কুলাউড়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে কলেজছাত্রীকে মারধর

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এক কলেজছাত্র শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনেই এক ছাত্রীকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের ক্যাম্পাসে এই ঘটনা ঘটেছে।

মারধরকারী ছাত্রের নাম নাঈম মিয়া (১৯)। তিনি কুলাউড়া পৌর শহরের চাতলগাঁও এলাকার বাসিন্দা আবদুল হান্নানের ছেলে। তিনি কুলাউড়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় পুলিশ তাঁর বাবা আবদুল হান্নানকে (৫০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের সূত্রে জানা গেছে, ওই ছাত্রী (১৭) একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। গতকাল সকালে কলেজে আসার পর নাঈম তাকে ডেকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে তিনি ছাত্রীর হাতে ধরে টেনে তাকে কলেজ ভবনের ছাদে নিয়ে যেতে চান। এ সময় ছাত্রী নাঈমের কাছ থেকে হাত ছাড়িয়ে দ্রুত শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে। কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি শিক্ষকদের জানায়। পরে শিক্ষকেরা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম শেষে শিক্ষক মিলনায়তনে উপস্থিত থাকতে বলেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই ছাত্রী সহপাঠীদের সঙ্গে শিক্ষক মিলনায়তনে যাচ্ছিল। এ সময় নাঈম হঠাৎ ছুটে এসে তাকে (ছাত্রী) চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ ঘটনাটি দেখে ‘ধর, ধর’ বলে চিৎকার শুরু করলে নাঈম দ্রুত তাঁর মোটরসাইকেল চালিয়ে কলেজ থেকে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ কলেজে গিয়ে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ সময় পুলিশ নাঈমের বাবা হান্নানকে কলেজের পাশে পেয়ে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বিকেলে থানায় অভিযোগ দিতে আসা কলেজছাত্রী ও তার মা বলেন, নাঈম বেশ কিছু দিন ধরে ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি কলেজের শিক্ষকদের আগেই জানানো হয়। এ সময় শিক্ষকেরা থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিলেও মানসম্মানের কথা চিন্তা করে ছাত্রীর অভিভাবকেরা কিছু করেননি।
কলেজের অধ্যক্ষ সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, নাঈম শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনেই ছাত্রীকে চড় মেরেছে। তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানান।

কুলাউড়া থানার ওসি মো. শামসুদ্দোহা বলেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নাঈম ঘটনাটি ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

No comments: