জুড়ীতে টিলা কেটে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাটি ভরাটের কাজ

বিশেষ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাটি ভরাটের কাজ চলছে প্রাকৃতিক টিলা কেটে। খোদ সরকারী প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকাশ্যে পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় পরিবেশবিদ, সচেতন মহলসহ সাধারন মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের বক্তব্য সরকারী কাজেই যদি নির্বিচারে পাহাড় টিলা ধ্বংস করা হয়, তবে আইনে নিষিদ্ধ করার কি প্রয়োজন। 

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বড়লেখায় সরকারী সফরে এসে নবগঠিত জুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভুমি জটিলতার কারনে নির্মাণ কাজের বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্টান এস আলী এন্ড সন্স ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের এক বছর পর ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দাবী চলিত বছরের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত কমপ্লেক্স ভবনের ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিকট ভবন হস্তান্তরের লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামের জনৈক খলিল মিয়ার বসত বাড়ির বিশাল টিলা কেটে ৩-৪টি ট্রাকে করে সরকারী হাসপাতালের মাটি ভরাট চলছে। মাটিবাহী ট্রাক চলাচলের কারনে গ্রামীণ কাঁচা সড়কটি জনসাধারনের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া উত্তর ভবানীপুরের মোকাম টিলা কেটে হাসপাতালে মাটি বিক্রি করছেন আনছার আলীর ছেলে শাহ আলম। এতে পার্শ্ববর্তী বসত বাড়ির বাসিন্দারা ভুমি ধ্বসের আশংকায় রয়েছেন। 

পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে পাহাড় টিলার মাটি কেটে সরকারী হাসপাতাল ভরাটের ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারের সাইট ম্যানেজার আবু তাহের জানান, জুড়ী এন্টারপ্রাইজ নামে ক্ষমতাসীন দলের ২২ সদস্যের স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট এস আলী এন্ড সন্স’র নিকট থেকে মাটি ভরাটের ঠিকা নিয়েছেন। চুক্তিবদ্ধ হয়ে তারাই হাসপাতালের মাটি ভরাট করছেন। তারা কোথা থেকে মাটি আনছে তা তিনি জানেন না।

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান জানান, পাহাড় টিলা কাটা সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। শাস্তিযোগ্য অপরাধ। টিলার মাটি কেটে সরকারী হাসপাতাল ভরাটের বিষয়টি তাকে কেই জানায়নি। খোঁজ নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।

No comments: