বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ----শেখ হাসিনা

সাইফুল ইসলাম সুমন, ঢাকা থেকে:  বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে কোনো জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাসীগোষ্ঠীকে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এদেশের ভূখণ্ডকে পার্শ্ববর্তী দেশের জন্যও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ।
আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন উপলক্ষে দেশের মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে অভিনন্দন জানান আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে।
তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সম্মেলনে আগত বিদেশি ডেলিগেটদের প্রতি। তিনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যারা পাশে ছিলেন এবং সম্মেলনে এসে বক্তব্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন তাদের প্রতি। তিনি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান।

শেখ হাসিনা শ্রদ্ধা জানান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। একইসঙ্গে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনকে শ্রদ্ধা জানান। যাদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।
মহান মুক্তিযুদ্ধ চালাকালীন চার জাতীয় নেতা, যাদের নেতৃত্বে আমাদের বিজয় এসেছে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যাদের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। সেই চার জাতীয় নেতা তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামান ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট এসেছিল এমন একটি সময়ে যখন জাতির জনক যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় অমানিশার অন্ধকার, ১৫ আগস্ট হত্যা করা হলো জাতির পিতাকে, হত্যা করা হলো মা ফজিলাতুলন্নোছকে, আমার দুই ভাইকে, শেখ জামাল ও শেখ কামাল, সাথে তাদের নববধুকে, আমার দশ বছরের ভাই শিশু রাসেলকেও হত্যা করা হলো।
আবদুর রব সেরিনিয়াবাত, তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী, সেই সাথে তার ১০ বছরের সন্তানকে, পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হলো।

তিনি বলেন, একুশে আগস্ট আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। শত আঘাত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সংগ্রাম করে গেছে। কত মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে, কত মানুষ আঘাতে পঙ্গু হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। আজকের এই দিনে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই উপমহাদেশের প্রাচীনতম সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র, বাঙালি হিসেবে মর্যাদা পেয়েছি বিশ্ব দরবারে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার পেয়েছি। যা পয়েছি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে অর্জন করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৪৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শত প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সংগ্রাম করেছেন এদেশের মানুষ। যার নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ কালোরাত্রি। পাক-হানাদার বাহিনী অতর্কিতে হামলা চালায় এদেশের মানুষের উপর। পরদিন ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন।’
তিনি বলেন, ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয়। সেই সরকার এমন জায়গায় গঠিত হয়েছিল যে জায়গায় ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলাদেশের স্বাধীনতা সুর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেই বৈদ্যনাথ তলায়। বঙ্গবন্ধুকে প্রথম রাষ্ট্রপতি করে, অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপালন করেন তাজউদ্দীন আহমদ। এসময় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো আমাদের সহায়তা করে। ভারতের জনগণ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরাগান্ধী এবং রাশিয়াসহ অনেক দেশ সমর্থন দিয়েছিল বলে বিজয় অর্জন করেছি। তাই তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞা।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই সম্মেলনকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী এই উদ্যোনে আত্মসমর্পণ করেছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ। সকল ধর্মের মানুষ সমান অধিকার পাবে। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্রমুক্ত দেশ।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাগ্রহণের পর শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছিল, অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছিল। মানুষ উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ২০০১ সালে ভেঙ্গে যায়। হানাদার বাহিনীর দোসরদের ক্ষমতায় বসানোর কারণে।
২০০৮ সালে আবার মানুষ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। এরপর আবারও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবারও গড়ে উঠে বাংলাদেশ।
যে সংবিধানের মূলমন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছিল সেই সংবিধান পুরনায় সংশোধন করি। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার আমাদের আগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলোকে স্থগিত করে দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জাতির পিতার সন্তান হিসেবে দেখেছি তিনি কীভাবে এদেশের মানুষকে ভালোবেসেছেন।
১৫ আগস্টের পর আমার অবর্তমানে আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করার পর আমি বাংলাদেশে ফেরত আসি। কিন্তু সামরিক সরকার আমাকে আসতে দেয়নি। তাই আওয়ামী লীগের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। আমি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছে। দেখেছি গৃহহীন মানুষ, ক্ষুধার্ত মানুষ। আমি আমার পিতার কাছে শুনেছি বঞ্চিত মানুষের কথা। শত বাধা সত্ত্বেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুৎ হননি। সন্তান হিসেবে আমরাও বঞ্চিত হয়েছি। কিন্তু যে শিক্ষা পেয়েছি সেই শিক্ষা থেকে জাতি গঠনে কাজ করি।  ১৫ আগস্ট সব হারিয়ে মনোবেদনা নিয়ে ফিরে আসি। বাংলাদেশের মানুষ আমাকের স্নেহ দিয়েছে, ভালোবেসেছে। তাই তাদের কারণেই আমি ফিরে এসেছি। তাই তাদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।
শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, বাংলাদেশে আর কোনো দরিদ্র মানুষ যেন না থাকে। ৯৬ সালে সরকার গঠনের পর, প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু করি, সামাজিক নিরপত্তা বৃদ্ধিতে কাজ করি। বর্তমানে ৫০-৫৫ হাজার মানুষ এই ভাতা পাচ্ছে।  হিজড়া, বেদে, হরিজন সম্প্রদায়কে মাসিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো জামানত ছাড়া স্বল্প সুদে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ দেওয়া শুরু করি ৯৮ সাল থেকে। কৃষিপণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছি। ১০ টাকায় কৃষক ব্যাংক একাউন্ট করতে পারে। ২ কোটি ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯৭ জন কৃষকে ভতুর্কি দিয়েছি। তারা কৃষিপণ্য কম দামে কিনতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মানুষও যেন না খেয়ে না মরে। তাই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। পরিবারভিত্তিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমরা মোবাইল ফোন সবার হাতে হাতে তুলে দিয়েছি। ৪৯৯ টি কৃষিপণ্য যোগোযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন কৃষক। ই-গর্ভন্সে চালু করেছি। বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক চালু করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর দিয়ে ঋণ দিয়ে সহায়তা করেছি। শান্তিনিবাস স্থাপন করে দুস্থ্য মহিলা-পুরুষকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করে দিয়েছে।  মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করে দিয়েছি।  ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। যার ফলে মাতৃমৃত্যু হার কমেছে।  ১ লাখ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্ কার্ড বিতরণের কাজ হাতে নিয়েছি। ব্যাংক-বিমাসহ সকল খাতকে বেসরকারি খাতে দিয়েছি যাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। যে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেবে। কর্মসংস্থান হবে।

