জুড়ী রেল ষ্টেশন সড়কের বেহালদশা জনসাধারণের ভোগান্তি চরমে

মাহবুবুর রহমান :  মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা শহরের রেল ষ্টেশন সড়কের বেহালদশায় এ সড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। দীর্ঘদিন থেকে এ সড়কটি ভগ্নদশায় পরিণত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নির্বিকার।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, উপজেলা শহরের ভবানীগঞ্জ বাজার চৌমোহনী থেকে রেল ষ্টেশন হয়ে পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের নিকট জুড়ী-বড়লেখা সড়কের সাথে সংযুক্ত এক কিলেমিটার সড়কটি প্রায় তিন বছর আগে নতুন করে পাকাকরণ করা হয়। নিম্নমানের কাজের ফলে নির্মাণের দুই মাস না যেতেই রাস্তায় ভাঙ্গন শুরু হয়। সড়কটির বাজার এলাকায় বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের ভাল ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই এ সড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা জলাবদ্ধতা লেগে থাকে। তাছাড়া সম্প্রতি অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় পুরু রাস্তাটি দীর্ঘদিন পানিতে নিমজ্জিত ছিল। যার ফলে রাস্তার প্রায় ৮০ ভাগ অংশই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে পড়ে। ভবানীগঞ্জ বাজার চৌমোহনী থেকে এ সড়ক দিয়ে ইউনিয়নের হরিরামপুর, বাছিরপুর, আমতৈল, খাগটেকা, কৃষ্ণনগর, মোহাম্মদপুর এলাকার হাজার হাজার জনসাধারণ ও এলাকার কয়েক হাজার শিক্ষার্থী জুড়ী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, টিএন খানম একাডেমি ডিগ্রি কলেজ, হরিরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নয়াবাজার মাদ্রাসায় সিএনজি গাড়ী-রিকশা যোগে এবং পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেন। বড় বড় গর্তে পানি জমে রাস্তাটি ভগ্নস্তুপে পরিণত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এ সুযোগে রিকশা ও সিএনজি চালকরা দ্বিগুণ ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভঙ্গুর রাস্তা ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারনে স্থানীয় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রায় তিন বছর থেকে এ এলাকাবাসী দূর্ভোগ পোহালেও সেদিকে কেহ নজর দিচ্ছেনা। বছরের অধিকাংশ সময় রাস্তাটি জলাবদ্ধ থাকায় পাকা সড়ক মূহুর্তেই ভেঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে যায়। সে কারনে জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি আরসিসি ঢালাই করার জোর দাবি জানান এলাকাবাসী। 

এ বিষয়ে পশ্চিম জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাশ বলেন, ‘কোন বরাদ্ধ নেই, নিজের পকেটের ৫০/৬০ হাজার টাকা খরচ করে কিছু ভাঙ্গা অংশে ইট বিছিয়ে দিয়েছি’।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ ইশতিয়াক হাসান বলেন, ‘উচ্চ পর্যায়ের টিম রাস্তাটি পরিদর্শন করে গেছেন। এখানে আরসিসি ঢালাই করার কোন সুযোগ নেই। তবে মেরামতের একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে সেটি অনুমোদন হলেই টেন্ডার আহ্বান করা হবে’।

No comments: