জুড়ী টাইমস সংবাদঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি জুড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ আগষ্ট) দুপুরে জুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটিতে জুড়ী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করায় এক অভিনন্দন জানানো হয়। উক্ত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড এবং সহকারি শিক্ষকদের এগারো তম গ্রেডে বেতন ভাতা দেওয়ার দাবিতে স্থানীয় সাংসদ এবং বাংলাদেশ সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপির কাছে স্মারক লিপি প্রদান করা হবে। এই সভায় আরো একটি সিদ্ধান্ত হয় যে, কেন্দ্রীয় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির অনুমোতি সাপেক্ষে জুড়ীতে প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতি গঠন করা হবে। 

উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি জুড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি প্রভাসিনি মোহন্ত। সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষক সামছ উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, ইন্দ্রানী ভৌমিক, কুলমোহন দাস, তাপস কান্তি রায়, অজয় কুমার দে, আব্দুল কুদ্দুস, খুদেজা বেগম, সুভাষ চন্দ্র দাস, হাসি রানী দাস, শিপ্রা দাস, নিরঞ্জন চাষা, মোহাম্মদ আলী, ছইফ উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ফখর উদ্দিন, সহকারি শিক্ষক আব্দুল মনাফ, আছাদুজ্জামান, আবুল কালাম প্রমূখ।


জুড়ী টাইমস সংবাদঃ মৌলভীবাজারে ৭ দিনব্যাপী বনজ ও ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, বন, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা, প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং জেলা কৃষি অধিদপ্তর যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেন।
শনিবার ২৪ আগষ্ট দূপুরে বৃক্ষরোপণ সচেতনতায় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গন মেলা মাঠে এসে শেষ হয়। পরে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি প্রধান অতিথির হিসেবে ফিতা কেটে ৭ দিনব্যাপী বনজ ও ফলদ বৃক্ষ মেলার উদ্বোধন করেন। 

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন এর সভাপতিত্বে মেলা প্রাঙ্গনে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার ৩ আসনের সংসদ সদস্য নেছার আহমদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জোহরা আলাউদ্দিন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার), পৌর মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর আলম। শেষে মন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্ধ স্টল পরিদর্শন করেন। প্রধান অতিথি হিসাবে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি দেশের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ নয়। আজকে আমরা আমাদের দেশ থেকেই বিদেশীদের সাহায্য করছি, ভিক্ষা দিচ্ছি। আমরা কারো ভিক্ষা নেইনা। চাইওনা। সঠিক নেতৃত্বের কারনেই- আমাদের দেশ আজ স্বাভলম্বি হয়েছে। 


জুড়ী টাইমস সংবাদঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে ডিজিএফআই এর সাবেক ডাইরেক্টর, এনএসআই এর সাবেক ডাইরেক্টর ও বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) এর সাবেক ডিডিজি জুড়ীর কৃতি সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মরহুম সৈয়দ আব্দুর রব (এনডিইউ/পিএসসি) এর ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এক স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিসেস আবেদা রব ও পরিবারবর্গের আয়োজনে এবং দারুল উলূম মাদরাসা ও এতিমখানার চেয়ারম্যান দুবাই প্রবাসী সৈয়দ আব্দুর রফিক নাজমুর সার্বিক সহযোগিতায় শুক্রবার (২৩ আগষ্ট) বেলা ২ টায় জুড়ীর বিশ্বনাথপুর দারুল উলূম মাদরাসা ও এতিমখানায় অনুষ্ঠিত হয় এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল।  

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মরহুম সৈয়দ আব্দুর রব এর ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভূমি জুড়ী উপজেলার বিশ্বনাথপুর গ্রামের বাড়ীতে দিনব্যাপী কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন ছিলো। 

শুক্রবার বাদ জুমা মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে বিশ্বনাথপুর দারুল উলূম মাদরাসা ও এতিমখানার প্রিন্সিপাল মুফতি মুজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় মরহুমের কর্মময় জীবনের উপর আলোকপাত করে বক্তব্য রাখেন- জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও ফুলতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫বারের চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ও জুড়ী প্র্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম পারুল, জুড়ী ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান, জুড়ী বাস স্ট্যান্ড জামে মসজিদের খতিব মাওলানা নজরুল ইসলাম, সিলেট সোসিও ইকোনোমিক ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের চেয়ারম্যান মঈন খাঁন বাবলু, মোঃ জালাল আহমেদ সামু, সৈয়দ আলতাফুর রহমান আলতাফ, শামীম আহমদ শাহীন, ছালিম উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক শিক্ষক আব্দুস সহিদ, ভবানীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ মহসিন মুহিন, উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মাসুক আহমদ, আব্দুল কাদির দারা, আব্দুল মনাফ, জুড়ী উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সহসভাপতি হাজী লাল মিয়া, জুড়ী উপজেলা হাওর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ইমরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদল নেতা নিপার রেজা, জুড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মনজুরে আলম লাল, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি জুড়ী উপজেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক ও জুড়ী টাইমস এর সম্পাদক-প্রকাশক সাইফুল ইসলাম সুমন, পিএইচডি এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর আনোয়ার জাহিদ, অধ্যাপক বদরুল ইসলাম, অত্র মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা হাফিজুর রহমান, হাফিজ মাওলানা ইকবাল হোসাইন, হাফিজ মাওলানা আহমাদ মায়মুন, হাফেজ কারী মনসুর আহমদ, ইংরেজী শিক্ষক শায়খুল ইসলাম শাকিল, মোহাম্মদ ইসলাম আশরাফ, বায়তুল কোরআন মদিনাতুল উলূম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ফরহাদ আহমদ, মাওলানা জাহাঙ্গীর হোসাইন, কইয়াছড়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল মুহিত, বিশ্বনাথপুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ রায়হান আহমদ প্রমূখ। বক্তারা বলেন, নিবৃতচারী আব্দুর রব সাহেব কর্মময় জীবনে এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখেন। তাছাড়া ধর্মীয় কাজে সব সময় নিবেদিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


জুড়ী টাইমস সংবাদঃ মৌলভীবাজারের জুড়ীতে আগামী ২৯ আগস্ট শুভ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে শরীফ কমপ্লেক্স নামের একটি শপিংমল। জুড়ী শহরের পোষ্ট অফিস রোডস্থ নব-নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন নতুন ডিজাইনের কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠা করেছেন সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট দানবীর তথা জুড়ীর কৃতি সন্তান মরহুম হাজী ইনজাদ আলীর নাতি, হাজী ইনজাদ আলী স্মৃতি পরিষদের সভাপতি ও ব্রিটেনস্থ বাঙ্গালী কমিউনিটি লিডার হাজী শরীফ আহমদ ।

আগামী ২৯ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপস্থিত থেকে শরীফ কমপ্লেক্স এর শুভ উদ্বোধন করবেন সিলেট অঞ্চলের বিশিষ্ট দানবীর তথা জুড়ীর কৃতি সন্তান মরহুম হাজী ইনজাদ আলীর ছেলে বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী শফিক উদ্দিন আহমেদ। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শরীফ কমপ্লেক্স এর স্বত্ত্বাধীকারী হাজী শরীফ আহমদ।।


বিশেষ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ ১৬ বছর পর মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন স্থানীয় নজরুল ব্যানকোয়েট হলে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হব। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বন, পরিবেশ, ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী এবং মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. শাহাব উদ্দিন এমপি।

সোমবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তার আগে থেকেই ইউনিয়ন কমিটির সম্ভাব্য সভাপতি, সম্পাদক পদ প্রার্থীরা নেমে পড়েন প্রচারণায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের পাশাপাশি কাউন্সিলরদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও চলছে প্রচারণা। সভাপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছালাম, জাকির আহমদ কালা ও আব্দুর রাজ্জাক রজাকের নাম শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল কাদির দ্বারা, আব্দুল লতিফ, মিজানুর রহমান খোকন, জামাল উদ্দিন, জায়েদ আনোয়ার চৌধুরী, গোলাম রব্বানী চৌধুরী জাহাঙ্গীর, আবুল হোসেন লিটন এর নাম শোনা যাচ্ছে। এ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২৬ আগস্ট জুড়ীকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করা হয়। এর আগের বছর ২০০৩ সালের ২৫ জুন তৎকালীন কুলাউড়া উপজেলার অধীনে জায়ফরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর দেড় বছর পর ২০০৪ সালের ৪ ডিসেম্বর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ কামাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেনু শফিক আহমদকে সভাপতি ও আব্দুস ছালামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন করেন।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, বিগত চৌদ্দ বছরে উপজেলা আওয়ামী লীগ উপজেলার পূর্বজুড়ী, পশ্চিম জুড়ী, গোয়ালবাড়ী, সাগরনাল ও ফুলতলা ইউনিয়নের নতুন কমিটি করলেও সদর জায়ফরনগর ইউনিয়ন সম্মেলনের কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি। অবশেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে জায়ফরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ষোল বছর পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ সম্মেলনে কাউন্সিলরদের ভোটে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানান তারা।


বিশেষ প্রতিনিধিঃ ভয়াল ২২ আগস্ট। জুড়ীনদী নৌকাবাইছ ট্রাজেডির ৩৬ বছর। ১৯৮৩ সালের এদিনে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার (তৎকালীন কুলাউড়া থানা) জায়ফরনগর ইউনিয়নের কামিনীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন জুড়ী নদীতে নৌকাবাইছ চলাকালে মেরামতাধীন সেতু ভেঙ্গে প্রায় ১০ জন নিহত হন। অনেকে নিখোঁজ হন। আহত হন অসংখ্য মানুষ। 

স্থানীয়দের সাখে কথা বলে জানা যায়, এক সময়ের খরস্রোতা জুড়ী নদীতে প্রতি বছর নৌকাবাইছের আয়োজন হতো। দুর-দুরান্ত থেকে আগত ময়ূরপঙ্খী সাজে সজ্জিত বাহারী রঙ্গের নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নিত। জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ নৌকাবাইছ দেখতে এখানে এসে জড়ো হতেন। নৌকাবাইছকে কেন্দ্র করে এ সময় স্থানীয়দের মাঝে উৎসব আমেজ বিরাজ করতো। স্থানীয় ফখর উদ্দিন ও রজব আলীসহ কয়েকজন সৌখিন উদ্যোক্তা প্রতি বছর এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের ২২ আগস্ট রোববার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। চুড়ান্ত দৌঁড়ে তিনটি নৌকা উত্তীর্ণ হয়। ততক্ষণে নদীর দুই তীর প্রায় দুই কিলোমিটার লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে।

কামিনীগঞ্জ বাজার সংলগ্ন নদীর (জুড়ী নদীর শাখা কন্টিনালা) উপর জুড়ী-ফুলতলা সড়কে অবস্থিত ব্রিটিশ আমলে নির্মিত লোহার সেতুটির তখন ভগ্নদশা। মেরামত কাজ চলছিল। ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও মানুষের অবস্থানের ফলে সেতুতে তিল ধারনের জায়গা ছিল না। তখন বিকেল ৫টা। শুরু হয়েছে চুড়ান্ত দৌঁড়। হঠাৎ করে আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত বিকট শব্দ। চোখের পলকে সেতুটি উধাও। লোকজনসহ হারিয়ে যায় পানির নিচে। শুরু হয় আহাজারী, কান্নার রোল।

মানুষের কান্নার শব্দ আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তুলে। হাজার হাজার মানুষের চোখের জল নদীর জলের সাথে একাকার হয়ে যায়। পাড়ে থাকা লোকজন যে যার মত করে নেমে পড়েন উদ্ধার কাজে। নৌকা, কলাগাছ ও বাঁশের ভেলায় করে শিশু, যুবক ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসক ও কুলাউড়া হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

পরবর্তীতে নদীসহ হাকালুকি হাওরে ভাসমান অবস্থায় কামিনীগঞ্জ বাজারের আক্কেল আলীর পুত্র সহিদুল ইসলাম ফয়সল (১১), পশ্চিম ভবানীপুরের তমছির আলীর পুত্র ময়না মিয়া (১১), ভোগতেরা গ্রামের মাওলানা চাঁন মিয়ার পুত্র ছালাম মিয়া (২২), ভবানীপুরের ছিটু গাজীর পুত্র তাজুল ইসলাম (১৫) এবং কাপনাপাহাড়ের মখলিছ (২৫) সহ প্রায় দশ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুসহ অগুণিত মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় নি।

সেতুর নিচে চাপা পড়া অনেককে উদ্ধার করাও সম্ভব হয় নি। চুড়ান্ত দৌঁড় শুরু পূর্বে স্থানীয় দক্ষিণ জাঙ্গিরাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা কুলেশ চন্দ্র চন্দ মন্টু উত্তর প্রান্ত থেকে সেতুতে উঠে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত যান। তন্ন তন্ন করে খোঁজে ছোট ছোট বাচ্চাদের তাড়িয়ে সেতু থেকে নামিয়ে নিয়ে আসার সাথে সাথেই ধসে পড়ে সেতুটি। সে দিন মন্টু স্যারের কল্যাণে এ প্রতিবেদকসহ অর্ধশতাধিক শিশুর প্রাণ রক্ষা পায়। নৌকাবাইছে সেতু ভাঙ্গার ঘটনাটি তখন আয়োজক ‘রজবের গজব’ নামে মানুষের মুখে মুখে ফিরছিল।

আনন্দের নৌকাবাইছটি পরিণত হয় বিষাদে। সেই থেকে আজ ৩৬ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে জুড়ীনদীতে আর নৌকাবাইছ না হলেও মানুষের মন থেকে সেই ট্রাজেডি এখনও মুছে যায় নি। ভয়াবহ সে দিনক্ষণের কথা মনে হলে আজো লোকজন আঁতকে উঠেন।


স্টাফ রিপোর্টার॥ মৌলভীবাজারের নতুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি ) হিসেবে যোগ দিচ্ছেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা। আগামী সপ্তাহের দিকে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার  রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মাঠ প্রশাসন শাখার-২ এর সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ রাসেল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তানিয়া সুলতানাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থেকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক করা হয়েছে।

সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত তানিয়া সুলতানা ২২ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ যেভাবে নির্দেশনা দেবেন, সে অনুযায়ী মৌলভীবাজারে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবো। তিনি বলেন, ‘মৌলভীবাজার প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর পর্যটন জেলা। সাধ্যানুযায়ী জেলার উন্নয়নে নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার পদোন্নতি হওয়ায় বুধবার দিনভর তার কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সূধীজন ও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার সাথে সাক্ষাত করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

উল্লেখ্য তানিয়া সুলতানা ২০১৭ সালে ৮ অক্টোবর কানাইঘাটে যোগদান করেন। ২৫ আগস্ট কানাইঘাটে শেষ কর্মদিন হিসেবে কাজ করবেন।