নারী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। জাতীয় সংসদের ২০ শতাংশ আসনে রয়েছেন নারীরা।
তিনি বলেন, কোনো জামানত ছাড়া স্বল্প সুদে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের ঋণ দেওয়া শুরু করি ৯৮ সাল থেকে। কৃষিপণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছি। ১০ টাকায় কৃষক ব্যাংক একাউন্ট করতে পারে। ২ কোটি ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯৭ জন কৃষকে ভতুর্কি দিয়েছি। তারা কৃষিপণ্য কম দামে কিনতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মানুষও যেন না খেয়ে না মরে। তাই একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। পরিবারভিত্তিক কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমরা মোবাইল ফোন সবার হাতে হাতে তুলে দিয়েছি। ৪৯৯ টি কৃষিপণ্য যোগোযোগ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তথ্য পাচ্ছেন কৃষক। ই-গর্ভন্সে চালু করেছি। বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক চালু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১ লাখ ৪০ হাজার পরিবারকে আশ্রায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর দিয়ে ঋণ দিয়ে সহায়তা করেছি। শান্তিনিবাস স্থাপন করে দুস্থ্য মহিলা-পুরুষকে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। প্রাইমারী থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা বিনামূল্যে করে দিয়েছে।  মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম করে দিয়েছি।  ১৬ হাজার ৪৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক করে দিয়েছি। যার ফলে মাতৃমৃত্যু হার কমেছে।  ১ লাখ পরিবারের মধ্যে স্বাস্থ্ কার্ড বিতরণের কাজ হাতে নিয়েছি। ব্যাংক-বিমাসহ সকল খাতকে বেসরকারি খাতে দিয়েছি যাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। যে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেবে। কর্মসংস্থান হবে।
নারী নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। নারীদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিটি নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। জাতীয় সংসদের ২০ শতাংশ আসনে রয়েছেন নারীরা।
শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা থেকে নিজেদের প্রয়োজনে আইন সংশোধন করেছি। আমাদের বনায়ন ৭ শতাংশ থেকে ১৪ শতাংশ উন্নীত করেছি।  ২০২১ সালে আমরা বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে চাই। ইতোমধ্যে প্রবৃদ্ধি ৭.১ শতাংশে উন্নীত করেছি। ২০৪১ সালের মধ্য বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশ। আমরা জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেব না। এ দেশের ভুখণ্ডকে সস্ত্রাসী কর্মাকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে দেব না।  দক্ষিণ এশিয়া হবে প্রাচ্য-পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধ। আর বাংলাদেশে এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
‘২০৪১ সালে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চাই’ সে প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, প্রবৃদ্ধি ৮-১০ শতাংশ হবে। বর্তমানে মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ ডলার থেকে বাড়িয়ে এমন অবস্থানে নেওয়া হবে যেন মানুষ দরিদ্র না হয়। দারিদ্রের হার শূন্য কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। প্রতিটি মানুষ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। কারিগরি, ভোকেশনাল ট্রেনিং, পুষ্টিহীনতা দূর করা হবে। প্রত্যেকটা মানুষ যেন সুপেয় পানি পায়, সেনিটেশন যেন শতভাগ হয় সেজন্য কাজ করবে আওয়ামী লীগ সরকার। প্রত্যেকটা মানুষ যেন ইন্টারনেট পায়, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের বৈষম্য থাকবে না ভিশন ২০৪১-এ। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের আঘাত থেকে মানুষের মুক্তির জন্য নেওয়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে, বর্তমানের ১৫ হাজার মেগওয়াট বিদ্যুতের পরিবর্তে শতভাগ মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হবে।
বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সঙ্গে বন্ধু, কারো সঙ্গে বৈরতা নয়, এই নীতির আলোকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ জঙ্গিবাদ স্থান পাবে না। স্বাধীনতা সুফল প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেব। এ বাংলাদেশ হবে জাতির পিতার ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ।


No comments: