বড়লেখার আগর শিল্প পাচ্ছে না সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা

আব্দুর রব: টিলায়-সমতলে সারি সারি করে সৃজিত গাছের নাম আগর। সবুজ অরণ্যে একাধারে চলছে পূর্ণ হওয়া গাছগুলো কর্তন এবং নতুন চারা রোপণের কাজ। সুনিপুণ হাতে এ কাজটি করছেন কয়েক হাজার দক্ষ শ্রমিক। সবার প্রচেষ্টায়ই গড়ে উঠেছে প্রকৃতিনির্ভর আগর শিল্প। বড়লেখার আগর শিল্পটি এখনও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে না। প্রায় ৬শ’ বছর ধরে চালু এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন দেশ-বিদেশের দেড় লক্ষাধিক নারী ও পুরুষ। এ শিল্প নিয়ে আশাবাদের সঙ্গে হতাশার দিক হচ্ছে- নারী শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হন প্রতিনিয়ত। বৈদেশিক আয়ের উৎস হিসেবে আগর শিল্প একটি স্বকীয় অবস্থান দীর্ঘদিন থেকে তৈরি করেছে। কিন্তু প্রাচীন এ শিল্প হালে শিল্পের মর্যাদা পাচ্ছে না। এর জন্য সংশ্লিষ্টরা সরকারের উদাসীনতাকেই দায়ী করেছেন। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের অভিযোগ, অনেক আবেদনের পর চুলোয় গ্যাস সংযোগ পাওয়া গেলেও গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে শিল্পের মর্যাদা পাচ্ছে না। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে হয়। ফলে ইউনিট প্রতি প্রায় ১০ টাকা বাড়তি বিল গুনতে হয়। আগর শিল্প গড়ে ওঠায় বড়লেখার সুজানগর ইউনিয়ন সেই কবে থেকে আগর গ্রাম হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। এ সুখ্যাতির অংশীদার পার্শ্ববর্তী দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ও উত্তর ইউনিয়ন এলাকাও। সারা বিশ্বে বড়লেখার আগর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যবসায়িকভাবে শিল্পসংশ্লিষ্টরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। কিন্তু বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদফতর এত বছরেও এ শিল্পকে নিয়ে তেমন আগ্রহী হয়ে উঠেনি। ফলে আর্থিক দিক দিয়ে কারখানা মালিকপক্ষ লাভবান হলেও সরকারের সম্পৃক্ততা না থাকায় বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ। জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহাব উদ্দিন জানান, দেশে প্রায় ৮০ লক্ষাধিক যুবক বেকার রয়েছেন। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের বড় একটি খাত হতে পারে আগর শিল্প। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এসব কারখানায় প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। এ শিল্পের জন্য বড়লেখায় একটি নির্দিষ্ট শিল্পনগরী গড়ে তোলা হলে আরও অনেক শ্রমিকের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত এ শিল্পের উন্নতির জন্য সব প্রকার চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার এটিকে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মর্যাদা দিয়েছে। আগর-আতর কুটির শিল্প রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমদ জানান, প্রায় ৬০০ বছর ধরে এ অঞ্চলে আগর থেকে আতর উৎপন্ন করা হচ্ছে। সুজানগরের আগর ভারতবর্ষ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্তু বিস্তৃত। বিশ্বে সর্বোৎকৃষ্ট মানের আতর একসময় একমাত্র সুজানগরে উৎপন্ন হলেও এখন সুজানগরসহ বড়লেখার বিভিন্ন এলাকায় এবং পার্শ্ববর্তী বিয়ানীবাজারেও তা ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পরিতাপের বিষয় জালালাবাদ গ্যাস এ শিল্পকে শিল্প হিসেবে গণ্য করছে না। ফলে প্রতি মাসে দ্বিগুণ গ্যাস বিল দিতে হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মজুরির বিষয়টি শুধু নারী শ্রমিক নয় সবার ক্ষেত্রেই একই নিয়ম। কেজিপ্রতি ২০ টাকা পারিশ্রমিক। এর চেয়ে কম পারিশ্রমিকে কেউ কাজ করলে সেটা তার নিজস্ব ব্যাপার।

No comments: