১৬০ প্রজাতির পাখির বিচরণক্ষেত্র। জীববৈচিত্র্য ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর হাইল হাওরের বাইক্কা বিল এখন জলজ সম্পদের অমূল্য ভাণ্ডার। শিক্ষা, গবেষণা ও চিত্ত-বিনোদনের জন্য এই বিল এখন অনন্য একটি পর্যটন স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখানকার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক শোভা দেখে পর্যটক ও প্রকৃতিপিপাসুরা বিমোহিত হয়ে যান। গত ৩/৪ বছর ধরে মানুষ প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য্য উপভোগ করার জন্য এখানে ছুটে আসছেন। পর্যটক কিংবা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বরাবরই প্রিয় মৌলভীবাজার। কিন্তু এখানে যে চমৎকার একটি হাওর আছে, এটা খুব কম পর্যটকই জানেন। অবশ্য সেখানে ভ্রমণে যাওয়ার পর জানতে পারেন। হাইল হাওরের আসল সৌন্দর্য্য হলো,সেখানকার নানা প্রজাতির পাখি। বহুদিন ধরেই সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বারো মাসই হাইল হাওর মুখরিত থাকে পাখিদের কলতানে। আর শীতকালে অতিথি পাখিদের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে।এ সময় স্থানীয় পাখির পাশাপাশি অসংখ্য প্রজাতির পাখি এসে ভীড় জমায় সেখানে।

বর্ষা মৌসুমে হাইল হাওরের সুনীল জলরাশি চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। শুধু পানি আর পানি। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নৌকা ভ্রমণের উৎকৃষ্ট স্থান হলো, এই হাইল হাওর। ভোরে ঘুমন্ত হাইল হাওর যেনো জেগে ওঠে। হাওরের চারপাশে হাজার হাজার মৎস্যজীবির মাছ আহরণের দৃশ্য অত্যন্ত মোহনীয়। বিকেলের হাইল হাওর থাকে যেনো পাখিদের দখলে। সন্ধ্যায় হাইল হাওরে ভ্রমণ করলে মনে হবে সারা রাত কাটিয়ে দিই পাখিদের এ রাজ্যে। তাই অপার সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য এখনই বেরিয়ে পড়তে পারেন যে কেউ।

No comments: