জুড়ীতে লিভ টুগেদার

ফখরুল ইসলাম : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আনন্দ স্কুলের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গে একই স্কুলের শিক্ষিকার লিভ টুগেদারের অভিযোগ উঠেছে। 

ওই শিক্ষিকার স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের সফিকুর রহমানের বাড়িতে আনন্দ স্কুল স্থাপন করা হয়। ওই স্কুলে চাকরি নেন শফিকুর রহমানের কলেজপড়ুয়া কন্যা সৈয়দা রুমা আক্তার। রুমা আক্তারের পাঠ দান চলছিল ভালোভাবেই। কিন্তু কিছু দিন পরই এখানে চাকরি নিয়ে আসেন লক্ষ্মীপুর জেলার কমল নগর উপজেলার চরসামসুদ্দিন গ্রামের আলি আরশাদ এর পুত্র আলী আকবর। আনন্দ স্কুলের ট্রেনিং কো-অর্ডিনেটর পদে চাকরি নিয়ে এসে আলী আকবর সুন্দরী রুমার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। লোভাতুর কো-অর্ডিনেটরের ট্রেনিং এর ফাঁদে পড়ে যায় রুমা। দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে, একপর্যায়ে তা শারীরিক সম্পর্কে রূপ নেয়। দুজনে মিলে বাসা ভাড়া নেয় উপজেলা পরিষদ ভবনের সন্নিকটে সুরক্ষিত মারওয়ান ম্যানশনে। রুমার ভাই আজিজুর রহমান আকুল জানান, তার অবর্তমানে তার ঘরের ফার্নিচার নিয়ে এসে আলী আকবরের সঙ্গে একত্রে বাসা নিয়ে লিভ টুগেদার করতে থাকে তার বোন রুমা।

তিনি জানান, সুচতুর আলী আকবর টাকা পয়সা দিয়ে তার বৃদ্ধ বাবা ও মা হাবিবুন নেছাকেও হাত করে নেন। একপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে কানাঘোষা শুরু হলে সদর জায়ফরনগর ইউপির দুজন মহিলা সদস্যকে নিয়ে তার ভাই বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে মারওয়ান ম্যানশনে যান। এ সময় আলী আকবর রুমা ও তার মার উপস্থিতিতে রুমার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে। রুমার ভাই আজিজুর রহমান জানান, এ সময় তিনি ঘরের আলনায় গোছানো তার বোনের পরিধেয় কাপড় চোপড় এবং ড্রয়ারে একটি অন্তর্বাস খুঁজে পান। রাগ সামলাতে না পেরে তখন তিনি আলী আকবরের গালে একটি চড় মারেন।

চড় খেয়ে আলী আকবর আজিজুরের পা চেপে ধরে বলতে থাকেন আপনি বড় ভাই আমরা একে অপরকে ভালোবাসি আপনি বিষয়টি শেষ করে দেন। তৎক্ষণাৎ ইউপি সদস্যরা ওই স্থান ত্যাগ করে চলে আসেন। বিপদ আঁচ করতে পেরে আলী আকবর ম্যানশনের বাসা থেকে পালিয়ে যান। ৩/৪ দিন পর রুমাকে নিয়ে বাসায় উঠলে পুনরায় ওই ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য বুলবুলি বেগম ও সদস্য আফিয়া বেগমকে নিয়ে রুমার ভাই আজিজুর রহমান আকুল মারওয়ান ম্যানশনে গেলে তাদেরকে ম্যানশনের ভিতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। 

এ সময় বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ মুজিবুর রহমান মুজিবের নজরে এলে তিনি তাদেরকে ম্যানশনের নিকটবর্তী তার ব্যক্তিগত অফিসে ডেকে পাঠান। ঘটনার বর্ণনা শুনে তিনি রুমার স্বজনসহ ইউপি সদস্যদের পর দিন শনিবার সকালে আসতে বলেন। পর দিন ভাইস চেয়ারম্যানের অফিসে ডেকে আনা হয় রুমা ও আলী আকবরকে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রুমা জানায় সে ভালোবেসে আলী আকবরকে বিয়ে করেছে। এ সময় উপস্থিত জনসাধারণকে বিয়ের রেজিস্ট্রি কাবিননামাও দেখানো হয় বলে সাংবাদিকদের জানান সাবেক ভাইস চেয়াম্যান মুজিব। একটি সূত্র জানায় কাবিনটি তড়িঘড়ি করে শ্রীমঙ্গল থানায় নিয়ে করা হয়েছে এবং তাতে আকবরের কলিগ কাউসারেরও স্বাক্ষর রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

No comments: