সিলেটের রাজু আবিষ্কার করলেন ‘অন্ধের রাস্তা’

বিশেষ প্রতিনিধি: ‘অন্ধের রাস্তা’ এটি একটি ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসের নাম। যার মাধ্যমে অন্ধ ব্যক্তিরা যে কোনো স্থানে অন্য ব্যক্তির সাহায্য ছাড়াই চলাচল করতে পারবেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে সাউন্ড ওয়েভ, যার মাধ্যমে কোনো বস্তুর অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়। এ ডিভাইসটি কোনো বস্তুকে নির্ণয় করার সাথে সাথে ব্যক্তিকে বস্তুর অবস্থান সম্পর্কেও বলে দেয়। এজন্য ডিভাইসটিতে একটি হ্যাডফোন লাগানো আছে যার মাধ্যমে বস্তুর অবস্থান সম্পর্কে সিলেটী ভাষায় বলে দেবে এবং কোন দিকে রাস্তা আছে তা-ও। এ ডিভাইসের মাধ্যমে ব্যক্তির সামনে উঁচু-নিচু বস্তুর অবস্থান সনাক্ত করা যায়। এ ডিভাইস ব্যক্তিকে এখন দিন না রাত, সেটাও বলে দিতে সক্ষম।

সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইলেক্ট্রিক্যাল এণ্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র রাজু মিয়া এ ডিভাইসটি তৈরি করেন। অন্ধ ব্যক্তিদের হয়তো চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব না; তবে যাতে করে অন্ধ ব্যক্তিরা অন্যের সাহায্য ছাড়াই চলাচল করতে পারেন, কেবল সেজন্যেই এটি তৈরি করেন তিনি। তাদের কথা মাথায় রেখে তিনি এটা অনেক কম খরচে তৈরি করেছেন। রাজু মিয়া জানান, এ ডিভাইসের সাথে রয়েছে একটি স্টিক বা লাঠি-যার মাধ্যমে ব্যক্তির সামনে কোনো কিছুর অবস্থান থাকলে তা বলে দিবে। ডিভাইসটি পোর্টেবল হওয়ার কারণে খুব সহজে ব্যবহার করা যায়। ডিভাইসটির আনুমানিক ৭০ সে.মি. পর্যন্ত ধারণক্ষমতা রয়েছে। তিনি আরও জানান, এ ডিভাইসটিতে আরও কিছু তথ্য-প্রযুক্তি যোগ করা হচ্ছে। তবে এটাতে লোকাল ম্যাপ যোগ করার কাজ চলছে। খুব সহজে যে কোনো অন্ধ ব্যক্তি এই ডিভাইসটি ব্যবহার করতে পারবেন। রাজু জানান, এই ডিভাইসটি তৈরি করে তার নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষত বা ঘা শোকানোর ‘বেক থেরাপি মেশিন’ অল্পমূল্যে তৈরির পরিকল্পনাও তাঁর রয়েছে বলে জানান। রাজু মিয়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এ অনুষ্ঠিত টেক ফেস্টা ২০১৬ এর রোবটিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ৪৬টি দলের সাথে প্রতিযোগিতা করে তার তৈরি রোবট প্রথম স্থান অর্জন করে।

No comments: