কমলগঞ্জের চা বাগানগুলোতে দিবা রাত্রিতে চলছে জুয়ার মহোৎসব

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি: হিন্দু ধর্মীয় কালি পূজাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ২২টি চা বাগানে তিন দিন ধরে দিবা রাত্রিতে প্রকাশ্যে চলছে জুয়ার মহোৎসব। চা বাগানের ছাত্র, যুবক ও কিশোররাও জড়িয়ে পড়েছে জুয়া খেলায়। চা বাগানের বাইরের পেশাদারী জুয়াড়ীরা প্রতি রাতে চা বাগান এলাকা থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দিবা রাত্রি প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রহস্যজনকভাবে নিরবতা পালন করছেন। কমলগঞ্জর শমশেরনগর, আলীনগর, কানিহাটি, মাধবপুর, কুরমা, পদ্মছড়া চা বাগান এলাকা ঘুরে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসার দৃশ্য দেখা যায়।

সাধারন চা শ্রমিকদের মাঝে জন¯্রােতি আছে কালি পূজার সময় সারারাত চা বাগান এলাকায় জুয়ার আসর বসে। এ জনস্রোতিকে কেন্দ্র করে এখন প্রতি বছরই কালি পূজার এক দিন আগে থেকে শুরু করে টানা এক সপ্তাহ চা বাগানের প্রতিটি রাস্তায় প্রকাশ্যে বসে জুয়ার আসর। দিনের বেলা ও সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত চা শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আয়ের টাকা দিয়ে জুয়া খেলে পরবর্তীতে ঘটি বাটি বিক্রি করেও জুয়া খেলে থাকে। রাত বাড়ার সাথে সাথে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পেশাদার জুয়াড়ীরা চা বাগানের এই জুয়ার আসরগুলিতে বসে বড় অংকের টাকায় জুয়া খেলে থাকে।

শমশেরনগর চা বাগানের অবসরপ্রাপ্ত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক অপূর্ব নারায়ন, কমলগঞ্জের সমাজ সেবক ও লেখক আহমদ সিরাজ বলেন, ভুয়া জন¯্রােতির উপর ভিত্তি করে চা বাগানের সাধারন সহজ সরল চা শ্রমিকদের ভুলিয়ে চা বাগানে কালি পূজার সময় জুয়ার মহোৎসব বসে। কালি পূজা এক রাতে হলেও জুয়ার আসর জমজমাট থাকে এক সপ্তাহ ধরে। তিনি আরও বলেন, জুয়া খেলা একটি সামাজিক ব্যাধি ও ক্ষতির কারক। আর কোন ধর্মেই ক্ষতিকারক জুয়া খেলা মেনে নেয় না। এতে অসহায় চা শ্রমিক পরিবার নিঃস্ব থেকে আরও নিঃস্ব হচ্ছে।

চা শ্রমিক সন্তান ইউপি সদস্য ও মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক সীতারাম বীন চা বাগান এলাকায় দিনে রাতে প্রকাশ্যে জুয়ার আসরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, জুয়া খেলা সম্পূর্ণরুপে বেআইনী। আর পুজায় ক্ষতি করে এমন বেআইনী কিছু করা ঠিক নয়। আসলে সহজ সরল চা শ্রমিকদের ও তাদের পরিবার সদস্যদের সরলতার সুযোগে জন¯্রােতিকে কাজে লাগিয়ে বাগানের বাইরের পেশাদার জুয়াড়ীরা এসব করছে। বিষয়টি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দেখেও কেন নিরবতা পালন করছে তা তিনি বুঝছেন না। শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহমদ কালি পূজার সময়ে চা বাগান গুলোতে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসার কথা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা চাইলে এই জুয়ার আসর আধা ঘন্টায় ভেঙ্গে দিতে পারে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক জুয়াড়ী বলেন, আপনারা লিখে কি হবে প্রতি বছর এসময় পুলিশ সদস্যদের ম্যানেজ করেই জুয়ার আসর বসে। তারা আরও জানান কমলগঞ্জ উপজেলার মাঝে সবচেয়ে বড় জুয়ার আসর বসে শমমেরনগর চা বাগানের আদম টিলা ও ভজন টিলা শ্রমিক বস্তির রাস্তায়। শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক আবু সায়েম মো: আব্দুর রহমান বলেন, চা বাগানের কোথাও জুয়ার আসর বসেনি। তবে কালি পূজা উপলক্ষে চা শ্রমিকরা হাল্কা আকারে জুয়া খেলার আয়োজন করেছিল। তিনি সেই জুয়ার আসর উচ্ছেদ করেছেন।
 
মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোল্লা মোহামম্মদ শাহীন বলেন, তিনি কয়েকটি সূত্র থেকে চা বাগান এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসরের কথঅ শুনেছেন। কমলগঞ্জ থানা কর্তপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

No comments: