জয়কে গুরুত্বপূর্ণ পদে চায় তৃণমূল

সাইফুল ইসলাম সুমন, ঢাকা থেকে:  প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনতে কাউন্সিলরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। এজন্য তারা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তৃণমূল নেতারা এ অনুরোধ জানান।

শনিবার সকাল ১০টা ১৩ মিনিটে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। জোহরের নামাজের পর শুরু হয় দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এ অধিবেশনে বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে একজন করে বক্তব্য দেন। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা সাংগঠনিক প্রতিবেদন জমা দেন। 

দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। এ অধিবেশনে সাংগঠনিক জেলাগুলোর লিখিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে। জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর শুরু হবে কাউন্সিল অধিবেশন।

প্রথম দিনের দ্বিতীয় অধিবেশনে চট্টগ্রাম বিভাগের পক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বিগত কাউন্সিলের চেয়ে এবারের কাউন্সিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কাউন্সিলে যিনি আগামীর নেতা নির্বাচিত হবেন, আমরা তার নেতৃত্বে এগিয়ে যাব। তার প্রতি থাকবে আমাদের পূর্ণ আস্থা। তার নেতৃত্বে সংগঠনকে আরো মজবুত করব, ইনশাআল্লাহ। প্রধানমন্ত্রী আমাদের ওপর এ আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সে অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দেশকে যখন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন আমরা আপনার (শেখ হাসিনা) হাতে আওয়ামী লীগকে তুলে দেই। এরপর আপনি এ দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছেন। আপনি কাদের সঙ্গে নিয়ে ২০২১ সালের মধ্যম আয়ের দেশ করবেন, সেটি আপনি জানেন। সজীব ওয়াজেদ জয় আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে কাজ করছে। আমরা চাই এ সম্মেলনের মাধ্যমে জয়কে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হবে।’

খুলনা বিভাগের পক্ষে খুলনা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগের শত্রু আমরা নিজেরাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ না থাকায় ষড়যন্ত্রকারীরা নানাভাবে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারছে। দেশে জঙ্গিবাদ তৈরি করছে দেশদ্রোহীরা। তাদের প্রতিরোধ করতে আমাদের ঐক্যের বিকল্প নেই। আমরা আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নগুলোকে যথাযথভাবে প্রচার করি না। বিনামূল্যে বই বিতরণ, বয়স্ক ভাতা, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ, মেট্রোরেলসহ হাজারো প্রশংসনীয় দিক আছে আওয়ামী লীগ সরকারের। যা বিগত সরকারগুলো চিন্তাও করতে পারেনি। আমরা কারো বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরব না। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ১৬ কোটি বাঙালিকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’

ঢাকা বিভাগের পক্ষে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দুটি উদ্দেশ্যে এ দেশকে স্বাধীন করেছেন- একটি হলো বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অন্যটি হলো এ দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। তিনি সার্বভৌমত্ব দিতে পেরেছেন। কিন্তু ঘাতকদের ষড়যন্ত্রের কারণে এ দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। যা বর্তমানে বাস্তবায়ন করছেন তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমরা তার নেতৃত্বে এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব দুর্বার গতিতে। এর জন্য আমাদের একতার বিকল্প নেই। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উত্তরসূরী ও ভক্ত হিসেবে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার যে বিপ্লব তা বাস্তবায়ন হবে। আমি আজকের এ সম্মেলনে দাবি তুলছি, এ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর দোহিত্র জয়কে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বস্থানীয় পদে দায়িত্ব দেওয়া হোক।’

রাজশাহী বিভাগের পক্ষে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘বগুড়া জেলাতে জঙ্গিবাদ সৃষ্টিকারী দল বিএনপি-জামায়াত কোনো তৎপরতা চালাতে পারেনি। যখনই কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চেষ্টা করেছে, বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিরোধ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে। বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে পুরো জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম। ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ।’

রবিশাল বিভাগের পক্ষে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সিলেট বিভাগের পক্ষে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুররহমানফারুক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বক্তব্য দেন।
সম্মেলন অধিবেশনে ক্ষমতাসীন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ।

No comments: