স্মরণকালের দীর্ঘতম বন্যার কবলে হাকালুকি হাওর তীরের মানুষ

সেলিম আহমদ : “আইলে ভাদও, নাও পড়ে খাদও”। অর্থাৎ ভাদ্র মাস এলে নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নদীর বা খাদের কিনারায় পড়ে থাকে। হাওর এলাকায় এই প্রবাদটি যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। চলতি বছর এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি তীরের মানুষ এবার স্মরণকালের দীর্ঘতম বন্যার কবলে পড়েছে। ভাদ্র মাস তো দুরের কথা আশ্বিণ মাসেও বন্যায় টুইটুম্বুর।
চলতি বছর বৈশাখ মাসের শুরুতেই ভারি বর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে অকাল বন্যা দেখা দেয় হাকালুকি হাওর এলাকায়। সেই বন্যা আষাঢ় শ্রাবণ মাসে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ভাদ্র মাসে প্রকৃতির নিয়মে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কথা থাকলেও অবনতি ঘটে। ভাদ্র মাস পেরিয়ে আশ্বিন মাস, এখনও  বন্যা পরিস্থিতি আগের মতই। ভারি বর্ষণ না হলেও সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ী ঢলে হাকালুকি হাওর তীরে পানি ক্রমেই বাড়ছে।

সরেজমিন হাকালুকি হাওরে দক্ষিণ তীর কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের ভুকশিমইল গ্রামের সাবেক মেম্বার ইলিয়াছ আলী, শেখ ফয়ছল আহমদ, জিয়াউর রহমান মিন্টু, নজরুল ইসলাম, কামিল আহমদ জানান, ইতোমধ্যে টানা বন্যার ৬মাস চলছে। দুটি ঈদ গেছে, মানুষ বন্যার কারণে রীতিমত ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। তাদের জীবনে এত দীর্ঘদিন বন্যা দেখেননি। তাদের মতে, ভাদ্র মাসের ১৩ তারিখ শীতের জন্ম। আশ্বিন মাসে শীত আর কুয়াশা থাকে। কিন্তু এবার প্রকৃতি যেন বিরূপ আকার ধারণ করেছে। আশ্বিন মাসের মধ্যে বন্যার পানি না কমলে আগামী বোরো মৌসুমে এর প্রভাব পড়বে।

হাকালুকি হাওর তীরের ভুকশিমইল ইউনিয়নের মত কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়ন ছাড়াও  বরমচাল, ভাটেরা ও ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় নাকাল। এছাড়াও হাওর তীরের জুড়ীর জায়ফর নগর ও পশ্চিম জুড়ী। বড়লেখা উপজেলার বর্নি ও সুজানগর ইউনিয়নের মানুষ বন্যা কবলিত। এসব বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগও দুর্দশার যেন শেষ নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীরা যায় স্কুল কলেজে।

মানুষ দুর্ভোগের পাশাপাশি গবাদি পশুদেরও খাদ্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাদ্যাভাবে গবাদি পশুর মড়ক দেখা দিয়েছে। হাওর তীরের মৃত গবাদি পশুকে পানিতে ভাসিয়ে দেন স্থানীয় লোকজন। ফলে এসব গবাদি পশু পচে দুষিত হচ্ছে পানি। ফলে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে হাওর তীরের মানুষ।

ভুকশিমইল ইউনিয়স পরিষদের মেম্বার হোসেন খান, সাহেদ আহমদ, নজরুল ইসলাম এবং চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির জানান, ভুকশিমইল ইউনিয়নের পানিবন্দি মানুষ মানবেতর জীবন জীবন যাপন করছেন। তার মধ্যে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশী। প্রকৃতির সাথে আমাদের কোন হাত নেই। প্রকৃতির কৃপার কাছে এখন আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

No comments: