রাজবাড়ীতে উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বিরোধপূর্ণ মন্দিরের কমিটি গঠন

স্টাফ রিপোর্টার: 
হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা উদযাপন এ উপলক্ষে বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের মাশালিয়া কালীবাড়ী সার্বজনীন মন্দিরে কমিটি গঠন নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণভাবে কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় মাশালিয়া কালীবাড়ী সার্বজনীন মন্দিরের সামনে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিনয় চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে বিরোধপূর্ন কমিটি গঠন সু-সম্পন্ন হয়। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম সুফী, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও জামালপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এ.কে.এম. ফরিদ হোসেন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুন, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস সর্দার, উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি ইদ্রীস আলী ফকির, বালিয়াকান্দি কেন্দ্রীয় মন্দির ও উপজেলা প্রেসকাবের সভাপতি রঘুনন্দন সিকদার, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি রামচট্টপাধ্যায় প্রমুখ। উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে উপস্থিত পূজারীদের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতি পদে সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অমল চন্দ্র সন্যাসী ও কোষাধ্যক্ষ পদে স্বপন মন্ডলকে নির্বাচিত করা হয়। উল্লেখ্য উপেন্দ্রনাথ রায় গত ২২ সেপ্টেম্বর বাদী হয়ে মাশালিয়া সার্বজনীন কালীমন্দিরের দূর্গাপূজার বাধাদান প্রসঙ্গে বালিয়াকান্দি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগে তিনি তার অপরপক্ষের অনুকুল বিশ্বাস, বিষ্ণুপদ মন্ডল, অসীত কুমার মন্ডল ও স্বপন মন্ডলের নামে প্রতিমা ভাংচুর করার ও পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনেন। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিনয় কুমার চক্রবর্তী, বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। এরই প্রেক্ষিতে এলাকার শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বিষ্ণুপদমন্ডলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। বিষ্ণুপদ মন্ডল গ্রেফতারের পরের দিন শুক্রবার সকালে প্রায় ২ শতাধিক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিকার চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বিষ্ণুপদ মন্ডল থানা থেকে ছাড়া পান। তারই প্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় মন্দির প্রাঙ্গনে শান্তিপূর্ণভাবে কমিটি গঠন সম্পন্ন হয়। কমিটি গঠন করার সময় অভিযোগকারীর উপেন্দ্রনাথ রায় উপস্থিত থাকলেও তার পক্ষের কোন সমর্থককারী কাউকে পাওয়া যায়নাই। এদিকে সুভাষ চন্দ্র ও অমল চন্দ্র সন্ন্যাসীকে পুনরায় নির্বাচিত করায় এবং এলাকার শান্তি বজায় রাখার কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনসহ এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষেরা উপজেলা চেয়ারম্যানকে সাদুবাদ জানান।

No comments: