মজুরির টাকা ছিনিয়ে নেওয়ায় জুড়ীতে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বিশেষ প্রতিনিধি : মজুরির টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ধামাই টি কোম্পানি পরিচালিত ধামাই, শিলঘাট ফাঁড়ি ও আতিয়াবাগ চা-বাগানের শ্রমিকেরা গত শুক্রবার থানার সামনে বিক্ষোভ করেছেন। পরে সমঝোতা বৈঠক করে বিষয়টির সমাধান হয়।

শ্রমিক, বাগান কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনটি বাগানে দেড় হাজার শ্রমিক রয়েছেন। কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় টাকা না পাঠানোয় বাগান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ভবানীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রুসমতে আলমের কাছ থেকে বাকিতে শ্রমিকদের রেশনের চাল কেনেন। এ ছাড়া এলাকার ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে নগদ টাকা ধার নিয়ে শ্রমিকদের মজুরিও পরিশোধ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাগান কর্তৃপক্ষ ধারের টাকা পরিশোধ করছে না। এদিকে টাকার অভাবে দুই সপ্তাহ ধরে তিনটি বাগানের শ্রমিকের সপ্তাহিক মজুরি দেওয়া হয়নি।
মজুরি পরিশোধের জন্য শ্রম অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কোম্পানির ঢাকার প্রধান কার্যালয় থেকে উপজেলা সদরে অবস্থিত একটি ব্যাংকের শাখায় ১৫ লাখ ২৬ হাজার টাকা পাঠানো হয়। ব্যাংক থেকে ওই টাকা তুলে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাগানের একজন সহকারী ব্যবস্থাপক গাড়িতে করে বাগানে যাচ্ছিলেন। পথে উত্তর ভবানীপুর এলাকায় পৌঁছালে  রুসমতে আলম ও নাজমুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন গাড়িটি থামিয়ে বাগানের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে যান।

এর প্রতিবাদে গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তিনটি বাগানের ৭০০-৮০০ শ্রমিক জুড়ী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। বেলা দেড়টার দিকে সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল কুলাউড়া) জুনায়েদ আলম সরকার, জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন আহমদ, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী ও পশ্চিমজুড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মঈন উদ্দিন মইজন সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

জুড়ী থানার ওসি জালাল উদ্দিন আহমদ বলেন, মজুরির টাকা না পেয়ে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ব্যবসায়ী রুসমতে আলম রেশনের চাল বিক্রি বাবদ ধামাই বাগানের কাছে প্রায় ২৫ লাখ টাকা পান। তবে সমঝোতা বৈঠকে রুসমতে আলম ১৪ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সমুদয় বকেয়া টাকা বাগান কর্তৃপক্ষ প্রতি মাসে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করবে বলে লিখিত মুচলেকা দিয়েছে।

ধামাই বাগানের ব্যবস্থাপক মালিক নেওয়াজ বলেন, ধামাই টি কোম্পানির প্রধান কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় টাকা না পাঠানোর কারণে তাঁরা শ্রমিকদের নিয়মিত মজুরি দিতে পারেন না।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ধামাই টি কোম্পানির চেয়ারম্যান সাফিয়া আসিফ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

No comments: