সাইফুল ইসলাম সুমন: সরকারি এক সফরে বুধবার (২৭ নভেম্বর) জুড়ীতে আসেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ। জুড়ীতে তিনি দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন এবং পরিদর্শন করেন।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ ওইদিন জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার পুকুর পাড়ের চতুর্দিকে সৌন্দর্য্য বর্ধন, দৃষ্টিনন্দন বসার স্থান তৈরি করে নাগরিকদের বিনোদনের ব্যবস্থাকরণ এবং পুকুরের মাছ চাষ বৃদ্ধি সংক্রান্ত ইনোভেশন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা পুকুরপাড়ে বিনোদন ও অবসর সময় কাটানোর নিরাপদ স্থান “অপরাহ্ন” এর শুভ উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, পিএএ।
  
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন, জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক, সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা, শ্রীকান্ত দাস, সালেহ উদ্দিন আহমদ, শাহাব উদ্দিন লেমন প্রমূখ।


 
সাইফুল ইসলাম সুমন: মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সেইভ দ্যা চিলড্রেন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ। বুধবার (২৭ নভেম্বর) বেলা ২টায় সিএনআরএস-সূচনা প্রকল্পের আওতায় নয়াগ্রামে এই কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। 

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ “সেইভ দ্যা চিলড্রেন” কার্যক্রম পরিদর্শনকালে শাপলা পুষ্টিদল, মা ও শিশুদলের সাথে সভা পরিদর্শন এবং পুষ্টিকর খাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে উপকারভোগীরা বলেন, পূ্র্ব পুষ্টিকর খাদ্য বিষয়ে জানতাম না এখন সূচনার উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পুষ্টি বিষয়ে জানতে পেরেছি এবং বাচ্চাদের এবং নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয়েছি ও নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহন করছি। বর্তমানে বাচ্চাদের অসূখ বিসুখ পূর্বের থেকে কম হচ্ছে। প্রতি মাসে বাচ্চাদের কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইপিআই সেন্টারে বাচ্চার ওজন নেয়া হচ্ছে সেখানেও বাচ্চার অবস্থা বিষয়ে জানতে পারছি। সখিনা বেগম বাচ্চার জিএমপি কার্ড দেখিয়ে বলেন, সবুজ রং এ থাকলে বাচ্চার ভালো পুষ্টি, হলুদ রং এ থাকলে কম পুষ্টি এবং লাল রং এ থাকলে বাচ্চা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভুগছে বলে চিহ্নিত হয়।

উপকারভোগীদের মাঝে সূচনা কর্তৃক আয়বর্ধন মুলক কর্মকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমা বেগম বলেন, আমি সূচনা থেকে ২টি ছাগল পেয়েছি যা থেকে ৪টি বাচ্চা হয়েছে এর মধ্য থেকে ২টি ছাগল বিক্রি করেছি ১৩হাজার টাকা বর্তমানে আমার ৪টি ছাগল আছে। বিক্রিত অর্থ দ্বারা একটি গ্যাসের চুলা ক্রয় করেছি, বাঁকী টাকা দিয়ে পুষ্টিকর খাবার খেয়েছি।

পরে বিভাগীয় কমিশনার আশার আলো কিশোরী দলের সাথে সভায় অংশ নিয়ে কিশোরীদের জিজ্ঞাসা করা হয় তোমরা কি করতে চাও এবং তোমাদের ভবিষত স্বপ্ন  কি? জবাবে কিশোরীরা বলেন, আমরা আত্মনির্ভরশীল হিসাবে গড়ে উঠতে চাই। আপনি যেমন চাকুরী করেন এরকম আমাদেরও স্বপ্ন আছে।
 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন, জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক, সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা, শ্রীকান্ত দাস, সালেহ উদ্দিন আহমদ, শাহাব উদ্দিন লেমন, সিলেট সূচনা প্রকল্প সেইভ দ্যা চিলড্রেন এর ডিপিডি আলী রেজা, সিলেট সূচনা প্রকল্প এর কনসোর্টিয়াম ম্যানেজার নবীনূর রহমান, মৌলভীবাজার সিএনআরএস-সূচনা প্রকল্প এর আইপিপিসি আনিসুর রহমান, সিএনআরএস বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলা প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ আব্দুস সামাদ প্রমূখ ।
 

জুড়ী টাইমস সংবাদ: মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার মুক্তা’র প্রশংসনীয় কার্যক্রমের একটি ভিডিও অনলাইনে ও সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ঐ শিক্ষিকার বেশকিছু ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় কার্যক্রম দেখা যায়। স্কুলের কোমলমতি বাচ্চাদেরকে আদর করে করে ক্লাসে ঢুকাতে দেখা যায় ঐ শিক্ষিকাকে।  ভিডিওতে দেখা যায় তিনি ছোটছোট শিক্ষার্থীদেরকে হ্যান্ডশেক করে এবং তাদেরকে আদর করে কাছে টেনে অভিবাদন জানিয়ে ক্লাসে ঢুকাচ্ছেন।

ভিডিওটি অনলাইনে ও সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকহারে শেয়ার হচ্ছে এবং প্রশংসিত হচ্ছে। ভাইরাল হওয়া ঐ ভিডিওতে অনেকেই নানান ইতিবাচক মন্তব্য করছেন।  একজন লিখেছেন- ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই।  এরকম শিক্ষক প্রতিটি স্কুলে যদি থাকে তাহলে সু-শিক্ষিত সু-নাগরিক দ্রুত তৈরি হবে’।

আরেকজন মন্তব্য করেছেন- ‘খুব ভালো লাগলো দেখে।  ছাত্রছাত্রীরা উপস্থিতি বায়োমেট্রিক হাজিরা দিয়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি হওয়া, এভাবে শিক্ষক আন্তরিক থাকলে দেশ ও জাতি উন্নতি লাভ করবে।  ধন্যবাদ ম্যাডাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাগরনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার মুক্তা বলেন- ‘আমি চাই স্কুলে এসে বাচ্চারা যেন আনন্দের সাথে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।  স্কুলের প্রতি আগ্রহী ও আন্তরিক হয়।  আমি তাদেরকে ক্লাসে এবং ক্লাসের বাহিরেও বিভিন্নভাবে পড়ালেখা ও ক্লাসের প্রতি মনযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে এখন শিক্ষার্থীরা আনন্দের সাথে শ্রেণীকক্ষে আসে এবং পাঠ গ্রহণ করে।  আমার বিশ্বাস এ প্রজন্মের যেসব শিক্ষার্থী স্কুলে পড়ার সুযোগ পাচ্ছে তারা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবে।’

সাগরনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রভাসিনী মোহন্ত বলেন, ‘আমাদের সহকারি শিক্ষিকা মাছুমা আক্তার মুক্তা’র শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিকতার এমন প্রশংসনীয় কার্যক্রমে আমরাও প্রশংসিত হয়েছি। আগে যেসব শিক্ষার্থীরা নিয়মিত স্কুলে আসতে চাইতো না, তারাও এখন নিয়মিত স্কুলে আসছে।’

এবিষয়ে জুড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মন্তোষ কুমার দেবনাথ বলেন- ‘এটা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য খুবই সুখকর বিষয়। আমরা খুবই আনন্দিত হয়ে বলছি যে, প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করার জন্য এমন কার্যক্রম যেন ছড়িয়ে পড়ে। এমন সৃজনশীল কার্যক্রম দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরো উন্নত ও আকর্ষণীয় করবে।’


সাইফুল ইসলাম সুমন: প্রতিবেশগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বাংলাদেশেও দুটি রামসার এলাকা রয়েছে। একটি সুন্দরবন। অপরটি টাঙ্গুয়ার হাওর। ২০০০ সালে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরকে রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর থেকেই হাকালুকি হাওরকে রামসার সাইটের অন্তুর্ভুক্ত করার দাবি উঠে । মৎস্য অভয়াশ্রম, পাখির অভয়াশ্রম, উদ্ভিদ ও জলাভূমির আধার হাকালুকি হাওর রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত হলে প্রাণ-প্রকৃতির সংরক্ষণ হবে বলে মতামত দেন সংশ্লিষ্টরা। এবার এশিয়ার বৃহত্তম মৌলভীবাজার এবং সিলেটের কিছু অংশ নিয়ে অবস্থিত হাকালুকি হাওরকে রামসার সাইট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। 

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে হাকালুকি হাওরে পর্যটন বিকাশ ও উন্নয়নের পরিকল্পনা গ্রহণে সার্বিক বিষয় পরিদর্শনের জন্য হাকালুকি হাওর ভ্রমন করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন, জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক, সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম রেজা, শ্রীকান্ত দাস, সালেহ উদ্দিন আহমদ, শাহাব উদ্দিন লেমন প্রমুখ।


সাইফুল ইসলাম সুমন: ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরের লোকসংখ্যা অনুযায়ী যে পরিমাণ গাছ থাকার কথা, তার সিকি ভাগের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায় না। পরিবেশ বিপর্যয় রোধে পৃথিবীর দেশে দেশে নগর পরিকল্পনায় যোগ হচ্ছে সবুজ প্রকৃতির। ছাদ কৃষি পরিবেশের ভারসাম্যতা রক্ষার পাশাপাশি সবুজ অর্থনীতিতে নতুন সংযোজন হিসেবে আশা জাগিয়েছে। ছাদ কৃষির মাধ্যমে বাগান বিস্তারে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। দালান-কোঠার সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি তাপমাত্রা হ্রাস করা সম্ভব হচ্ছে। ছাদের সবুজ স্তর বিভিন্ন ট্রান্সমিটিং স্টেশন থেকে নিঃসরিত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভকে উল্লেখযোগ্য মাত্রায় প্রতিহত করছে। মোট কথা ছাদ কৃষি বহুমাত্রিক সুবিধা ও সম্ভাবনার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন- একটা সবজি গাছ তিন মাসের জন্য হলেও বায়ু থেকে তিনজনের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন রিসাইক্লিন করতে পারে। তাহলে তিন মাস কালের সবজি কিংবা বহুবর্ষী ফলের গাছ লাগিয়ে বায়ুর পরিশুদ্ধতা রক্ষা করা সম্ভব হলে আমাদের উচিত ছাদ কৃষিতে মনোনিবেশ করা।

এদিকে গত বুধবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ীতে পূর্বজুড়ী ইউনিয়ন পরিদর্শন শেষে ইউনিয়নের কমপ্লেক্সের ছাদে জুড়ীর প্রথম কৃষি ছাদ বাগানের উদ্বোধন করেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন, জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোঈদ ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিক, সহকারী পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবীর, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু  রন্জন দাস, রন্জিতা শর্মা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন আহমদ, গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন লেমন, জেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি হুমায়ুন রশীদ রাজী প্রমুখ।

জুড়ী টাইমস সংবাদ: জুড়ীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে পাঁচটি দোকান ও একটি কারখানা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার রাত ৯টায় জুড়ী কামিনীগঞ্জ বাজারস্থ ইমরুল মার্কেটে ঘটেছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত প্রায় ৯টায় পাকা-টিন শেড মার্কেটের ইদ্রিস ফল ভান্ডারের পিছনের ঘরে আগুন দেখা যায়। মুহুর্তেই পুরো মার্কেটে দাউ দাউ করে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। সাথে সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও পথচারীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টায় কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পনের মিনিট পরে বড়লেখা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট যোগ দেয়। ঘন্টা খানেক প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় জুড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন সরদারের নেতৃত্বে জুড়ী থানার সকল পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত ছিল।

মার্কেট মালিক ইমরুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে যাই। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও সঠিক তথ্য পাইনি।  মার্কেটের পিছনে তাঁর মালিকানাধীন বন্ধ থাকা আগর-আতরের কারখানার সরঞ্জাম ও মার্কেটসহ তাঁর প্রায় বিশ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

মার্কেটের ব্যবসায়ী জুড়ীর বৃহৎ ফলের আড়ৎ ইদ্রিস ফল ভান্ডারের প্রায় ৮ লাখ টাকা, জামাল ফার্ণিচারের প্রায় ২ লাখ টাকা, সানরাইজ এস এস এর প্রায় ৩ লাখ টাকা, জুড়ী ইলেক্ট্রনিক্সের প্রায় ৭ লাখ টাকা এবং গিয়াস মিয়ার প্রায় ২৫ হাজার টাকাসহ মোট ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা যায়। কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার বেলায়েত হোসেন জানান, অগ্নিকান্ডের কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে। 

জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করব এবং তদন্ত কমিটি করে অগ্নিকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জুড়ীতে ফায়ার সার্ভিস স্থাপনের সকল প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কাজ যাতে দ্রুত হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
সাইফুল ইসলাম সুমন: সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ বলেছেন, জুড়ীতে কমলাকে ঘিরে একটা পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার অপার এক সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটকদের আগ্রহী করতে এই অঞ্চলের কমলা বাগানগুলোকে সাজানো হবে। কমলাকেন্দ্রিক একটা ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের লালছড়া এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আয়োজনে কমলা চাষের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কমলা চাষীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন। 

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান পিএএ কমলাচাষীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কমলা চাষ এই অঞ্চলের একটি ঐতিহ্য। বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদ রক্ষা করে কমলা চাষিদের সচেতন হয়ে চাষাবাদ করতে হবে। কমলা চাষের সকল সমস্যা ও সমাধানের জন্য আজকের এই মতবিনিময় সভা। শুধু ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে কমলাচাষিদের আর্থিক সহযোগিতা করা হবে। কমলা বাগানের পানি ও যাতায়াত ব্যবস্থার সমস্যা অচিরেই সমাধান করা হবে। এই কমলাকেই কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে একটি পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা হবে। যদি কমলাকে নিয়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ সঠিকভাবে ঘটানো যায় তবে পর্যটক ঠেকানো যাবে না। 

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন এর সভাপতিত্বে ও জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম চন্দ্র বনিকের পরিচালনায় মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোদেজা খাতুন, জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূসরাত লায়লা নীরা, সহকারী পুলিশ সুপার মো: হুমায়ুন কবির, জুড়ী থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন, গোয়ালবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন লেমন, জুড়ী রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, কমলা চাষী বাবুল মিয়া, মোর্শেদ মিয়া প্রমুখ। 

মতবিনিময় সভায় কমলা চাষিরা তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, এবারকার কমলা ফলনে আমরা লাভবান হচ্ছি। তবে কমলায় অনেক সময় পোঁকায় আক্রান্ত হয়। তখন কিছু কমলা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া এই বাগানে কমলার বাইরেও আদালেবু, বাতাবি লেবু, মাল্টা, লেবুও সম্ভাবনাময় ফল রয়েছে। বাগান এখনো সঠিকভাবে সৌন্দর্য্য করতে পারিনি। বনভূমি থেকে সরকার যদি বাগান করার জন্য জমি লিজ দেয় তাহলে আমরা সুন্দরভাবে বাগান করতে পারবো। আমাদের জমির কোনো কাগজাদি নাই তাই ব্যাংক থেকে কোন ঋণ নিতে পারছি না। পানির ও রাস্তার সমস্যা রয়েছে বেশি। বছরে এই জুড়ী অঞ্চল থেকে ৩-৪ কোটি টাকার কমলাসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করা হয়। দেশের বিভিন্নপ্রান্তে কমলা বাজারজাত করা হচ্ছে এবং আমরা জীবিকা নির্বাহ করছি।