জুড়ীর গোয়ালবাড়িতে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন নিয়ে উচ্ছেদ আতঙ্কে ৭ পরিবার

গোয়ালবাড়ি ইউনিয়ন প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে বিজিবি ক্যাম্প স্থাপন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এতে ওই ইউনিয়নের শুকনাছড়া গ্রামের ৭ পরিবারের শতাধিক নারী-পুরুষ উচ্ছেদ আতঙ্কে ভোগছেন। প্রায় ৫ বছর আগে তৎকালীন বিজিবি শুকনাছড়া গ্রামে ভিলেজার হেডম্যান আঞ্জির আলীর বাড়িতে হঠাৎ পরিদর্শনে আসে। এর ২ বছর পর শ্রীমঙ্গল থেকে আবারও বিজিবি’র লোকজন একদিন এখানে পরিদর্শনে এসে ওই জায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করা যাবে না বলে এলাকাবাসীকে বলে যান। এর পরিবর্তে পার্শ্ববর্তী এলাকার সুরমাছড়া লালটিন টিলায় ক্যাম্প নির্মাণ হবে বলে সেখানে একটি সাইবোর্ড স্থাপন করা হয়। ওই সাইনবোর্ড থেকে ভারতের (ময়নাছড়া)৯৬নং পিলারের দূরত্ব ১ কিলোমিটারের ভেতরে। চলতি বছরের ২৭ আগস্ট হঠাৎ করে আবারও বিজিবি তাদের কয়েকজন সৈনিক নিয়ে এসে আমাদের বসতবাড়ির কোনো ছবি না তোলে উঠান ও খালি জায়গার ছবি তোলে নিয়ে যান এবং আমাদের ৭ পরিবারের সকলকে ঈদের পর পরই বাড়িঘর সরিয়ে নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশ দেন। হঠাৎ করে এমন নির্দেশ শুনে এলাকার সাধারণ জনগণ উচ্ছেদ আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন।
এর প্রতিবাদে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ওই গ্রামের মৃত হাছিব আলীর বাড়িতে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভিলেজার হেডম্যান আঞ্জির আলী,রইছ উদ্দিন, সাইদুর রহমান ও হাসিনা বেগম প্রমুখ। আঞ্জির আলী জানান, ১৯৩৮ সনে টিপরা উপজাতি আমাদের এলাকায় লাঠিটিলা বনবিট থেকে ভিলেজার হিসেবে জায়গা গ্রহণ করে বসতি গড়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৯ সাল থেকে আমার পিতা মৃত হাছিব আলী হেডম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনসহ এই জায়গায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। হাছিব আলী’র মৃত্যুর পর ওই গ্রামের জফুর আলী হেডম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সাল থেকে অদ্যাবধি হেডম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন আঞ্জির আলী। এ বিষয়ে লাঠিটিলা বনবিট কর্মকর্তা মো: শামসুজ্জামান জানান, এ ব্যাপারে আমরা এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি। ৫২ বিজিবি জুড়ী সদর কোম্পানী কমাণ্ডার সুবেদার এনামুল হক জানান, ওই এলাকায় আমাদের একটি ক্যাম্প স্থাপন করার কথা। তবে কখন, কোথায় হবে, এখনও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশ পাইনি।

No comments: