খাদিজার ‘সামান্য’ উন্নতি, শরীর ‘রেসপন্স’ করছে, একবার চোখও মেলেছিলেন : চিকিৎসক

সাইফুল ইসলাম সুমন, ঢাকা থেকে : সিলেটের সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে ‘সামান্য’ উন্নতি হয়েছে। এতে খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এখন তার শরীর ‘রেসপন্স’ করছে। তিনি একবার চোখ মেলেছিলেন, ডান হাত-পায়ে সাড়া দিয়েছেন। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে গতকাল শনিবার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিকিৎসকেরা এ মন্তব্য করেন। 

স্কয়ার হাসপাতালের এসোসিয়েট মেডিকেল ডিরেক্টর মির্জা নাজিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, অপারেশনের ৯৬ ঘণ্টা পর খাদিজার শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে তিনি এখনো মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন। তার সুস্থতার বিষয়ে দিনক্ষণ ধরে আগাম কিছু বলা যাচ্ছে না। ২-৩ সপ্তাহ পর বলা যাবে তিনি কেমন সাড়া দেবেন।
নাজিম উদ্দিন আরো বলেন, আমাদের নিয়মানুযায়ী ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করার পর আমরা যখন দেখলাম, তাকে আরো বেশকিছু সময় পর্যবেক্ষণ করা দরকার, তখন আমরা আরো ২৪ ঘণ্টা বেশি সময় নেই। রোগী মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন, তার নিউরোলজিক্যাল স্ট্রাকচার অত্যন্ত কম ছিল। যা ৫-৬ এর মতো।

পরে সংবাদ সম্মেলনে খাদিজার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন স্কয়ার হাসপাতালের ব্রেইন ও স্পাইন সার্জন রেজাউস সাত্তার। তিনি বলেন, গত শুক্রবার সকাল থেকে লক্ষ করা যায়, ব্যথা দিলে খাদিজা রেসপন্স করছেন, চোখ খুলছেন এবং ডান হাত-পা নাড়াচ্ছেন। এখনো পর্যন্ত তিনি ভেন্টিলেশনে আছেন। যদি আস্তে আস্তে চেতনা ফিরে পান তাহলে হয়তো তাকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করা যাবে। তিনি আরো বলেন, খাদিজার মতো গুরুতর আহত রোগীদের ক্ষেত্রে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু আমরা তাকে পেয়েছি ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার মস্তিষ্কের অবস্থা বোঝা যাবে। বর্তমানে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছে। আগে খাদিজার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল ৫ শতাংশ, এখন সেটা বেড়ে হয়েছে ১০ শতাংশ। তবে তার চেতনা শক্তির উন্নতি হয়নি। তিনি আরো বলেন, খাদিজা যখন স্কয়ার হাসপাতালে আসেন তখন তার চেতনা শক্তি ছিল ১৫ দশমিক ৬- যা এখন আছে ১০ দশমিক ৬। প্রথমত, চিকিৎসার উদ্দেশ্য ছিল আমরা লাইফ সেভ করতে পারব কিনা। যদিও আশা খুবই ক্ষীণ ছিল। তবে এত বড় একটি আঘাতের পর যেহেতু ৯৬ ঘণ্টা সারভাইভ করেছেন, তাই আমরা আশাবাদী।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসক বলেন, তাকে অভজারবেশনে নয়, স্কয়ারে আসার পরই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে এই চিকিৎসার শুরুটা হয়েছে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের ইমার্জেন্সি থেকে। আরেকটা জিনিস যেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, ব্রেনে আঘাত পাওয়ার পরে সাধারণত গোল্ডেন ফোর আওয়ার বলে একটা সময় থাকে।

আঘাত পাওয়ার প্রথম ৪ ঘণ্টা পর যদি অপারেশন করা যেত তাহলে হয়তো আরো দ্রুত রেসপন্স পাওয়া যেত। তিনি আরো বলেন, আঘাত পাওয়ার ১২ ঘণ্টা পর স্কয়ারে আনার পরও ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত খাদিজা বেঁচে আছেন। তিনি যদি বেঁচে যান, তাহলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন রিকভার করা উচিত। কারণ তার বয়স অনেক কম।
জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পর খাদিজার অর্থোপেডিকস চিকিৎসকেরা তার হাতের চিকিৎসা শুরু করবেন জানিয়ে ডা. এ এম রেজাউস সাত্তার বলেন, এ ধরণের রোগীদের ক্ষেত্রে অঙ্গহানি বড় বিষয় নয়, তার বেঁচে থাকাটাই বড় কথা। কিন্তু আগে আমরা সন্দিহান ছিলাম খাদিজা বাঁচবেন কিনা, এ জন্য খুব সংকীর্ণ রাস্তায় হাঁটতে হয়েছে আমাদের। তবে এখন তার সারভাইভাল লেভেল বেড়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম সিলেট এমসি কলেজের পুকুর পাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। প্রথমে খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) ভোরে তাকে ঢাকায় আনা হয়। এদিন দুপুরে স্কয়ার হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তাকে ৯৬ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন।

No comments: