মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক থেকে গাছ ও সামাজিক বনায়নের বাঁশ অবাধে পাচার হচ্ছে

বিশেষ প্রতিনিধি : মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক এলাকার লাখ লাখ টাকার মূল্যবান গাছ ও সামাজিক বনায়নের বাঁশ পাচার হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় ইউপি মেম্বারের বাড়ি থেকে ইকোপার্ক এলাকা থেকে কেটে নেয়া একটি রামডালা গাছের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। 

গাছ ও বাঁশ চুরির ঘটনায় প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় বনবিভাগ বেনামে মামলা দিচ্ছে। জানা গেছে, প্রায় ৫শ’ ভূমি নিয়ে গত ২০০০ সালে বনবিভাগ মাধবকুণ্ড ইকোপার্কের উদ্বোধন করে। মাধবকুণ্ড বনবিটের আওতায় এ ভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ, ভেষজ গাছের চারার বাগান করা হয়। ১৫-১৬ বছরে গাছগুলো বড় হয়ে উঠলে লোলুপ দৃষ্টি পড়ে স্থানীয় গাছ খেকোদের। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গাছচোররা ইকোপার্কের গাছ পাচার করতে থাকে। সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইসলাম উদ্দিনের বাড়ি থেকে গত ২৭ অক্টোবর বিট কর্মকর্তারা ইকোপার্ক থেকে পাচার করা রামডালা জাতীয় বনজ গাছের ৮ টুকরা উদ্ধার করে বন অফিসে জমা রাখেন। এর আগে বিট অফিসের উত্তর পাশ থেকে তৈরল জাতীয় একটি ও ইকোপার্কের যোগলাটিলা থেকে দুইটি বিশাল করই জাতীয় গাছ চোরেরা নিয়ে যায়। একটি করই গাছের অংশবিশেষ বনবিভাগ উদ্ধার করলেও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না দিয়ে বিটকর্মকর্তা বে-নামে মামলা দিয়েছেন। সূত্র জানায় গাছচোরদের সাথে বনকর্মকর্তা-কর্মচারীর দহরম মহরম থাকায় এবং প্রভাবশালী হওয়ায় ফরেস্ট গাছ-বাঁশ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছে না। বনবিভাগ থেকে ইজারা নিয়ে সামাজিক বনায়ন করেন সামাজিক বনায়ন কৃষি সমবায় সমিতি নামের স্থানীয় একটি সংগঠন। সমিতির সভাপতি আফতাব মিয়া অভিযোগ করেন তাদের লাগানো মুলিবাশ প্রভাবশালীরা দীর্ঘদিন ধরে কেটে পাচার করছে। বাঁধা দিতে গেলে নানা হুমকি-ধমকি এমনকি গুলি করে হত্যার ভয় দেখানো হয়। বনবিভাগকে অবহিত করেও বাশ পাচার বন্ধ করা যায়নি। 

গত ২৫ অক্টোবর তাদের বাগানের মুলিবাঁশ পাচারের সময় স্থানীয় বিজিবির সহযোগিতায় সমিতির সদস্যরা বিপুল পরিমান বাঁশ আটক করেন। পরে বনবিভাগ বাঁশগুলো জব্দ করে অফিসে নিয়ে জমা রাখে। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মাধবকুণ্ড বিট কর্তকর্তা শেখর রঞ্জন দাস জানান, রিজার্ভ ফরেষ্ট ও ইকোপার্কের বিশাল এলাকা দেখাশুনার দায়িত্বে মাত্র দুইজন গার্ড রয়েছেন। দুইটি বিটের অতিরিক্ত দায়িত্ব, রেঞ্জ অফিসে মুল দায়িত্ব ছাড়াও মাধবকুণ্ডে ভিআইপি প্রটোকলে তাকে ব্যস্ত থাকতে হয়। এরপরও গাছ পাচার রোধে তৎপর রয়েছেন। সম্প্রতি পাচার হওয়া করইসহ অন্যান্য গাছ উদ্ধার করে বনআইনে মামলা দিয়েছেন। 

স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইসলাম উদ্দিন তার বাড়ি থেকে ইকোপার্কের চোরাই গাছের অংশবিশেষ উদ্ধারের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তার বাড়ির পশ্চিম দিকের রাস্তার পাশ থেকে কাঠগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

No comments: